राष्ट्रीय

Blog single photo

উত্তরপূর্বে দ্বিতীয়, এবার মিজো ব্যক্তির শরীরে ‘কোভিড ১৯’-এর অস্তিত্ব

25/03/2020

গুয়াহাটি, আইজল (মিজোরাম), ২৫ মার্চ (হি.স.) : উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় ‘কোভিড-১৯’ (নোভেল করোনা ভাইরাস) সংক্রমিত রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। অদৃশ্য ঘাতক করোনা ভাইরাসের অবস্থিতি ধরা পড়েছে মিজোরামের বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব জনৈক ব্যক্তির শরীরে। তাঁকে আইজলে অবস্থিত জোরাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। 

এই খবর বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারিভাবে জানিয়েছেন মিজোরামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর লালথাংলিয়ানা। প্রসঙ্গত মঙ্গলবার মণিপুরের জনৈক ২৩ বছর বয়সি মেডিক্যাল-গবেষক যুবতীর শরীরে করোনা ভাইরাসের প্রমাণ মিলেছিল। তাঁকে ইমফলের দ্যা জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (জেএনআইএমএস)-এ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। মিজোরামের ঘটনার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা দুইয়ে দাঁড়ালো। 

আজ আইজলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর লালথাংলিয়ানা জানান, পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিটি গত ১৬ মার্চ হল্যান্ডের আমস্টারডাম থেকে রাজ্য এসেছেন। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর রক্ত ইত্যাদির দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করে পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। গতকাল রাতেই এই রিপোর্ট রাজ্যে পাঠিয়েছেন গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

মন্ত্রী জানান, প্রায় মাসখানেক আগে স্ত্রী, পুত্র কন্যাদের নিয়ে তিনি কাতার, দোহা, ইস্তানবুল এবং সব শেষে আমস্টারডাম হয়ে মিজোরামের স্বগৃহে এসেছেন। এখানে আসার পর শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে সপরিবারে গত ২২ মার্চ নিজেই চলে আসেন এখানকার জোরাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

এখানে সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সকলকে ভরতি করা হয় আইসোলেশন ওয়ার্ডে। তাঁদের সকলের শারীরিক প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু অভিভাবক ব্যক্তিটির নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে করোনা ভাইরাসের অবস্থিতি ধরা পড়ে। তার পর আরও নিশ্চিত হতে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার জন্য সেম্পল পাঠানো হয় অসমের গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর লালথাংলিয়ানা জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের অন্য সকল সদস্যকে কোয়েরান্টাইনে রাখা হয়েছে। তাছাড়া, এখানে এসে যাঁদের সঙ্গে তাঁরা মিলিত হয়েছেন এবং তিনি যে যে বিমানে করে রাজ্যে এসেছেন তাঁদের খুঁজে বের করতে পুলিশ এবং সাধারণ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৬ জনের সেম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা চলছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. রমেন তালুদকারের সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, খবর সর্বৈব সত্য। মিজোরামের ওই বাসিন্দার শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। প্ৰথমে মিজোরামের জোরাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে প্রয়োজনীয় সেম্পল পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে রেজাল্ট পজিটিভ ধরা পড়লে ২৩ মার্চ রাত প্ৰায় ১১:০০টা নাগাদ আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এখানে আইসিএমআর-এর দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায়ও কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছে, জানান ডা. তালুকদার।

হিন্দুস্থান সমাচার / এসকেডি / অরবিন্দ


 
Top