राष्ट्रीय

Blog single photo

পরিবেশ রক্ষায় পথ দেখাবে প্রাচীন ভারত, মত শিক্ষাবিদদের

03/06/2020

শুভঙ্কর দাস
কলকাতা, ৩ জুন (হি. স.): করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে হওয়া লকডাউনের জেরে প্রকৃতি তার আগের সৌন্দর্য ফিরে পেয়েছে। প্রকৃতির মাদকতায় আচ্ছন্ন দেশবাসী। অনেক নাম না জানা পাখির ডাক ও স্বচ্ছ আকাশ এই সংকটের সময় আমাদের মনে ইতিবাচক দিকগুলোকে শক্তিশালী করেছে। এখন তো জলন্ধর শহরে বসে হিমালয়ের শৃঙ্গের চূড়া অব্দি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু লকডাউন অনেকটাই শিথিল হয়ে গিয়েছে। ফলে রাস্তাঘাটে পেট্রোল-ডিজেলের ধোয়া ছড়ানো গাড়ি এবং কলকারখানার চিমনি দিয়ে নির্গত ধোঁয়া আবারও প্রকৃতিকে দূষিত করে তুলছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে আধুনিক সভ্যতা যে জীবনধারণ করতে পারে সেই শিক্ষা প্রাচীন ভারতের জীবনচর্চা থেকে বর্তমান ইন্ডিয়া শিখতে পারে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অচিন্ত্য বিশ্বাস জানিয়েছেন, মহাভারত, ষোড়শ মহাজনপদের যে ভারতের কথা আমরা জানি সেখানে তপবন সংস্কৃতির প্রবণতা বেশি ছিল। বহু যোগী পুরুষ এই তপবনেই নিজেদের জীবন অতিবাহিত করতেন। জীবনের সায়াহ্নে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দিত গৃহস্তেরা। মৌর্য যুগের আগে পর্যন্ত প্রাচীন ভারত অনেক বেশি শান্ত ছিল। সেই ভারত কোনও মানুষের পেশাকে চ্যালেঞ্জ জানায়নি। বেশি গ্রহণ না করে ত্যাগ করার ধারণা সেই যুগে ছিল।প্রকৃতির মধ্যেই মানুষ দেবতাকে খুঁজে পেয়েছিল।ঋকবেদে প্রকৃতির শুদ্ধতার উপর গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়েছিল। খুব বড় হবার চেষ্টা নয়। আবার খুব নিচে নেমে যাওয়াও নয়। এক মধ্যবর্তীস্থানে জীবনধারণ করে আমার আমিতে প্রকৃতির মধ্যে মিলিয়ে দেওয়ার বার্তা সেই যুগ দিয়েছিল। অর্থাৎ মানুষ অতিরিক্ত কষ্ট করবে না আবার মাত্রাতিরিক্ত ভোগ করবে না।একই দর্শন দিয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধ। প্রকৃতির শিক্ষা হচ্ছে গঠন করে নাও। নষ্ট করে নয়।
 মহাকবি কালিদাসের প্রসঙ্গ টেনে বর্ষীয়ান এই শিক্ষাবিদ বলেন, মেঘদূতে বিরহের ঊর্ধ্বে প্রকৃতির নৈসর্গিক যে আনন্দ তা ফুটিয়ে তুলেছিলেন কালিদাস। রবীন্দ্রনাথও সেই প্রশংসা করে গিয়েছেন।অভিজ্ঞান শকুন্তলমের মধ্যে দান্তে স্বর্গ ও মর্ত্যেকে একসঙ্গে দেখেছিলেন। প্রকৃতির সঙ্গে শকুন্তলার যে একাত্মবোধ তা লক্ষ্য করা যায় কালিদাসের লেখায়।
আদিবাসীদের প্রকৃতি প্রেম নিয়ে বলতে গিয়ে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ (মহিলা শাখা) বাংলার অধ্যাপিকা পম্পা হেম্ব্রম জানিয়েছেন, আদিবাসীরা প্রকৃতি কেন্দ্রিক। তাদের জীবন, রমণ, মরণ সবই প্রকৃতির মধ্যে। প্রকৃতির সঙ্গে তাদের ওঠাবসা। প্রকৃতি তাদের উপাসক। প্রকৃতির দানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আনুগত্যের পরম্পরা আদিবাসীদের মধ্যে রয়েছে। তাইতো নতুন ফুল ফুটলে বাহা উৎসব হয়। আদিবাসীদের উৎসবগুলোও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে। শাল গাছ হচ্ছে আদিবাসীদের পবিত্রতম গাছ। এাড়াও আম, কেন্দু, মহুয়া প্রতিটি গাছকে পবিত্র বলে মনে করা হয়। নবজাতক জন্মালে তোয়ালের জায়গায় তাকে আতাং গাছের পাতা দিয়ে জড়িয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে সভ্যতার আগ্রাসনে প্রকৃতিকে নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। ফলে আদিবাসীদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বিপন্ন হয়ে পড়ছে। অর্থনীতি কেন্দ্রিক এই সমাজ ব্যবস্থায় ৯০ শতাংশ প্রকৃতি ধ্বংস করার পেছনে কায়েমি স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু দয়াময়ী বারলার মত প্রকৃতিপ্রেমিক রুখে দাঁড়াচ্ছে। চোরাচালান রুখতে আদিবাসী যুবকেরা নিজ উদ্যোগে বন রক্ষা কমিটি গড়ে তুলেছে। 
উল্লেখ করা যেতে পারে আগামী ৫ জুন আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস। এবারের থিম জৈব বিবিধতা। বৃক্ষরোপণ ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণের কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। কিন্তু এই জৈব বিবিধতার মাঝে ভারসাম্য রেখে বেঁচে থাকার বাণী প্রাচীন ভারত দিয়েছে।ফলে নতুন ভারতকে প্রাচীন থেকে শিখতে হবে। হিন্দুস্থান সমাচার / 


 
Top