Hindusthan Samachar
Banner 2 बुधवार, नवम्बर 14, 2018 | समय 14:36 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

মামলার ভয় পাই না, বরং বাঙালি ও অসমিয়ার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো হোক : প্রদীপ

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 5 2018 7:14PM
মামলার ভয় পাই না, বরং বাঙালি ও অসমিয়ার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো হোক : প্রদীপ
শিলচর (অসম), ৫ নভেম্বর (হি.স.) : এ সব মামলা-টামলার ভয় তিনি করেন না৷ মামলার ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই৷ বরং বাঙালি ও অসমিয়ার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক। বলছেন, সারা কাছাড়-করিমগঞ্জ-হাইলাকান্দি ছাত্র সংস্থা (আকসা)-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী প্রদীপ দত্তরায়৷ সম্প্রতি গুয়াহাটির দিশপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে আজ সোমবার শিলচরে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা দত্তরায়। সাংবাদিক সম্মেলনে স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় প্রদীপ বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় ৫৬টি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। দৃঢ়তার সঙ্গে সব মামলার মোকাবিলা করেছেন। তাই এখনও এ সব মামলা-টামলায় তিনি মোটেও ভিত নন৷ প্রদীপ দত্তরায় বলেন, অসমের পরিস্থিতি ভালো নয়৷ তাই বাঙালি ও অসমিয়ার মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করা হচ্ছে তার অবসান ঘটানো উচিত৷ এর জন্য তিনি অসমিয়া জাতীয়তাবাদী সগঠনগুলির সঙ্গে বাঙালি সংগঠনগুলির শান্তি বৈঠকের উপর জোর দিয়েছেন৷ বলেন, গুয়াহাটি অথবা শিলচরে এ ধরনের আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালকে উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশাবাদী, খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হবে৷ তিনসুকিয়া জেলার ধলা-শদিয়ায় সৈখোয়ার খেরবাড়ি এলাকার বিছনিমুখে সংঘটিত গণহত্যার পেছনে তৃতীয় শক্তির হাত থাকতে পারে বলে ধারণা প্রদীপ দত্তরায়ের৷ এমন সম্ভাবনার কথা বলে প্রাক্তন ছাত্রনেতা বলেন, ডিব্রুগড়ের প্রকাশ্য রাস্তায় থানার সামনে যেভাবে আলফা জিন্দাবাদ বলে স্লোগান দেওয়া হল, এটাই ভাবনার বিষয়৷ বলেন, ‘আলফা (স্বাধীন) একটি দেশদ্রোহী’ সংগঠন৷ এই সংগঠনের নামে কী করে প্রকাশ্যে স্লোগান দেওয়া হয়ে৷ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷ এদিকে, অসমে সংঘটিত ঘটনাবলি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাক না গলানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রদীপ। তিনি বলেছেন, ‘মমতা যেভাবে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন এতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে। তাই মমতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অসমের সমস্যা আমরা নিজেরাই সমাধান করব, আপনি এ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। এতেই আমাদের মঙ্গল। বাইরের কারও সাহায্যের দরকার নেই৷’ প্রসঙ্গক্রমে প্রদীপ দত্তরায় বলেন, রাজ্যের অধিকাংশ অসমিয়া বাঙালির সঙ্গে মিলেমিশে অবস্থান করতে চান৷ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাঙালি সংগঠনের ডাকা বনধ তিনসুকিয়া-সহ বেশিরভাগ জায়গায় সফল হয়েছে৷ এর কারণ অসমিয়ারা সহযোগিতার হাত বাডিয়ে দিয়েছেন বলে৷ তাই অসমিয়া ও বাঙালির মধ্যে তিক্ততা অবসানের জন্য অসম সাহিত্য সভা এবং বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনকে উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান তিনি৷ তবে বিস্ময় প্রকাশ করে এ-ও বলেন, আজ থেকে বছর পঁচিশ আগে অসমিয়ারা বাঙালিদের গালি পেড়ে ‘কেলা বাঙাল’, কাছাড়কে ‘ক্যানসার’ ইত্যাদি শব্দে বিভূষিত করতেন৷ এখন দেখা যাচ্ছে অখিল গগৈয়ের মতো মানুষ সেই একই ধাঁচে বরাককে আলাদা করতে চাইছে। এটা বড় ভয়ংকর প্রবণতা। এখানে উল্লেখ করা ষেতে পারে, গত ৩০ অক্টোবর শিলচরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রদীপ দত্তরায় বলেছিলেন, অসমে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে তাতে খুব দূরে নয়, চার ভাগে টুকরো হয়ে যাবে অসম নামের রাজ্য৷ তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, পৃথক বড়োল্যান্ড, কামতাপুর আন্দোলন জোরদার হচ্ছে৷ ডিমা হাসাও এবং কারবি আংলংও অসম থেকে বেরিয়ে পৃথক রাজ্য গঠন করতে চাইছে৷ এবার আসু, আলফা, অখিল গগৈ-সহ উগ্র অসমিয়া জাতীয়তাবাদী নেতারা যেভাবে বাঙালিদের হুমকি দিচ্ছেন, তাতে বরাক উপত্যকাও আলাদা হবে। তখন কেবল আপার আর লোয়ার অসম নিয়ে উগ্র অসমিয়ারা বদরউদ্দিন আজমলকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে সুখে বসবাস করবেন৷ তা তিনি দিব্যচক্ষে বেমালুম দেখতে পাচ্ছেন। তাই অসমকে অখণ্ড রাখতে হলে সরকারকে নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকলে হবে না, দৃঢ় হাতে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের দমন করতে হবে, বলেছেন প্রদীপ। সেদিন আলোচনাপন্থী আলফা নেতা মৃণাল হজরিকা বাঙালিদের যে হুমকি দিচ্ছিলেন তার নিন্দা করে প্রদীপ বলেছিলন, বাঙালি এ ধরনের হুমকি কোনও দিন ভয় পায়নি, পাবেও না৷ বাঙলিরা সংযত, বিবেচক, ভদ্র। তা বলে ভীতু নয়। তাঁর সেদিনের সাংবাদিক সম্মেলেন খবর রাজ্যের টিভি চ্যানেলগুলিতে ঢালাও সম্প্রচারিত হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য সোশাল মিডিয়ায়ও ব্যাপক শোরগোল তুলেছিল। এর পর দিশপুর থানায় গত শুক্রবার উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন অভিযোগ তুলে প্রদীপের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন জনৈক ব্যক্তি। হিন্দুস্থান সমাচার / অমল / এসকেডি/ কাকলি
image