राष्ट्रीय

Blog single photo

তবলীগীরা প্রকৃত মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে না : আর কে সিনহা

06/04/2020


আর কে সিনহা 

নয়াদিল্লি, ৬ এপ্রিল (হি. স.):   করোনার মাধ্যমে দেশকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করেছিল তবলীগী জামাত। গোটা দেশজুড়ে তারা নিজেদের জাল বিস্তার করেছে।এদের এত বাড়বাড়ন্ত পেছনে নিশ্চই রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক আমলাদের হাত রয়েছে। এটি মোটেও বিশুদ্ধ ধর্মীয় সংগঠন নয়।
 তবলীগী জামাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার কারণও রয়েছে। এদের জন্যই ভারতে হঠাৎ করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার জেরে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। যা দুঃখ ও একই সঙ্গে লজ্জাজনক। 
একটা প্রশ্ন না করে  পারছি না যে, রাজধানী দিল্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজামুদ্দিনে কারা তবলীগী জামাতের মরকজ অর্থাৎ প্রধান কার্যালয় করার ছাড়পত্র দিয়েছিল।  প্রায় দুই হাজার বর্গ মিটারের জুড়ে তবলীগী জামাতের বিশাল কার্যালয়। দুইটি বেসমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোর ছাড়াও ছয়টি তলা রয়েছে। ভবনটির উচ্চতা ২৫ মিটার। প্রায় হাজার জামাত কার্যকর্তা এখানে থাকার ব্যবস্থা করা রয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের আসা যাওয়া লেগেই থাকে এখানে। বর্ষীয়ান আইনজীবী ও মুসলিম সফর ফাউডেশনের সভাপতি মসরুর হাসান সিদ্দিকীর মতে ১৯৯২ সালে তবলীগী জামাতের মরকজ নির্মাণের জন্য আড়াই তলা ভবনের প্ল্যান পাশ হয়েছিল দিল্লি পৌরনিগমের। ১৯৯৫ সালে তা দুটি বেসমেন্ট ও ছয়টি ফ্লোর বিশিষ্ট বিশাল ভবনে রূপান্তর হয়।   রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এটি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ, দিল্লি নগর নিগাম, দমকল ও স্থানীয় নেতারাও এতে যুক্ত ছিল।
লক্ষণীয় যে তবলীগী জামাতের বিশাল কার্যালয়ের ঠিক পাশেই ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকা সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্মারক ও স্থাপত্য রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ খাম্বা স্মারক রয়েছে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনকালে এটি বানানো হয়েছিল।নিয়ম অনুসারে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকা ঐতিহাসিক স্মারকের একশো মিটারের মধ্যে কোন নির্মাণ কাজ করা যাবে না। তবে কি করে তবলীগী জামাত নিজেদের প্রধান কার্যালয় গড়ে তুলল। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আমলাদের জন্যই এমনটা হতে পেরেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এই ক্ষেত্রে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের অনুমতি কি নেওয়া হয়েছিল। 
আমরা কি শুধুমাত্র সরকারী আমলাদের দোষারোপ করে সেই যুগের সরকার এবং রাজনীতিবিদদের ক্ষমা করা দেবো? অবশ্যই না। প্রশ্ন আরও রয়েছে। গত বছর দিল্লির করোল বাগের অর্পিত প্যালেস হোটেলে আগুন লেগেছিল। এতে অনেক লোক প্রাণ হারিয়েছে। সেই আগুনে সমস্ত দিল্লি কেঁপে উঠেছিল। দমকল বিভাগ তখন রাজধানীর সমস্ত হোটেল, গেস্ট হাউস এবং ধর্মশালাগুলি পরিদর্শন করে যাবতীয় নির্দেশিকা দেয়। দমকলের তরফে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে অননুমোদিত উপরের তলাটি, যা দৈর্ঘ্যে ১৫ মিটারেরও বেশি, অবিলম্বে অপসারণ করা উচিত। পুলিশ, পৌরসভার, দমকল কি তবলীগী জামাতের মরকজে এসে এমন কোনও নিরীক্ষণ করেছিল। যদি করে থাকে তো কি পদক্ষেপ মরকজের তরফে নেওয়া হয়েছিল।
এই প্রশ্নের উত্তর মৌলানা সাদকেই দিতে হবে। দিল্লির নিজামুদ্দিনে যেখানে মরকজের ভবনটি অবস্থিত সেখানের রাস্তা বড়ই সংকীর্ণ। ফলে অগ্নিকাণ্ড বা দুর্যোগের সময় সেখানে দমকলের ইঞ্জিন প্রবেশের ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে। এর থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে হজরত নিজামুদ্দিন ও আমির খুসর দরগা। এর পাশেই রয়েছে গালিব একাডেমি।ফলে  প্রচুর জনসমাগম হয়।

এখান থেকে মরকজকে স্থানান্তর করা উচিত

 এমন পরিস্থিতিতে তবলীগী জামাতের প্রধান কার্যালয় মরকজকে অন্যত্র ফাঁকা জায়গায় স্থানান্তর উচিত। এতে করে সবাই সুরক্ষিত থাকবে। কেউ আইনের অবহেলা করবে না। করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে তবলীগী জামাতের ভূমিকা স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে। ফলে তাদের সভাপতি মহাম্মদ সাদের থেকে এইটুকু প্রত্যাশা করাই যায়। তাঁর নিজের উদ্যোগে প্রশাসনের কাছে গিয়ে মরকজের স্থানান্তর করার ব্যাপারটি বলাটা উচিত। তার মানে এই নয় তবলীগী জামাতের অপরাধ মাফ হয়ে যাবে।মরকজের ভবনের কোনও বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।এমনকি সাততলায় ভবনের কোন নকশা ও মেলেনি। এতে করে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে অবৈধ ভাবে জমি দখল করে মরকজের ভবনটি রয়েছে।
একটা কথা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে মুসলমানদের বহু সংগঠন ভারতের সক্রিয় রয়েছে। দেশ গঠনের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছে এই সংগঠনগুলি। এর মধ্যে যেমন রয়েছে মুম্বইয়ের আঞ্জুমান - ই - ইসলাম, বহরায় মুসলমানদের বিভিন্ন সংগঠন, রয়েছে লখনউ এর বহু শিয়া সংগঠন। আঞ্জুমান - ই - ইসলামের অনেকগুলি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। অভিনেতা দিলীপ কুমার, ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফর এদের সংস্থায় লেখাপড়া করেছে।দিল্লীর অনাথ শিশুদের শিক্ষিত করার জন্য দরিয়াগঞ্জে 'শিশুদের বাড়ি'নামক সংস্থা উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে । এর মধ্যেই তারা একশো বছর পূর্ণ করেছে। এমন ধরনের মুসলিম সংগঠনের ওপর তো কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। কিন্তু তবলীগী জামাতের গতিবিধি সন্দেহজনক। মানবতার নামে এরা কলঙ্ক।
মূল কথা হচ্ছে তবলীগী জামাতের কালো দিক যখন বেরিয়ে আসবে । তখন যেন সেই সকল রাজনীতিবিদ ও আমলাদের রেয়াত না করা হয়। সরকারি আমলাদের মধ্যে অনেকেই এখন অবসর নিয়েছেন তাদের মধ্যে যদি কাউকে অভিযুক্ত পাওয়া যায় তবে তার পেনশন যেন আটকে দেওয়া হয়।সেই সকল রাজনীতিবিদদের নাম সামনে আসা উচিত যারা নির্লজ্জের মতন এদের সহায়তা করেছে।  
(লেখক বরিষ্ঠ সম্পাদক ও কলম্নিস্ট)


 
Top