क्षेत्रीय

Blog single photo

“চোখ বুজলেই যেতে পারি, আহা সেই ম্যাজিক কার্পেট”— অচিন্ত্য বিশ্বাস

09/10/2019

কলকাতা, ৯ অক্টোবর (হি. স.) :  “দুপুরটা অদ্ভুত সোঁদা গন্ধে ছেয়ে থাকত। মা খুব উত্তেজিত, বলতেন পাক-টা ঠিক হয় কিনা কে জানে। সকালে নারকোল কোরানো, আর অন্যান্য আয়োজন। নাড়ু হতো দুরকম চিনির আর গুড়ের। বাবা পাকা জহুরীর মতো কিনতেন সব। মোয়া মুড়কি অনেক রকম তিলের, চিঁড়ের , খই আর মুড়ির। মুড়কি ছিল।”

ছেলেবেলার বিজয়ার খাবার নিয়ে এ ভাবেই স্মৃতিচারণ করছিলেন শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন উপাচার্য অচিন্ত্য বিশ্বাস। তাঁর কথায়, “নোনতা বলতে কুচো নিমকি আর পাতা নিমকি। খুর্মা হত সিরায় ভিজিয়ে। গুড় বা চিনির। খাও কত খাবে।
'ইচার মুড়া'-র নাম শুনেছেন? গুড়ের নারকোল নাড়ুর বস্তুই। দেখতে চিংড়ির মাথার মতো। দুদিকে দুটো বড়ো এলাচের দানা! ঠিক যেন চোখ। এটা ডুবো গাওয়া ঘি-তে ভাজলেই আচার মুড়া তৈরি।
ছাঁচে তোলা নারকোল বেঁটে অপূর্ব সন্দেশ তৈরি করতেন অনেকে। 

লবঙ্গ লতিকা, বালুসাই আর দরবেশ পেতাম কারো কারো বাড়ি। রস বড়া, মাল পোয়া! উহ্।
'আউলা ঝাউলা'-র নাম শুনেছেন? নিমকির মতোই। তবে মাঝে কেটে কেটে ছড়িয়ে উপর নিচে "বটে" দিন। ভেজে তুলুন। চিনির রসে ভেজান। তৈরি হল 'আউলা ঝাউলা'। গুড় মেঠাই পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব। জিলিপি আর গজাও। কলকাতার এলানো অমৃত্তি নয়, কুড়কুড়ে আর রসময়। চলবে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। 

মিষ্টির দোকান ছিল, 'মিষ্টি মুখ' আর 'স্বপনপুরী' পারতপক্ষে যেতাম। আর নোনতা ঝাল ঘুগনি ? 
'ফিরে পাবো না আর। বাবার কাছে পয়সা পাবার দিন '! কে বললো চোখ বুজলেই যেতে পারি। আহা সেই ম্যাজিক কার্পেট!”হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক


 
Top