Hindusthan Samachar
Banner 2 शुक्रवार, नवम्बर 16, 2018 | समय 11:13 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

চিনা আলোর জৌলুষে ম্রিয়মান মাটির প্রদীপ

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 5 2018 1:26PM
চিনা আলোর জৌলুষে ম্রিয়মান মাটির প্রদীপ
কলকাতা, ৫ নভেম্বর (হি. স.) : আলোর উত্‍সবে মেতে উঠছে বাঙালী। তবে এই উত্‍সবকে যাঁরা আলোকজ্জ্বল করে তুলেছেন, সেই মাটির প্রদীপের শিল্পীরা অনেকে জীবনে আলোর দিশার হদিশ পাচ্ছেন না। প্রাচীন কাল থেকে দীপাবলির দিনগুলিতে গৃহস্থের মঙ্গলের জন্য ও পুর্বপুরুষের স্মরাণার্থে মাটির প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন। বাজার গুলিতে স্বল্প মূল্যে সুদৃশ্য সৌখিন এলইডি লাইট, টুনি বাল্ব, ইলেক্ট্রিক মোমবাতি, ইলেক্ট্রিক প্রদীপের প্রাচুর্যতায় হারাতে বসেছে মাটির প্রদীপ। মৃৎশিল্পীদের কথা অনুযায়ী, বর্তমান প্রজন্মের আর কেউই এই পেশায় আসতে চাচ্ছে না। যে কয়েকজন শিল্পী এখনও এই পেশায় নিযুক্ত রয়েছেন তাদেরও রীতিমত বেগ পেতে হচ্ছে সংসার চালাতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে তুলনা করলে মাটির প্রদীপের দাম আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। ছোট, মাঝারি কিংবা বড় মাপের প্রদীপের পাইকারি মুল্য সে রকম বেশি না হলেও হাতবদল হতে হতে খদ্দেরের কাছ সেগুলোর খরচ অনেকটাই বেড়েছে। বছর দুই আগে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর চীন পরোক্ষে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোয় ক্ষোভ জমেছিল ভারতীয়দের মনে। সেই ক্ষোভের বহিপ্রকাশও ঘটে। হিন্দি-চীনি ভাই ভাই শ্লোগানকে সরিয়ে রেখে চীনা দ্রব্য বয়কট করতে শুরুর ডাক দেন ভারতীয় সাধারণ নাগরিকরা। আলোর উৎসবে চীনা লাইটের ব্যাপক চাহিদায় সামান্য ভাঁটা পড়ে। কিন্তু দাম বাড়তে শুরু করেছে মাটির প্রদীপ সহ অন্যান্য আলোকসজ্জা সামগ্রীর। কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম বেড়েছে প্রদীপের। তাই এ বছর সব জেলাতেই ফের চীনা লাইট ব্যবহার করছেন নাগরিকরা। এই বিষয়ে রায়গঞ্জের অমিয় পাল জানিয়েছেন, প্রায় চার-পাঁচ বছর থেকে খুব বেশি হলে তিন থেকে চার হাজার প্রদীপ বানিয়েছি। তার মধ্যেও সব প্রদীপ বিক্রি করে উঠতে পারিনি। হরেক রকম বিদেশী আলোকসজ্জার সাথে পায়ে পা মিলিয়ে আমরা চলতে পারিনি। ফলে ব্যবসার ক্ষেত্রে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি আমরা। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর সত্তর হাজারের বেশি প্রদীপ বানানোর অর্ডার মেলে অমিয়বাবুর। দামও বাড়ে প্রায় দ্বিগুণ। কয়েক বছর আগে এক হাজার প্রদীপের বিনিময়ে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম মিলত। এই বছর হাজার প্রদীপের দাম মিলছে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা। একই কথা জানিয়েছেন শিলিগুড়ির এক কুমোর। নিবারন পাল জানিয়েছেন সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর যেমন দাম পাচ্ছিলাম, তেমন অর্ডারও পেয়েছি। কিন্তু এখন বিদেশী লাইটের কাছে হার মানতে হয়েছে আমাদের। হারানো জমি ফের ফেরত পেলে উপকৃত হব আমরা। এখন আর সহজে কারও জমি থেকে মাটি কাটতে দেননা। এক ঝুড়ি মাটি কিনতেই অনেক খরচ পড়ে। দাম বেড়েছে কাঠের গুঁড়ো থেকে কাঠকয়লা সব কিছুরই। টাকী হাসনাবাদের প্রায় ৩টি পাল পাড়ার মধ্যে অধিকাংশই এই পেশা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। ৩টি পাড়া মিলিয়ে যে কয়েকঘর এখনও শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা সরকারি সাহায্যের দাবি করেছেন। তাঁদের কারও কথায় পুজোর মরসুমে কয়েকদিন প্রদীপের নুন্যতম চাহিদা, দেবী ঘট সহ পুজায় ব্যবহৃত জিনিসের জন্য তাঁদের পেট চলে যায় ঠিকই তবে প্লাস্টিকের থালা, গ্লাস থেকে চায়ের কাপের প্রভাবে বছরের অন্য সময় পেট চালানো দায় হয়ে বসে। মৃত্‍শিল্প কে বাঁচাতে সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে বা প্লাস্টিকের তৈরি পাত্রে খাবার বা পানীয় বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আনলে দুষণ কমার পাশাপাশিএই শিল্পের পুনর্জাগরন সম্ভব— এমনটাই দাবি এই পাল পরিবার গুলির।হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
image