क्षेत्रीय

Blog single photo

সূর্যাস্তের পর রাস্তার দখল সারমেয়দের হাতে : গৌতম ভট্টাচার্য

04/04/2020

অশোক সেনগুপ্ত

কলকাতা, ৪ এপ্রিল (হি.স.): লকডাউনে অনেকেই ঘরবন্দী। আমি কিন্তু একদিনও ঘরে থাকতে পারছি না। এমন একটা দায়িত্বের কাজ করি, প্রতিদিন অফিস করতে হচ্ছে। এমনকি রাতে বা ছুটির দিনও হাজারো চিন্তা।" কথাগুলি বললেন পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের (বাংলা, সিকিম , আন্দামান) চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল (সিপিএমজি) গৌতম ভট্টাচার্য। বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট ও প্রেসিডেন্সির কৃতী প্রাক্তনী গৌতমবাবু থাকেন টালিগঞ্জ এনএসসি বোস রোডের ‘ডিউক রেসিডেন্সি‘-তে। ১১৫টি ফ্লাটের কমপ্লেক্স। বললেন, ”আগে সকালে বাইরে মর্নিং ওয়াকে বার হতাম। কিন্তু লকডাউন শুরু হবার পর হাঁটাহাঁটি কমপ্লেক্সের ভেতরে।“ স্ত্রী শিক্ষিকা সুরঞ্জনা ছাড়া পরিবারে আছেন ছেলে অরিত্র। লখনউয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট-এর ফাইনাল ইয়ারের পড়ুয়া। আপাতত কলকাতায়। “একসঙ্গে স্ত্রী-পুত্রর সান্নিধ্যটাও লকডাউনের ফল। স্বস্তির কারণও। ছেলে দূরে থাকলে চিন্তা হত।”
গৌতমবাবুর কথায়, “প্রতিদিনের মত ঘুম ভাঙ্গে সকাল সাতটা নাগাদ। প্রাত্যহিক নানা কাজ করে রোজকার মতো অফিস। ব্যস্ততা বেশি হওয়ার বড় কারণ ট্রেন, বিমান, গণপরিবহন প্রায় সবই বন্ধ। অথচ অনেক জরুরী পার্সেল, ওষুধ, সামগ্রী গন্তব্যস্থলে পাঠাতে হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে এগুলির মধ্যে সমন্বয় আনার চেষ্টা। বছর শেষে যেন ডাকঘরের গ্রাহকদের টাকা তুলতে অসুবিধে না হয়, হাজার রকম স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের তদারকি— সব মিলিয়ে যথেষ্ট চাপ বা দায়িত্ব।"
কিন্তু ডাকঘরগুলি কি আদৌ যথেষ্ট ভালো কাজ করছে? বরং লকডাউনের আওতা থেকে ছাড় পাওয়া সত্বেও অধিকাংশ ডাকঘর খুলছে না। কেন এমন হচ্ছে? সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে গৌতম বাবু দাবি করার চেষ্টা করলেন, কাজ যথেষ্ট হচ্ছে। যদিও তাঁর দাবি আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক অনেকটাই। গৌতমবাবুর দাবী, এই সার্কেলে ডাকঘরের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯ হাজার। কর্মীদের সিংহভাগই আসেন দূর-দূরান্ত থেকে। ওঁরা আসতে পারছেন না। এখানে আমরা বড় অসহায়। আর যা পরিস্থিতি কর্মীদের ওপর দোষ দিতে পারছি না।
লকডাউনের আগের এবং বর্তমান পরিস্থিতির কী পার্থক্য মনে হচ্ছে? সিপিএমজি-র জবাব, প্রথমে যেটা মনে আসছে সাধারণ সময় বাড়ি থেকে অফিস অর্থাৎ চিত্তরঞ্জন এভিনিউয়ের যোগাযোগ ভবনে আসতে হয়তো ৪০ মিনিট লাগত। এখন লাগছে ১৫ মিনিট। ফেরাটাও প্রায় একই রকম। এটা একটা অবশ্যই ভালোলাগার জিনিস। সন্ধ্যের পর যখন বাড়ি ফিরি, গাড়ির পেছনে পেছনে ক্ষুধার্ত কুকুর ধাওয়া করে। যেন রাত একটা বেজে গিয়েছে। লকডাউন সূর্যাস্তের পরে রাস্তাঘাট চলে যায় সারমেয়দের দখলে।"
কী মনে হচ্ছে? লকডাউনের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে? অর্থনীতির তুখোর ছাত্র গৌতমবাবুর জবাব, “আগে করোনা নিয়ন্ত্রনে আসুক। তার পরে ওইসব বিশ্লেষণ। যেভাবে ছড়াচ্ছে, কবে কিভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে জানি না। কোনও দিশা তো দেখতে পাচ্ছি না! তবে সবাইকে সব রকম সতর্ক হতে হবে।" সিপিএমজি-র কথায়, দেশভাগ, বিশ্বযুদ্ধ, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর— এসব দেখিনি। শুনেছি, পড়েছি। এবার এমন একটা দুর্যোগ দেখার, অনুভব করার অবকাশ হল যেটা সর্বব্যাপী, বিশ্বব্যাপী। দ্রুত এর অবসান হোক।

হিন্দুস্থান সমাচার|


 
Top