क्षेत्रीय

Blog single photo

লকডাউন আমায় যেন প্রকৃতির আরো কাছাকাছি এনে দিয়েছে : প্রসূন মুখোপাধ্যায়

05/04/2020

    অশোক সেনগুপ্ত 
কলকাতা, ৫ এপ্রিল (হি. স.): এমনিতেই আমি আগের মত বাইরে বার হতাম না। প্রয়োজনও হয় না। লকডাউন আমার পায়ে যেন আরও বেশি করে বেড়ি পরিয়ে দিয়েছে। মন্তব্য কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের। 

 তিনি বলেন, সকালে প্রায় দু'ঘণ্টা বারান্দায় বসে উপভোগ করি এই নিরিবিলি পরিবেশ। চারপাশে সুন্দর প্রকৃতি আর প্রচুর গাছ। কেবল আমার বাড়িতে নয়, সল্টলেকের বিএল ব্লকের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই। আমার বাড়িতে নানা রকম ফুল, পাতাবাহার ছাড়াও কলাগাছ, আমগাছ। এগুলি দেখার জন্য মালি আছে। কিন্তু লকডাউনের জন্য সে একেবারেই আসছে না।আমরাই দেখভাল করছি। আমরা মানে আমি আর আমার স্ত্রী। আগে শিক্ষিকা ছিলেন। পরে আমার বদলির সুবাদে ও-ও দিল্লি চলে আসে। 
২০০৭ সালে সিএবি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এছাড়া তিন বছর ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, টানা আট বছর আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক, এনভারমেন্ট এন্ড ওয়াইল্ডলাইফ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হন তিনি। কলকাতার পুলিশ কমিশনার হন ২০০৪ এর ৩০ নভেম্বর। তারপর রিজওয়ানুর সেই বিতর্কিত ও বিখ্যাত ঘটনার পর শহর যখন উত্তাল। ২০০৭ সালের ১৭ ই অক্টোবর রাজ্য পুলিশের এডিজি পদে বদলি হন তিনি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সংবাদের শিরোনামে এসেছেন তিনি। পেয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এখন অবসর জীবন কাটাচ্ছেন সল্টলেকের বাড়িতে। লকডাউনে বারান্দায় বসে প্রকৃতি উপভোগ, গাছে জল দেওয়া, টিভি দেখা— এসবের ফাঁকে ফাঁকে ইংরেজি সিনেমা দেখা এবং বই পড়া। তিনি জানালেন এমনিতে দু - তিনজন কেউ না কেউ বাড়িতে আসেন প্রতিদিন। লকডাউনে তাঁরা আসছেন না। তাই পুরো সময়টাই আমার। জেমস ক্ল্যাভেলের 'শোগুন' পড়ছি। জাপানের সামুরাইদের অনেক আপাত অজানা কথা, ফ্রেডরিক ফরসাইথের ছোটগল্পের সংকলন 'দি ভেটারেন' অসাধারণ লাগছে। এই সংকলনের এক-আধটা মনে রাখার মতন গল্পের সংক্ষিপ্তসার এই প্রতিবেদককে জানিয়ে বললেন, “আমি ক্যালকাটা ক্লাবের সদস্য। সেখানকার গ্রন্থাগার থেকে মাঝে মাঝে বই নিয়ে আসি। বেশ কিছুদিন ওখানে যাওয়া হয়নি। খুব ভাল হত লকডাউনের কথা ভেবে যদি কিছু ভাল বই ওখান থেকে নিয়ে আসতে পারতাম।
 ঘনিষ্ঠদের কারও জন্য চিন্তা হয় না? আপনি যখন ডেপুটি কমিশনার ছিলেন, লালবাজারে প্রতিদিন খবর সংগ্রহ করতে যেতাম।নানা কথা হত। আপনার দুই ছেলে ছোট ছিল স্কুলে পড়ত ওদের কথা বলতেন। ওদের কথা ভাবছেন না? প্রাক্তন পুলিশকর্তার জবাব ', “অবশ্যই। আমার বড় ছেলে শিবাজী টরন্টোতে থাকে। ওখানকার অধ্যাপক। ছোট ছেলে পলিটিক্যাল সাইন্স নিয়ে পড়েছে, এমবিএ করেছে মাসকমে। ভালো চাকরি করত। সব ছেড়ে দিয়ে এখন পুরোদস্তুর রাজনীতি করছে। এখন ব্যাঙ্গালোরুতে ওদের সঙ্গে ফোনে কথা হয় মাঝে মাঝে। ওরাও আমাদের খোঁজ করে। কী মনে হচ্ছে করোনার প্রভাব নিয়ে? প্রাক্তন পুলিশকর্তার কথায়, “চিন্তা তো হচ্ছেই! এটা তো বাড়ার মুখে! এখন এটা সমাজে ছড়িয়ে না পড়ে! ঘরে থেকেও তো বাঁচা যাচ্ছেনা! এই তো আমার এক সহকর্মী-বন্ধু আইপিএস অফিসারের স্ত্রীর করাোনা ধরা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে আছে ।আর সেই বন্ধু কোয়ারান্টিনে। কার যে কী হবে, বোঝা যাচ্ছে না। হিন্দুস্থান সমাচার /


 
Top