क्षेत्रीय

Blog single photo

বিধানসভা অধিবেশনে বিরোধীদের একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

14/02/2020

কলকাতা, ১৪ ফেব্রুয়ারি (হি স)। কংগ্রেস সিপিএম-এর ডান হাত।  সে কারণেই দিল্লিতে গোল্লা পেয়েছে। এভাবেই শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনে বিরোধীদের একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নাম করে ভাঙচুর করেছে বছরে দুটো করে বনধ করেছে সিপিএম। ওদের একই চক্রান্ত, একই হতাশা। হতাশা থেকেই রাজনৈতিক দূষণ। 

জলঙ্গিতে পুলিশের গুলি প্রসঙ্গে ফিরোদীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সরস্বতী পুজোর দিন কেন ওরা (সিপিএম) বনধ করেছিলেন? সাম্প্রদায়িক বিভেদের পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, কংগ্রেস সিপিএম-এর ডান হাত।  তাইতো দিল্লিতে গোল্লা পেয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা।  তাঁকে আর আমাকে সিঙ্গুরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমি কিছু করিনি। বিধানসভার কোনও জিনিসে আমি হাত দিইনি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোজ সুজন চক্রবর্তী প্রমাণ করুন, না হলে প্রত্যাহার করুন। বিরোধীরা বাংলায় গণতান্ত্রের কন্ঠরোধের অভিযোগ তুলছে। কখনও দিল্লিতে, কখনও রাজ্যপালের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছে এ রাজ্যের বিজেপি। এ ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ মুখ্যমন্ত্রী অধিবেশনে বলেন, “যত সভা-সমাবেশ,পদযাত্রা বাংলায় হয়, আর কোথাও হয় না। বাংলায় গণতন্ত্র নেই যাঁরা বলছেন তারা নিজেদের রাজ্যে গিয়ে দেখুন।“ 

বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার সঙ্গে তৃণমূল এবং ওই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও এ দিন ঝেড়ে ফেলতে চান মুখ্যমন্ত্রী।  তিনি বলেন, “আপনারা জানেন কারা সারদা নিয়ে এসেছিলেন। ” মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বামেরা কোনও কাজ ৩৪ বছরে করেনি।  

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচটা চা বাগানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছিলেন (কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী) নির্মলা সীতারামন। কিছু হয়নি। মানুষ বিশ্বাস করে ভোট দিল। কোনও কাজ করেনি। ওই চা বাগানের মধ্যে চারটের লাইসেন্স বাতিল করেছি আমরা। ওই বাগানগুলো অধিগ্রহণ করব আমরা।  ওখানে আবাসন করা হবে।

মমতা বলেন, কেন্দ্রের বঞ্ছনা বাংলা মেনে নেবে না। মুখ বুজে সহ্য করব না। সিএএ, এনআরসি— এ রাজ্যে এ সব করতে দেওয়া হবে না। অবিলম্বে এগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। অন্য রাজ্যে এনপিআর-এর কাজ শুরু হয়েছে। এই মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,আমি ওই কাজ বন্ধ করার অনুরোধ করছি। 

কেন্থ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নামোল্লেখ না করে তাঁর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, নেতারা গুলি করার কথা বললে কর্মীরা কী করবেন? পরে দুঃখ প্রকাশ করে কী হবে? কয়েকজনকে রাস্তায় নামিয়ে বাংলা দখল করতে পারবেন না। অধিবেশনে বিজেপি-র দলনেতা মনোজ টিগ্গার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দলকে বোঝান। এটা বাংলা। বিহার-উত্তরপ্রদেশ নয়। না হলে নিজেদের সামলাতে পারবেন না।“

তৃণমূলের ভোট বিজেপি-র বাক্সে গিয়েছে বলে বিধানসভার বাম পরিষদীয় নেতা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুর, দুই মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, গৌতম দেবের এলাকার কথাও বলেন সুজনবাবু। মুখ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, “যাদবপুরে সিপিএম কেন ১৬ হাজার ভোটে হারল? আগে নিজের চরকায় তেল দেবেন। তারপর অন্যের চরকায় তেল দেবেন।“ কংগ্রেসকে এক হাত নিয়ে বলেন, আপনারা যত সিপিএমের কাছাকাছি আসবেন, ততই ভাইবোন হয়ে যাবেন। যেখানে আঞ্চলিক দল দূর্বল, সেখানে কংগ্রেস ভোট পাচ্ছে। যেখানে আঞ্চলিক দল শক্তিশালী, সেখানে কংগ্রেস কিছু করতে পারবে না।“

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐশি ঘোষকে ঢুকতে না দেওয়ার ব্যাপারে সিপিএম-এর তরফে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হাজরার কথা আক্রমণ করা হয়েছিল আমাকে। মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছি। হতাশায় ভুগছে ওরা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন আমায় যেতে দেওয়া হয়নি। এখন ভুলে গিয়েছেন? আমরা এসব সমর্থন করি না। আমরা এরকম কাজ করি না। যা করেছেন সব মনে আছে।  

গতকাল ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ‘মর্যাদা’ না পাওয়ায় তৃণমূল ওই অনুষ্ঠান বয়কট করে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীও পরোক্ষে এই প্রকল্পে কেন্দ্রের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, “বাংলায় প্রচুর রেলের প্রকল্প করে দিয়েছি। কত কষ্ট করে করেছি। চোখের জল পর্যন্ত পড়েছে।  ছোট্ট একটা রুট চালু হল। আজ সব কিছু করে দেওয়ার পর উদ্বোধনের আগে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করল না। ছবির দরকার ছিল না। আমন্ত্রণ তো জানাতে পারত। খুব দুঃখ লাগে।“

ধর্মান্তকরণ প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ অধিবেশনে তিনি বলেন, ধর্মান্তকরণের চেষ্টা করবেন না। মালদহ, আলিপুরদুয়ারে এরকম চেষ্টা হয়েছে।  ইতিহাস তাহলে কোনও দিন ক্ষমা করবে না। এ রাজ্যে এসব বরদাস্ত করা হবে না। 

মুখ্যমন্ত্রী এদিন রাজ্যের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে বলেন, সামাজিক সুরক্ষা আমরা অনেক কাজ করেছি। অন্য রাজ্যে গিয়ে বিরোধীরা দেখে আসুন। বানতলায় পাঁচ লক্ষ লোকের কাজ হবে। চা-বাগানগুলিতে শান্তি রয়েছে। জঙ্গলমহল ভালোভাবে আছে। বাম আমলের ঋণ আমরা শোধ করছি।  ৯ বছরে তিন লক্ষ কোটি টাকার ঋণ শোধ করেছি। অন্য রাজ্য যা ইচ্ছে তাই করে। এখানে তা হয়না। বাজেট-অদিবেশনে রাজ্যপালের উদ্বোধনী ভাষণের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, রাজ্যপাল খুব ভালো ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর ভাষণকে আমি সমর্থন করছি। 
হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক


 
Top