क्षेत्रीय

Blog single photo

নির্দেশিকাই সার, অধিকাংশ বড় মিষ্টির দোকান চার দিন ধরে বন্ধ

04/04/2020

অশোক সেনগুপ্ত

কলকাতা, ৪ এপ্রিল (হি.স.): মিষ্টির দোকান খোলা রাখার সরকারি নির্দেশিকাই সার। কলকাতার অধিকাংশ বড় মিষ্টির দোকান চার দিন ধরে বন্ধ। লকডাউনে প্রায় নকডাউন রাজ্যের মিষ্টান্নশিল্প। করোনার কামড়ে মিষ্টির দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কটে পড়েছেন দুগ্ধ উৎপাদকদের একটা বড় অংশ। কারণ, তাঁদের অন্যতম প্রধান ক্রেতা মিষ্টির দোকানগুলো। এই সব দোকান বন্ধ থাকায় খাটালে দুধের অপচয় হচ্ছে। প্রচুর দুধ ফেলে দিতে হয়েছে। তা রুখতে রুখতে রাজ্যে মিষ্টির দোকানগুলিকে লকডাউনে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করে নবান্ন।
ঘোষণার দিন বাদে কী অবস্থা? দেখা গেল অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই দোকান খুলতে রাজি হচ্ছেন না শহরের অনেক নামকরা মিষ্টির দোকানের কর্ণধার। একটি প্রসিদ্ধ ব্রান্ডের ১১টি দোকান আছে কলকাতায়। এর মধ্যে কেবল যাদবপুরের দু’টি দোকান। মালিক ৮০ বছরের রবীন্দ্রনাথ পাল পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, তিন দশক ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক। কেন বেশিরভাগ দোকান বন্ধ? এই প্রশ্নের জবাবে ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বলেন, “বেশিরভাগ শ্রমিক বা কারিগরই তো আসতে পারছেন না। মিষ্টি কে তৈরি করবে? মিষ্টি তৈরি না হভে কী করে দোকান খুলে কী করব? দোকানকর্মীরাই বা বাড়ি থেকে যাতায়ত করবেন কী করে?"
রবীন্দ্রবাবু বলেন, “গোটা রাজ্যে মিষ্টির দোকান লক্ষাধিক। ছোট বেশ কিছু দোকান, বিশেষত গ্রামের দোকানগুলো অনেক জায়গায় খোলা। সে সব জায়গায় কারিগর-বিক্রেতা সবাই পরিবারের সদস্য। বাড়ির একাংশে বা পাশে দোকান, কারখানা। দূর থেকে আসার ব্যাপার নেই।” উত্তর কলকাতার সিমলেপাড়ার নামজাদা সন্দেশ-স্রষ্টার বড় কর্তা প্রতীপ নন্দী বলেন, ‘‘কারিগরেরাই তো দেশে, মিষ্টি বানাবে কে! শুনেছি, নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ হলেও বেশির ভাগেরই প্রথম দিকে কোনও লক্ষণ বোঝা যায় না। তাই এই সঙ্কটে তাঁদের ফিরিয়ে এনে এখনই সন্দেশ তৈরি করাটা ঝুঁকির হয়ে যাবে।’’
এক নামে চেনা অপর একটি বিখ্যাত সংস্থার কলকাতায় দোকান আছে ১৪টি। এর প্রায় অর্ধেকের মালিক পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি ৮০ বছরের রামজী চৌরাশিয়া। ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বলেন, “আমাদের দোকানগুলো বন্ধ। এর একাধিক কারণ আছে। প্রথমত কারিগর-কর্মীরা আসতে পারছেন না। দ্বিতীয়ত, আমাদের মিষ্টি তৈরি হয় মানিকতলা অঞ্চলে। দোকানগুলো ছড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায়। লকডাউনে কারখানায় তৈরি মিষ্টি দোকানে পাঠাতে অসুবিধা হবে। তৃতীয়ত, দোকানগুলোয় এক মিটার পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। এই দায়িত্ব কে নেবে? চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, বিশেষজ্ঞরা সকলেই বলছেন বিশেষ জরুরি কাজ না থাকলে ঘরের বাইরে কেউ যাবেন না। জীবনে এই প্রথম দেখলাম মিষ্টান্নকে অত্যাবশ্যক সামগ্রির আওতায় ফেলা হল।"
বাস্তবে মিষ্টি বিক্রির সময়ে কিছু কিছু দোকানে কর্মচারীদের মুখে-হাতে মাস্ক, গ্লাভস দেখা গেলেও গাদাগাদির ভিয়েন ঘরে সামাজিক দূরত্বের সতর্কতা বিধি কত দূর মেনে চলা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। তাই নামী মিষ্টি-স্রষ্টা ধীমান দাশও লকডাউনের শহরে ধর্মতলায় বড় বিপণি খুলবেন না বলে জানিয়ে বলছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু পাড়ার ছোট মিষ্টির দোকানগুলিই খুলতে বলেছেন।’’

হিন্দুস্থান সমাচার।


 
Top