क्षेत्रीय

Blog single photo

করোনা ভাইরাস আমদানির জন্য তবলিগ-ই জামাতিদের দায়ী করেছেন অসম প্ৰদেশ বিজেপি-র সংখ্যালঘু নেতা মমিনুল

04/04/2020

গুয়াহাটি, ৪ এপ্রিল (হি.স.) : অসমে করোনা ভাইরাস আমদানির জন্য তবলিগ-ই জামাতি মুসলিমদের দায়ী করেছেন তিনি। বলেছেন, এর জন্য মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোকে অতি শীঘ্র নিষিদ্ধ করা উচিত সরকারের। যাতে এই সব অঞ্চল থেকে মহামারিরূপী অদৃশ্য ঘাতক আর ছড়াতে না পারে। তাই এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতেই হবে। বক্তা অসম প্রদেশ বিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র তথা রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মমিনুল আওয়াল গরিয়া। 

দিল্লির মরকজ নিজামউদ্দিনে তবলিগ-ই জামাতে যোগদানকারী ২৪ জন ইসলাম ধৰ্মাবলম্বীর শরীরে কোভিড-১৯-এর লক্ষণ ধরা পড়ার পর উদ্বিগ্ন মমিনুল আওয়াল শনিবার হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দাবি তুলেছেন, মাদ্ৰাসা এবং মসজিদের ওপর সরকারের এ মহূর্তে কড়া নজর রাখা উচিত। বলেন, ‘মাদ্ৰাসা ও মসজিদগুলিতে সরকারকে অবশ্যই তল্লাশি চালাতে হবে। মনে হচ্ছে, এখনও বহু তবলিগ-ই জামাত-ফেরত মাদ্রাসা ও মসজিদে আত্মগোপন করে আছেন। সেই সঙ্গে তবলিগ-ই জামাতকে নিষিদ্ধ করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিও একজন ইসলাম ধৰ্মাবলম্বী। অনুভব ব্যক্ত করে বলেন, ‘অধিকাংশ ইসলাম ধৰ্মাবলম্বী বিজেপিকে খারাপ নজরে দেখেন, নরেন্দ্ৰ মোদীকে খারাপ পান। তাঁর সব কিছুকে মন্দ ভাবেন। সে জন্য তাঁরা সরকারের নিৰ্দেশিকা মানতে চান না। বুঝি না বা শুনবো না, এমন একটি ধারণা করে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ধরনের মানসিকতার জন্যই আজকের এই ভয়ংকর পরিস্থিতি।’ তাঁর মতে, ‘অসমের কতিপয় বুদ্ধিজীবীও সরকারের করোনা-রোধের এই সব অদম্য প্ৰচেষ্টায় হিন্দুত্বের গন্ধ পেয়েছেন।’ 

থামেননি মমিনুল আওয়াল গরিয়া। মুসলিম মৌলবীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ‘এঁরা গোড়ামীর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভ্ৰান্তির সৃষ্টি করছেন। তাঁরা বলছেন, আল্লাহ আমাদের বাঁচাবে, আল্লাহ আমাদের রহম করবে। ইত্যাদি ইত্যাদি!’ কিন্তু এর পিছনে গভীর চক্ৰান্তের গন্ধ পাচ্ছেন সৈয়দ মমিনুল আওয়াল। দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে এ ধরনের চক্রান্ত রচিত হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ গোলাঘাট হাসপাতালে নিভৃতবাসীদের থু থু ফেলা বা গাজিয়াবাদে ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা। বলেন, যাঁদের নিভৃতবাসে (কোয়ারেন্টাইন) রাখা হয়েছে এঁরা তো মানসিক রোগী, মানে পাগল নন? তা হলে এ সব ঘটনা কীসের ইঙ্গিত বহন করছে? প্রশ্ন তুলেছেন সৈয়দ মমিনুল আওয়াল। 

প্ৰসঙ্গক্ৰমে মমিনুল আরও বলেন, জমিয়তের সম্পাদক ফজলুল করিম কাশিমি, এআইইউডিএফ-এর বিধায়ক আমিনুল ইসলাম এবং গোলাঘাট বাতিকুড়িয়ার আশিক ইলাহি বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্ৰান্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করছেন। তাঁরা জেনেশুনে এই সব করেছেন। এই তিনজনের বিরুদ্ধে সরকারের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি।
 

এদিকে, প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদী প্ৰস্তাবিত আগামীকাল ৫ এপ্ৰিল রবিবার রাত ৯ টায় ৯ মিনিটের জন্য অসমের সর্বস্তরের জনতাকে নিজেদের ঘরের দুয়ারমুখে অথবা বারান্দায় অথবা ব্যালকনিতে একটি প্ৰদীপ জ্বালিয়ে অথবা মোমবাতি কিংবা টৰ্চ, নিদেনপক্ষে মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছেন অসম প্রদেশ বিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র তথা রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মমিনুল আওয়াল গরিয়া। 

রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এই আহ্বান জানিয়ে মমিনুল আওয়াল বলেছেন, আলো প্রজ্বলনের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় ঐক্য দৃঢ় হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মনোবল বাড়বে। প্ৰধানমন্ত্ৰীর নির্দেশ অনুযায়ী এই কাৰ্যসূচিতে পালন করতে গিয়ে কেউ যেন গলি বা রাস্তায় বেরিয়ে না আসেন। সর্বাবস্থায় সামাজিক দূরত্ব বজায় যাতে রক্ষা হয়ে তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন মমিনুল আওয়াল গরিয়া। 

হিন্দুস্থান সমাচার / রিংকি / এসকেডি


 
Top