राष्ट्रीय

Blog single photo

স্বামীর কুকীর্তির বিরুদ্ধে কবে সরব হবে ভারতীয় নারী

03/06/2020

রবীন্দ্র কিশোর সিনহা
নয়াদিল্লি, ৩ জুন (হি. স.):  আমেরিকাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকারী পুলিশ আধিকারিক ডেরেক চৌভিনের স্ত্রী কেলি তাকে বিবাহবিচ্ছেদ দিতে চলেছেন। কেলি রাগান্বিত এবং একই সঙ্গে লজ্জিত। তিনি ধূর্ত স্বামীর স্ত্রী হতে চান না, যে কিনা এক কৃষ্ণাঙ্গকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ভেবে দেখুন কত মহান বিবেকের অধিকারী কেলি। এখন তার তুলনা ভারতের এনকাউন্টার প্রিয় পুলিশ, দুর্নীতিবাজ সরকারী বাবু, কর না ব্যবসায়ী এবং কয়েকটি টাকার জন্য জন্য শত্রুপক্ষের হাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নথি তুলে দেওয়াদের স্ত্রীয়ের সঙ্গে। দেশ ও সমাজের কোনও শত্রুর স্ত্রী তাকে বিবাহবিচ্ছেদ দিয়েছে, এমন দৃষ্টান্তের কথা কি মনে পড়ছে? সকলেই জানেন যে শীর্ষস্থানীয় কিছু আধিকারিক শত্রু দেশগুলিকে দেশের সুরক্ষা সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে আসছিলেন। মেজর জেনারেল ফ্রাঙ্ক লারকিনস, তার ভাই এয়ার মার্শাল কেনিনিথ লারকিনস এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাসবীর সিং যখন দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা দলিল সরবরাহ করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। সেই সকল ঘটনা দেশ কি ভুলে গেছে? সেই চাঞ্চল্যকর মামলার নাম ছিল লারকিনস গুপ্তচর কেলেঙ্কারী। এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছিল। তাদের সমস্ত স্ত্রী বা পরিবারের অবশিষ্ট আত্মীয়রা কি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল? সম্ভবত না। সম্ভবত এদের আত্মা মারা গিয়েছিল। যদি দেখা যায় তবে তারাও তাদের স্বামীর এই কুকীর্তির একটি অংশ ছিল। তারা কি দেখছিলেন না যে তাদের বাড়িতে এত অর্থের ঐশ্বর্য কোথা থেকে আসছিল? 

ডেরেক চৌভিনের স্ত্রী কেলির নৈতিকতা আমেরিকান সমাজের নৈতিকতা বলে আপনি মনে করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন? এটি আপনার পছন্দ। তবে তাঁর ব্যক্তিগত বিবেকবোধকে মেনে নিতে হবে। যদি আমার এবং আপনার মধ্যে মানবতা বোধ থাকে তবে অন্তত আপনি সেই মহিলাকে সালাম জানাতে পারেন।সেনা গুপ্তচরবৃত্তি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের বিভাগে চলে আসে।এই অপরাধে জড়িতদের সঙ্গে নমনীয় আচরণ করা একেবারে কাঙ্কিত নয়। তারা কঠোরতম শাস্তির যোগ্য। তবে তারা তাদের বাড়ি ও সমাজ থেকে কোনও দংশন পায় না। এটি একটি বোধগম্য জিনিস। ওই ব্যক্তি সর্বদা নিজের স্ত্রীর জন্য আদর্শ হিসেবে রয়ে যান।
 এবার ইয়েস ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের সর্বশেষতম মামলাটি নিন। ইয়েস ব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে ধ্বংস করে ছেড়েছে রানা কাপুর।তাঁর স্ত্রী এবং কন্যারাও লুট করার মিশনে সঙ্গ দিয়েছিল। তার বিবেকবোধ কি ঝাঁকুনি দেয়নি? যে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।তবে তিনি এই সব করা ঠিক মনে করেননি, কারণ বিপুল কালো টাকা তার চোখে ঠুলি পড়িয়ে দিয়েছিল। তার নৈতিকতা ও বিবেক ধূলায় মিশে গিয়েছিল। রানা কাপুরের মতো উপাদান আমরা অনেক ব্যাংকে দেখেছি। কিছু সময় আগে, প্রতিমাসে সরকারী সেক্টরের ব্যাংকগুলির কয়েক ডজন কর্মীকে বরখাস্ত করার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কারণ এরা সমস্ত দুর্নীতিমূলক আচরণের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে কেউ কি মনে করতে পারেন যে একজন দুর্নীতিবাজ অফিসারের স্ত্রী তার স্বামীকে দেশ বা সমাজের জন্য কলঙ্কিত বলে মনে করে তাকে বিবাহবিচ্ছেদ দিয়েছেন? আপনি এর উদাহরণ পাবেন না, কারণ; এত বড় পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস কারও নেই।
বিষয়টি নিয়ে আপনি যদি কেবল কয়েকটি বিভাগে সীমাবদ্ধ না থাকেন তবে ভাল হবে। সকলেই জানেন যে ক্রিকেটে ফিক্সিং য়ের অভিযোগ অনেক বড় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল এবং প্রমাণিতও হয়েছিল। তবে কি কোনও ক্রিকেটারের স্ত্রী বা পরিবারের কেউ তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল? এটি আমাদের সমাজেরও মনোভাব। মহাম্মদ আজহারউদ্দিন, অজয় ​​জাদেজা, অজয় ​​শর্মার মত ক্রিকেটাররা ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল। এখন, সেই ক্রিকেটারদের অনেকেই নিয়মিত টিভিতে বিশেষজ্ঞ হিসাবে তাদের মতামত প্রকাশ করছেন। রাজনীতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধতার বক্তৃতার পিছনে নেতারা কারা? এরা তাদের বিগরে যাওয়া বাচ্চাদের সুরক্ষা দিতে পিছুপা হয় না।এর অর্থ হল যে তাদের বড় বড় কথাগুলি কেবল প্রতিবেশী এবং জনসাধারণের জন্য। আপনার কি মনে আছে যে কোনও নেতা তার অসামাজিক পুত্র বা কন্যার বিরুদ্ধে কখনও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন? এমনকি ইন্দিরা গান্ধী কখনও সঞ্জয় গান্ধীকে থামায়নি। ফলে তাদের বিচ্যুত ঘটেছে। এটা ঠিক যে সুনীল দত্তও মুম্বইয়ের দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে তার ছেলে সঞ্জয় দত্তকে বাঁচানোর জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা এবং আপস করেছিলেন।কয়েক বছর আগে লখনউতে একটি সংস্থা অফিসার বিবেক তিওয়ারিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। রাস্তায় একটি পাগল পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। এরপরে যা ঘটেছিল তাতে আমরা লজ্জিত হতে পারি। তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর জাতির লোকেরা দৃঢ় ভাবে তিওয়ারির হত্যাকারীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। কিছু লোক বিবেক তিওয়ারির মৃত্যুকে কেবল ব্রাহ্মণের হত্যা হিসাবে দেখেছে।এখন বলুন আমাদের সমাজের বিবেক কখন জাগ্রত হবে? দেখুন, কেলি হওয়া সহজ নয়, তবে সমাজ কেবল তখনই পরিষ্কার প্রকাশ পাবে যখন লোকেরা এখানে নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করা বন্ধ করে দেবে। আমরা অনেক কিছুই কথা বলি, কিন্তু যখন আমরা কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই, তখন আমরা পিছিয়ে পড়তে শুরু করি। মহাত্মা গান্ধীর বড় ছেলে হরিলাল গান্ধী পথ হারিয়েছেন। সে নেশা করাও শুরু করে দিয়েছিল। তখন গান্ধীজি তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তবে বাবা ও ছেলের মাঝে মাঝে মাঝে দেখা হত। তবে গান্ধীজির মতো ব্যক্তিত্বের জন্ম কয়েক শতাব্দীতে একবার। সাধারণ মানুষ বা আজকের রাজনীতির খেলোয়াড়দের সাথে তাদের তুলনা করাটা অর্থহীন হবে। আসলে কথাটি হল আমাদের সমাজের জঞ্জাল সাফ তখনই হবে যখন আমরা ভুল কাজের জন্য প্রিয়জনদের শাস্তি দেব। কেলি এটাই করেছেন।কেলি একজন অসাধারণ মহিলা হওয়ার পরিচয় দিয়েছেন।ভারতীয় স্ত্রীর চিত্র দেবী হিসাবে অনুমান করা হয়। এটিও ঠিক আছে। সর্বোপরি, তিনি স্বামীকেও প্রতিটি দিকে সমর্থন করেন। তবে একই স্ত্রীকে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের ঘাতক ডেরেক চৌভিনের স্ত্রী কেলির আদর্শকেও বিবেচনা করতে হবে। 
(লেখক বরিষ্ঠ সম্পাদক, কলম্নিস্ট ও রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ)


 
Top