Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, नवम्बर 17, 2018 | समय 10:22 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

'ধর্মাদেশ' মহাসম্মেলনে শেষদিনে রামমন্দির গড়ার প্রস্তাবে স্বাক্ষর সাধু-সন্তদের, উঠল শবরীমালা প্রসঙ্গও

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 4 2018 7:55PM
'ধর্মাদেশ' মহাসম্মেলনে শেষদিনে রামমন্দির গড়ার প্রস্তাবে স্বাক্ষর সাধু-সন্তদের, উঠল শবরীমালা প্রসঙ্গও
নয়াদিল্লি, ৪ নভেম্বর (হি.স.) : রাজধানীর তালকোটরা স্টেডিয়ামে ''ধর্মাদেশ'' মহাসম্মেলনের দ্বিতীয়দিনে উঠে এল শবরীমালা প্রসঙ্গ। কেরলের শবরীমালা মন্দিরে সমস্ত বয়সী মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং এরপরে ভগবান আয়াপ্পা ভক্তদের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বিষয়গুলি রবিবার সাধুদের ধর্মাদেশ মহাসম্মেলনে আলোচনা সভায় উঠে এসেছে। এদিনের মহাসম্মেলনের মঞ্চে উপস্থিত থেকে আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর কেরলের শবরীমালা মন্দিরে ধার্মিক ও পরম্পরিক বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছে। মেরঠ থেকে উপস্থিত থাকা স্বামী বিবেকানন্দ রামম্দির নির্মাণে চারপাশের জমি আগে তুলে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানান। জানা গিয়েছে, মহাসম্মেলনে আসা সাধুরা একত্রিত হয়ে ধর্মাদেশে সাক্ষর করেছেন এবং এই বিষয়ে রণনীতি তৈরি করতে সাধুরা একত্রিত হয়েছেন। উপস্থিত সাধুরা মোদী সরকারের কাজে খুশি বলে জানিয়েছেন। উপস্থিত হয়ে স্বামী পরমানন্দ জী মহারাজ বলেছেন, অনেক অপেক্ষা করা হয়েছে। সাধুদের পক্ষ থেকেও ধৈয দেখানো হয়েছে। বিজেপি সরকারের প্রতি আমরা আস্থাশীল। ধর্মাদেশ সম্মেলন থেকে সাধুরা রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে অবিলম্ব অধ্যাদেশ জারি করারও দাবি তোলা হয়েছে। এর মধ্যে থেকে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাঁরা দাবি করেছেন, বিজেপি সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করলে ভোট বাড়বে বলে মত প্রকাশ করেছেন যুগ পুরুষ স্বামী পরমানন্দ মহারাজ। জগতগুরু শঙ্করাচার্য বাসুদেবানন্দ সরস্বতী দুদিনের এই ধর্মাদেশ সম্মেলনের সমাপ্তি ভাষণ দেন। তিনি রাজধানী দিল্লির নাম বদল করে ইন্দ্রপ্রস্থ রাখার উপর জোর দেন। মঞ্চে উপস্থিত থেকে স্বামী বাসুদেবানন্দজী রাহুল গান্ধীর নাম উল্লেখ নাম করে বলেন, আজ হিন্দু বেশধারীরা পর হয়ে গেছে। হিন্দু বেশধারী আর হিন্দু হওয়ার মধ্যে তফাত রয়েছে। বাংলাদেশ অনুপ্রবেশকারী বন্ধ করতে সরকারের তারবন্দী করার উপর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গঙ্গা নদীর উপরও একটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গঙ্গা নদীর উপর আইন প্রয়োগ করার কথাও সম্মেলনে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষও নদীতে কোন অবশিষ্ট না ফেলার জন্য প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময় শঙ্করাচার্য হংস দেবাচার্য হরিদ্বার-এর সভাপতিত্বে সন্তদের স্বাগত জানানো হয়| দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-সন্তরা ‘ধর্মাদেশ’ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন| রাম মন্দির নির্মাণের বিলম্ব প্রসঙ্গে নিয়ে সন্তরা কি সিদ্ধান্তে পৌঁছাল তা নিয়ে এদিন জানাবে সন্তরা। এর মাঝেই এদিন কেরল থেকে আসা স্বামী শান্তানন্দ শবরীমালা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। রবিবার সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিচারব্যবস্থা এবং কেরল প্রশাসন দুইজনেই সাংস্কৃতিক ভাবনার উপর আঘাত করার কাজ করেছে। অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতির অধ্যক্ষ জগদগুরু রামানন্দচার্য হংসদেবাচার্য জানিয়েছেন, কেরলের সরকার বিধর্মী। দেশের সমগ্র সাধুদের হয়ে বিচারব্যবসা এবং রাজ্য সরকারের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। উপস্থিত থাকা প্রত্যেকেই তার এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। এদিনের সম্মেলন থেকে আগামী ২৫ নভেম্বর নাগপুর ও বেঙ্গালুরুতে জনসমাবেশের জাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ৯ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লিতে আরেকটি সমাবেশ হবে। ওই সমাবেশে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ সাধু-সন্তদের উপস্থিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী ২০১৯ সালে কেন্দ্রে এই সরকারকে ফের ক্ষমতা আনার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী ৫ নভেম্বর, সোমবার পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে কেরলের শবরীমালা মন্দিরের দরজা| আর তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৪-৬ নভেম্বর পর্যন্ত, টানা তিন দিন ধরে কেরলের সান্নিধানাম, পাম্বা, নীলাক্কল এবং এলাভুঙ্কা-এ ১৪৪ ধারা জারি করা হবে| ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন পত্তনমতিট্টা জেলা কালেক্টর| জেলা কালেক্টরের নির্দেশ অনুযায়ী, ৪-৬ নভেম্বর, টানা তিন দিন সান্নিধানাম, পাম্বা, নীলাক্কল এবং এলাভুঙ্কা-এ জারি করা হবে ১৪৪ ধারা| বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত জেলা কালেক্টরের| প্রসঙ্গত, আগামী ৫ নভেম্বর বিশেষ প্রার্থনার জন্য খুলে দেওয়া হবে কেরলের শবরীমালা মন্দিরের দরজা| সূত্রের খবর, ৫ এবং ৬ নভেম্বর টানা ৪৮ ঘন্টার জন্য শবরীমালা মন্দিরের প্রবেশদ্বার খোলা থাকবে| তবে, সমস্ত বয়সের মহিলারা এই দু’দিনে মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নানা মুনীর নানা মত।হিন্দুস্থান সমাচার/ সঞ্জয়
image