राज्य

Blog single photo

আমি ঘরের ও বাইরের-দুই শত্রুকেই দেখেছি, চিনেছি : দীপ্সিতা ধর

08/04/2021

অশোক সেনগুপ্ত

কলকাতা, ৮ এপ্রিল (হি.স.): বালি কেন্দ্রের বাম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর। তাঁর ‘ভোট গান’-এ কণ্ঠ দিয়েছেন সম্ভাবনাময় শিল্পী শোভন গঙ্গোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই সেই গান যথেষ্ট জনপ্রিয়। তিনিও কি তবে রাজনীতিতে পা রাখলেন? শোভনের স্পষ্ট জবাব, ‘‘অকারণে একে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অনেকেই জানেন না, দীপ্সিতা আমার ছোট মাসির মেয়ে। আমরা এক পাড়ার বাসিন্দা। বড় হয়েছি এক সঙ্গে।’’ তাঁর দাবি, মাসি-মেসো, তাঁরা ২ ভাই-বোন, শোভনের মা-বাবা এক সঙ্গে গানের মহড়া দিতেন একটা সময়। অযথা তাঁর গায়ে যাতে রাজনৈতিক রং না লাগে তার জন্যেই এই পরিচয় তিনি সামনে আনেননি কখনও। দীপ্সিতাও গান নিয়ে আলাদা করে তাই মুখ খোলেননি। ‘‘বোন যদি অনুরোধ জানায় আমি রাখব না? আমি কিন্তু বোনের অনুরোধ রাখতে গানটা গেয়েছি। দলের নয়’’ যুক্তি শোভনের।
এই মুহূর্তে অনেকের মুখে মুখে ঘুরছে দীপ্সিতার কথা। ছেলেবেলার কথা জানতে চাওয়ায় ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে ২৮ বছরের নবীন প্রার্থী দীপ্সিতা জানান, জন্ম বালিতেই। সেই অর্থে আক্ষরিক অর্থে ভূমিকন্যা। দাদু ১৫ বছর ডোমজুড়ের বিধায়ক ছিলেন। বাবা কাজ করতেন শালিমার ওয়ার্কসে। ‘সিটু’-র সক্রিয় সদস্য ছিলেন। জেঠুও আগমার্কা বামপন্থী ছিলেন। মা দীপিকা ঠাকুর চক্রবর্তী দু’বার বালি নিশ্চিন্দাগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। এখনও দলের সঙ্গে যুক্ত। একমাত্র সন্তান। স্কুল ছিল বালিতেই। 
আপাদমস্তক রাজনীতির মধ্যে বড় হলেও ছেলেবেলায় নাকি একেবারেই রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে ছিল না। প্রথমে ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার। সপ্তম শ্রেনিতে উঠলে শখ হয় নৃত্যশিল্পী হব। আরও পরে ইচ্ছে জাগে অভিনেত্রী হওয়ার। কিন্তু অলক্ষ্যে বসে বুঝি বিধাতা মুচকি হেসেছিলেন। হয়ে গেলেন গবেষক-রাজনীতিক। দীপ্সিতার গবেষণার বিষয় ‘পপুলেশন জিওগ্রাফি স্পেশালাইজিং ইন মাইগ্রেশন‘। এক কথায় বর্তমান পরিচয় কী?  জবাব, ‘সমাজবিজ্ঞানী'। রাজনৈতিক জীবন প্রসঙ্গে দীপ্সিতা জানান, আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু আশুতোষ কলেজ থেকে। সেই সময় থেকে তৃণমূলের অত্যাচার দেখেছি। আমাদের নেতা-কর্মীদের মারধর, অত্যাচার করা হয়েছে। ২০১২-তে সেখানে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসে ছাত্র-সংগঠনের ভোটে হেরে যাই। ২০১৩-তে জেএনইউ'তে গেলান। সেখানে দেখেছি, বিজেপির রূপ। এমএ-র প্রথম বর্ষে কাউন্সিলর পদের নির্বাচনে হেরে যাই। ’১৪-তে সেখানে স্কুল অফ সোস্যাল সায়েন্সের কাউন্সিলর পদে দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোট পেয়ে জিতি। ‘১৫-তে জেএনইউএসইউ-এর ভোটে সহ সভাপতি পদে হেরে যাই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ জানেন না, বিজেপি কত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। আবার বাইরের মানুষজন জানেন না, তৃণমূল কতটা খারাপ হতে পারে। আমি ঘরের ও বাইরের-দুই শত্রুকেই দেখেছি, চিনেছি। মানুষকে সেটাই বোঝাচ্ছি।
এবারের ভোটে তো সিপিএমের তরুণ প্রার্থীরা একটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে? দীপ্সিতার কথায়, “এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এর আগেও শতরূপ ঘোষদের মতো অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন। সারা দেশ তথা এ রাজ্যে যুবক-যুবতীরাই আসল স্তম্ভ, তাঁরাই সবচেয়ে বড় সংখ্যক ভোটার। তাঁদের কথা বলতে পারব আমরা। কাজের কথা, খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের কথা আমরাই বলি, আমরাই বলতে পারব।” ১৯৫১ সাল থেকে ’৬৭ পর্যন্ত ৪ বার, এর পর ১৯৭২ ও ’৮৭— অর্থাৎ মোট ৬ বার বালি বিধানসভা কেন্দ্রে জেতে কংগ্রেস। ’৬৯, ’৭১ এবং ’৭৭ থেকে ২০০৬, অর্থাৎ মোট ৮ বার জেতে সিপিএম। ২০১১-তে দাপুটে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা সুলতান সিং জেতেন তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে। তাঁর ঝুলিতে পড়ে ৫০.৪২ শতাংশ ভোট। সিপিএম পায় ৪৪.১১ শতাংশ। ‘১৬-র ভোটে তৃণমূলের বৈশালি ডালমিয়া পান ৪৬.৯৭ শতাংশ। সিপিএম ৩৩.২৫ শতাংশ। এবারের ভোটে বৈশালি দল বদল করে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন। তৃণমূল প্রার্থী দলে আনকোরা নতুন ডাঃ রাণা চ্যাটার্জি। 

এই অবস্থায় বালি এবার কতটা নিরাপদ আসন? দীপ্সিতার কথায়, বালিতে সকলে আমাকে চেনেন। আমার পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। দাদু দু'বারের বাম বিধায়ক। সকলেই জানতে চাইছেন, আমার পরিবারের কথা। সকলে ডাকছেন। এতে আমার দায়িত্ব বাড়ছে। তবে, এক্ষেত্রে বলতে চাই, যে সংগঠনের জোর আমাদের ভেঙে গিয়েছিল তৃণমূলের হার্মাদদের হাতে, তা আবার গড়ে উঠেছে। সেটাই আমাদের শক্তি।" ফলাফল কী হবে বলে মনে হচ্ছে? তাঁর জবাব, “ভোট নির্বিঘ্নে হলে আমাদের ফল ভালো হবেই। মানুষ এখন বুঝতে পারছে। ৩৪ বছরে আমাদের অনেক ভুলচুক হয়েছিল। তবে, সেটা যে তৃণমূল-বিজেপির সঙ্গে তুলনীয় নয়, তা এখন বুঝতে পারছেন সকলেই।" বালির ভোট চতুর্থ পর্যায়ে, ১০ এপ্রিল। 

হিন্দুস্থান সমাচার।


 
Top