Hindusthan Samachar
Banner 2 गुरुवार, नवम्बर 22, 2018 | समय 16:09 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

অসমে নিহতদের পরিবারবর্গকে অভয় দিয়ে রাষ্ট্রপতির দরবারে যাওয়ার আশ্বাস তৃণমূলি প্রতলের

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 4 2018 7:35PM
অসমে নিহতদের পরিবারবর্গকে অভয় দিয়ে  রাষ্ট্রপতির দরবারে যাওয়ার আশ্বাস তৃণমূলি প্রতলের
ধলা, তিনসুকিয়া (অসম), ৪ নভেম্বর (হি.স.) : ‘ভয় পাবেন না। আমরা, গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাদের পাশে আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের খবর নিতে আমাদের পাঠিয়েছেন। আপনাদের জন্য এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন মমতা দিদি। দিদি বলেছেন, যখন যা দরকার তাঁকে জানাতে, তিনি ব্যবস্থা করবেন।’ আজ রবিবার এভাবেই ধলার খেরবাড়ি বিছনিমুখ গ্রামে এসে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বত্তদের ধারা গুলিতে নৃশংসভাবে নিহত পাঁচ ব্যক্তির পরিবারবর্গকে অভয় ও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার দূত সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়ান, বনগাঁর সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, রাজ্যসভার সদস্য নাদিমুল হক, করিমপুরের বিধায়ক মহুয়া মৈত্র৷ আজ সকালে কলকাতা থেকে ডিব্রুগড়ের মোহনবাড়ি বিমানবন্দরে অবতরণ করে সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়ানের নেতৃত্বে দলের চার সদস্যের দল সোজা সড়কপথে তিনসুকিয়া জেলার ধলা-শদিয়ায় সৈখোয়ার খেরবাড়ি এলাকার বিছনিমুখে আসেন। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাতে এখানে আগে থেকেই ছিলেন এলাকার বিজেপি বিধায়ক বলেন চেতিয়া। তিনি ডেরেক ও’ব্রায়ানদের অভ্যর্থনা জানিয়ে সবার আগে নিয়ে যান নারকীয় হত্যাকাণ্ডের শিকার নিহত শ্যামল বিশ্বাস, সুবল দাস, অনন্ত বিশ্বাস, অবিনাশ বিশ্বাস এবং ধনঞ্জয় নমঃশুদ্ৰদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলছেন। প্রসঙ্গত, শ্যামল বিশ্বাস, অনন্ত বিশ্বাস এবং অবিনাশ বিশ্বাস একই পরিবারের সদস্য। এদিকে তৃণমূলের প্রতিনিধিদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহতদের গোটা পরিবার। ওই পরিবারের মহিলা সদস্যদের জড়িয়ে ধরে বনগাঁর সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর অভয় দিয়ে বলেছেন, ভাববেন না। আমরা আছি তো। আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপনাদের জন্য কথা বলব। এর বিচার করতে হবে। অসমে এভাবে বাঙালি নিধন চলতে দেওয়া যায় না। করিমপুরের বিধায়ক মহুয়া মৈত্রও একইভাবে বলেছেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের কথা ভেবেই শোকের সমভাগী হতে মমতা দিদি এতদূর এখানে আমাদের পাঠিয়েছেন। ডেরেক ও’ব্রায়ানও দরিদ্র ভুক্তভোগী পরিবারবর্গকে যাবতীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ডেরেক জানান, ধলা-কাণ্ড নিয়ে তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে যাবেন। এর শেষ দেখবেন তাঁরা। এনআরসি কিংবা জাতীয় নাগরকিত্ব সংশোধনী বিলকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিগ্রহ কতদিন চলবে জানতে চাইবেন, এই বিবাদের নিষ্পত্তি দাবি করবেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। ইতিমধ্যে তাঁরা সাক্ষাৎকারের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সময়ও চেয়েছেন বলে জানান তিনি। সাংসদ ডেরেক বলেন, "বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নদীর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে গুলি করে নৃশংসভাবে যাঁদের মারা হয়েছে তাঁরা কাঁরা? তাঁরা ভারতীয় নাগরিক, বাঙালি। গরিব নাগরিকদের এভাবে গণহারে নৃশংসভাবে হত্যা মেনে নেওয়া যায় না। বাঙালি নিধনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন ততদিন চলবে, যতদিন পর্যন্ত এই গণহত্যার পিছনে কী কারণ রয়েছে, কে বা কারা নারকীয় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তার প্রমাণ প্রকাশ না হবে। এর জবাব আমাদের পেতেই হবে। যতদিন তা পাচ্ছি না ততদিন হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।" তিনি শীঘ্রই মূল আততায়ীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি অসমে বাঙালিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি করেছেন। তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মৈত্র বলেন, “ওরা এখানে জন্মেছে। বড় হয়েছে এখানে। ওদের হত্যার পিছনে বিষ ঢোকাল কে? তদন্ত করা উচিত।”নিহতদের পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের চার দূত নদীর পাড়ের সেই অকুস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে সাংসদ মমতাবালা বলেছেন, ভাবলে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। এভাবে রক্তের হোলি কেউ খেলতে পারে? এত নৃশংস এরা? বিধায়ক মহুয়া মৈত্র বলেন, “যাঁদের মারা হয়েছে তাঁরা জন্মেছেন। এখানেই বড় হয়েছেন। কেন ওদের হত্যা করা হল, হত্যার বিষ ঢোকাল কে? তদন্ত করা উচিত।” এদিকে উপস্থিত তিনসুকিয়ার বিধায়ক বলেন চেতিয়ার কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সফর সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মন্তব্য করেন, বিষয়টি রাজনীতির নয়, একে নিয়ে রাজনীতি করবেন না প্লিজ। আমি তাঁদের স্বাগত জানাতে এসেছি। তাঁরা রাজ্যের অতিথি। শোকগ্রস্ত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে এসেছেন, এর চেয়ে বড় কথা কী আর হতে পারে? তাঁদের সহযোগিতা করা আমাদের কর্তব্য। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের চার সদস্যের আগমনে ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়া, দুই জেলা প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে ছিল তাঁদের সফরসূচি। রবিবার ভোর থেকে মোহনবাড়ি বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হষ়েছিল সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী। এছাড়া মোহনবাড়ি থেকে ধলার বিছনিমুখ, সর্বত্র ছিল সিআরপিএফের দখলে। তাঁদের সফরসূচি নিরাপদ করতে জেলার সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসন কোনও কসুর করেনি। কেননা, এর আগে এনআরসির খসড়া প্রকাশের পর শিলচর গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল। শিলচর বিমানবন্দরে বিধায়ক মহুয়া মৈত্র এবং সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে জন্য সতর্ক ছিল প্রশাসন। অসম সরকার অবশ্য আগেই জানিয়েছিল, পরিস্থিতি ভিন্ন, তাই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ এলে বাধা দেওয়া হবে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাতে তিনসুকিয়া জেলার সৈখোয়ায় কিংবদন্তি গায়ক ভূপেন হাজরিকার নামে নামাঙ্কিত ধলা-শদিয়া সেতুর কাছে পাঁচ নিরীহ হিন্দু বাঙালিকে আইসিস-এর কায়দায় শূন্য দূরত্ব থেকে সারিবদ্ধভাবে গুলি করে মেরেছিল অজ্ঞাতপরিচয় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারবর্গের খোঁজ নিতে আজ এখানে এসেছিলেন ডেরিক ও''ব্রায়েনের নেতৃত্বের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। হিন্দুস্থান সমাচার / এসকেডি / কাকলি
image