Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, नवम्बर 20, 2018 | समय 12:56 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

আগামী ১৪ নভেম্বর নিউ টাউনে রসগোল্লা উৎসব, শুরু হয়েছে প্রস্তুতি

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 5 2018 10:35AM
আগামী ১৪ নভেম্বর নিউ টাউনে রসগোল্লা উৎসব, শুরু হয়েছে প্রস্তুতি
কলকাতা, ৫ নভেম্বর (হি.স.): এ এক অন্য রকমের উৎসব। আগামী ১৪ নভেম্বর রসগোল্লা উৎসব করতে চলেছে হিডকো। শুরু হয়েছে পরিকল্পনার প্রস্তুতি। গত বছর ১৪ নভেম্বর বাংলার রসগোল্লার জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই তকমা জুটেছিল দীর্ঘ লড়াইয়ের পর। রসগোল্লার ‘মালিকানা’ পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। অর্থাৎ বছর ঘুরে সেই দিনটিকে উদযাপন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথ্যের উপর ভিত্তি করেই জিআইয়ের তকমা পাওয়ার জন্য লড়াইয়ে নামতে বলেন সংশ্লিষ্ট দফতরকে। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে জিআইয়ের জন্য আবেদন করা হয়।গত বছর জানিয়ে দেওয়া হয়, নবীনচন্দ্র দাশ যে রসগোল্লা তৈরি করেছিলেন, তা বাংলার। ওড়িশার নয়। জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই তকমা পায় বাংলার রসগোল্লা। নিউটাউনের ইকো পার্কের মিষ্টি হাবে এই উৎসব হবে। সেখানে হরেক রকমের রসগোল্লা যেমন থাকছে, তেমনই রয়েছে রসগোল্লাকে ঘিরে প্রতিযোগিতা, ক্যুইজ বা মনোজ্ঞ আলোচনা। অর্থাৎ রসগোল্লা নিয়ে দিনভর জমজমাট উৎসব। মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের কাছে বিনা পয়সায় রসগোল্লা খাওয়ানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই উৎসবে যেমন হাজির থাকছে শহরের নামজাদা মিষ্টান্ন সংস্থাগুলি, তেমনই পসরা সাজিয়ে সেখানে থাকার কথা জেলার মিষ্টি বিক্রেতাদেরও।এর পাশাপাশি থাকছে নানা অনুষ্ঠান। মিষ্টি হাবের বাইরে স্টল করে যাতে জেলার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদেরও জায়গা করে দেওয়া যায়, তার জন্য পরিকাঠামো গড়ে দেবে হিডকো, এমনটাই জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে খাদ্যরসিকরা উৎসবে নানা জাতের বাংলার রসগোল্লা চেখে দেখার সুযোগ পাবেন, বলেছেন উদ্যোক্তারা। ২০১৪ সালে রসগোল্লাকে নিজেদের কব্জায় আনার জন্য চেষ্টা চালাতে শুরু করে ওড়িশা সরকার। ২০১৫ সালে উল্টোরথের দিন ওড়িশায় রসগোল্লা দিবস ঘোষণাও হয়। কিন্তু বিষয়টির সত্যতা নিয়ে এ রাজ্য থেকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। গবেষক হরিপদ ভৌমিকের তথ্যের উপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার জানিয়ে দেয়, রসগোল্লা বাংলার, আর কারও নয়। হরিপদবাবুর কথায়, রসগোল্লার প্রধান উপকরণ ছানা। এই শব্দটি বাংলার নিজস্ব শব্দ। বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় যে শব্দকোষ তৈরি হয়েছিল, সেই অমরকোষে দধিযুক্ত দুধের উল্লেখ আছে, যার নাম আবিক্ষা বা দধিকুর্চিকা। তা আদতে ছানা হলেও, ‘ছানা’ শব্দটি তখন ছিল না। দই দিয়ে যে দুধ কাটানো হয়, তা তো নষ্ট দুধ। নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধ কোনও দেবতার পুজোয় সমর্পণ করা যেত না সেই সময়। ওড়িশা দাবি করে, পুরীর জগন্নাথদেবকে যে মিষ্টি দেওয়া হত, তা রসগোল্লা। কিন্তু বাস্তব হল, তার নাম ছিল ক্ষীরমোহন। ক্ষীরের মিষ্টি আর যাই-ই হোক, রসগোল্লা নয়। এদিকে দই দিয়ে যে দুধ ছিন্ন করা হয় বা কাটা হয়, তা ছানা, যা চালু হয় বাংলায়। তাই রসগোল্লাও বাংলার। হিডেকো চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন জানিয়েছেন, ইকো পার্কের মিষ্টি হাবে তাঁরা ওই উৎসবে রসগোল্লার রকমফের সামনে আনবেন। তাঁর কথায়, এখন রসগোল্লা শুধু একটি সংজ্ঞাতেই থেমে নেই। মূল কাঠামোটি অপরিবর্তিত রেখে, তা নিয়ে হরেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। বেকড রসগোল্লা বা রসগোল্লার ললিপপ যেমন আছে, তেমনই আছে রংবেরঙের রসগোল্লা। সেসব হাজির করার চেষ্টা করা হবে মেলায়। হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক/ রাকেশ
image