क्षेत्रीय

Blog single photo

করোনা নিয়ে রাজ্য প্রশাসন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে, দাবি জয়প্রকাশের

04/04/2020

শুভঙ্কর দাস 
কলকাতা, ৪ এপ্রিল (হি. স.): করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ বিজেপির। মারণ এই ব্যাধি রোধে রাজ্য প্রশাসন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার।সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী করোনায় রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কার্যত রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শনিবার জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, ভৌগলিক অবস্থানগত দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম।তিনটি দেশের সীমানা যেমন বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এ রাজ্যের সঙ্গে রয়েছে। পাশাপশি বিহার, ঝাড়খন্ড, ওডিশা, অসম, সিকিমের মতো রাজ্যগুলির সীমানাও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে রয়েছে।ফলে করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের উচিত ছিল আগে থেকেই রূপরেখা তৈরি করা। এর জন্য রাজ্যের ৫০ হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলে কাজ করে যাওয়া উচিত ছিল রাজ্য সরকারের। বিদেশ এবং ভিন রাজ্য থেকে এসে কারা কোনও গ্রামে রয়েছে তা লক্ষ্য করে বের করার কাজ পঞ্চায়েত গুলি আরো ভাল করে করতে পারত। এমন কি গ্রামগুলিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও কোয়ারেন্টাইন গড়ার কাজে লাগানো যেতে পারত পঞ্চায়েতগুলিকে। ২৪ মার্চ মধ্যরাত থেকে যখন দেশজুড়ে লকডাউন কার্যকর হলো তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই রূপরেখা তৈরি করতে পারত রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু তা হয়নি।

 গত ২৩ মার্চ মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠককে রাজ্য সরকারের লোক দেখানো পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে বিরোধী নেতাদের পরামর্শ গুরুত্ব দেয়নি  সরকার পক্ষ। তার দাবি সেই বৈঠকেই পঞ্চায়েত গুলিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সরকার তা কর্ণপাত করেনি। করোনা মোকাবিলা পুরোপুরি ব্যর্থ নবান্ন।তার কথায় করোনা রোগীদের ধরতে রাজ্য প্রশাসন পুলিশকে নিয়ে চলতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজ্যে থানার সংখ্যা ৫০০- র কম ।তাই শুধুমাত্র পুলিশকে দিয়ে এ কাজ সম্ভবপর নয়।পাশাপাশি পুলিশকে আরো অনেক কিছু দেখতে হয়।  তিনি আরও বলেন, করোনা রোগীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের যে নীতি নিয়ে চলছে তা সাংঘাতিক।করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও বলা হচ্ছে অন্য কারণে মারা গিয়েছে। ফলে মৃতদেহের উপর কান্নাকাটি করতে গিয়ে আত্মীয় স্বজনরা মৃতদেহ স্পর্শ করছে। এতে সংক্রমণ বাড়তে পারে। সম্প্রতি হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে এক করোনা রোগীকে যে ভাবে জেনারেল ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা করা হয়েছিল তাও বিপদজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। জয়প্রকাশ বাবুর মতে, চিকিৎসা পরিকাঠামো সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসন বারেবারে একজনের উপর নির্ভরশীল থাকছেন। সেই একজন হলে মুখ্যমন্ত্রী। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত দিনের মতন দেরি হচ্ছে। কিন্তু করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রয়োজন প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটি ও দফতরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া। কলকাতা মেডিকেল কলেজে এখনো কেন করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হলো না। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে এই বর্ষীয়ান নেতার দাবি, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে রাজ্য প্রশাসন। হিন্দুস্তান সমাচার 


 
Top