क्षेत्रीय

Blog single photo

গত ৪৮ ঘণ্টায় এটিএম জালিয়াতির ২৫টি অভিযোগ

02/12/2019


কলকাতা, ২ ডিসেম্বর (হি.স): ফের কলকাতায় এটিএম জালিয়াতির অভিযোগ । গত ৪৮ ঘণ্টায় একাধিক এটিএম জালিয়াতির অভিযোগ, একাধিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়েছে টাকা । তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ । যাদবপুর এবং কড়েয়া থানা এলাকাতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর ।
গত ৪৮ ঘণ্টায় একের পর এক অভিযোগ আসতে শুরু করেছে যাদবপুর থানায় । রবিবার মোট ১৪টি এটিএম জালিয়াতির অভিযোগ জমা পড়ে । সোমবার অন্তত ১১ জন থানায় এসেছেন অভিযোগ জানাতে । যাদবপুর থানায় অভিযোগ করে বলা হয়েছে, মোবাইলে ঢুকছে টাকা তোলার এসএমএস । ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব হচ্ছে টাকা। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে তাঁদের টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে । অথচ গতবারের মতো এবার কেউ ফোন করে ওটিপি নম্বর দেয়নি বা পাসওয়র্ড জানতে চায়নি ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি নির্দিষ্ট এলাকার বিভিন্ন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যায় । প্রত্যেক গ্রাহকের কাছেই আসে টাকা তোলার এসএমএস । প্রত্যেক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা । জানা যায়, দিল্লির বিভিন্ন এটিএম থেকে টাকা তোলা হয় । প্রতারিত এক গ্রাহক বলেন, রবিবার তার মোবাইলে দুটি এসএমএস আসে । সেখানে লেখা হয় দিল্লি একটি এটিএম থেকে দুবার ১০ হাজার টাকা করে তুলে নেওয়া হয়েছে । ওই এসএমএস পাওয়ার পরই ব্যাঙ্কের হেল্পলাইনে ফোন করেন তিনি । তাঁকে বলা হয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে । পাশাপাশি নিকটবর্তি থানায় গিয়ে একটি এফআইআর করতে পরামর্শ দেওয়া হয় ।
গতমাসেই রাজ্যে ব্যাঙ্ক জালিয়াত চক্র ধরতে তদন্ত শুরু করে লালবাজার । ইতিমধ্যেই জেলার সাইবার সেলকেও সতর্ক করা হয়েছে । প্রাথমিক ভাবে গোয়েন্দাদের দাবি, অপরাধীরা এখন অনেক আধুনিক । গ্রাহকদের লুঠতে ব্যবহার করা হচ্ছে মহিলাদের । ছোট ছোট চক্র ভাগ হয়েই কলকাতা সহ রাজ্যে চক্র চালাচ্ছে ব্যাঙ্ক জালিয়াতরা । ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আন্তঃরাজ্য যোগের তথ্য হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা ।

লালবাজারের পুলিশ কর্তাদের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে লিঙ্ক । পাঠানো হচ্ছে প্রলোভন দেওয়া এসএমএস । ফোনে দেওয়া হচ্ছে এটিএম বন্ধ করার হুমকি । ক্লোন করা হচ্ছে মোবাইল সিম । নেটওয়ার্ক ব্লক করেও তথ্য হাতানো হচ্ছে । তদন্তে নেমে বেশ কিছু নম্বর হাতে পেয়েছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা । গোয়েন্দাদের দাবি, বেশির ভাগ নম্বরই হ্যাক করা হয়েছে । ডিজিট্যাল যুগে অপরাধীরা আরও বেশি আধুনিক বলেই দাবি পুলিশকর্তাদের । মূলত শপিং মল, ই-টিকিট, অনলাইনে কেনাকাটার জেরে গ্রাহকদের তথ্য বেরিয়ে যাচ্ছে বলেই দাবি সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞদের । ব্যাঙ্ক জালিয়াতি প্রতারণাচক্রের তদন্তে নেমে গোয়েন্দাদের দাবি, গ্রাহকদের লুঠতে কলকাতাসহ জেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে মহিলাদের ।
গত বছরও কলকাতায় এটিএম জালিয়াতির একাধিক ঘটনা ঘটেছিল । তদন্তে করে দেখা যায় বিভিন্ন এটিএমে স্কিমার মেশিন বসিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে । যাদবপুরে জালিয়াতির তদন্তে নেমে এলাকার প্রায় সব এটিএম পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে । খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে ওইসব এটিএমে কোনও ডিভিইস বসানো হয়েছে কিনা। পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, যাদবপুরের ওইসব প্রতারিত গ্রাহকরা কারও সঙ্গে এটিএম পিন বা অন্য কোনও তথ্য আদানপ্রদান করেননি । তার পরেও গায়েব হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও অন্ধকারে । এখনে বোঝা যাচ্ছে না এটিএম সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদান না করা সত্বেও কীভাবে টাকা চলে যাচ্ছে । দিল্লি থেকেই কীভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে বিপুল টাকা । সোমবারও অন্তত ১১ জন গ্রাহক যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানিয়ে গিয়েছেন । এনিয়ে তদন্ত শুরু করেছে লালবাজারের ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশন ও সাইবার ফ্রড সেকশন । তদন্তের জন্য একটি টিমও তৈরি করা হয়েছে । সাহায্য নেওয়া হচ্ছে ফরেন্সিক টিমের । তবে এনিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ।

হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক


 
Top