Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, नवम्बर 20, 2018 | समय 13:15 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

ভূপেন হাজরিকা প্রদর্শিত সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 5 2018 8:06PM
ভূপেন হাজরিকা প্রদর্শিত সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর
গুয়াহাটি, ৫ নভেম্বর, (হি.স.) : সংঘাত নয়, শান্তি সম্প্রীতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই জাতির বিকাশ সম্ভব। ভুপেন হাজরিকা শান্তি, সম্প্রীতি, সমন্বয় ও মানবপ্রেমের বার্তা দিয়ে গিয়েছেন। আমাদেরও সমাজে একত্রিত হয়ে, তাঁর আদর্শ অবলম্বন করে এগিয়ে যেতে হবে। ভূপেন হাজরিকার সপ্তম প্রয়াণ তিথি উপলক্ষে আজ সোমবার জালুকবাড়িতে অবস্থিত সুধাকণ্ঠের সমাধিস্থলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করে এভাবেই সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। সাংস্কৃতিক অধিকরণের উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে সুধাকণ্ঠকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে আজ। রাজ্যের সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী নবকুমার দলে, সাংসদ বিজয়া চক্রবর্তী, মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস উপদেষ্টা হৃষিকেশ গোস্বামী,, মুখ্যমন্ত্রীর আইন উপদেষ্টা শান্তনু ভরালি, বিধায়ক রমেন্দ্রনারায়ণ কলিতা, জ্যোতি চিত্রবন ফিল্ম সোসাইটির অধ্যক্ষ পবিত্র মার্ঘেরিটা, প্রয়াত ড. ভূপেন হাজরিকার দুই ভাই নৃপেন হাজরিকা ও সমর হাজরিকা-সহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংঘাত নয়, সমন্বয়ই একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে। সুধাকন্ঠ ভূপেন হাজরিকা তাঁর স্বরচিত গানের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি, সমন্বয়, সৌভ্রাতৃত্ব ও মানবপ্রেমের বার্তা দিয়েছিলেন। আমাদেরও তাঁর প্রদর্শিত পথে একত্রিত হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ভূপেনদার সংগীত আমাদের প্রেরণা প্রদান করে। তিনি আমাদের মধ্যে রয়েছেন এবং থাকবেন। মানুষ মানুষের জন্য, এই বার্তা তিনি আমাদের দিয়েছিলেন। সুধাকণ্ঠের সমন্বয়ের বার্তা সবাইকে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সনোয়াল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভূপেন হাজরিকার স্মৃতি রক্ষার জন্য সরকার চেষ্টা করছে। সেজন্য কাজিরঙা ও কলকাতায় ভূপেনদার বাড়ি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এছাড়া তিনসুকিয়ার ধলা-শদিয়া সেতুও তাঁর নামে উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পীর স্মৃতি রক্ষায় সেতুর কাছে একটি সমন্বয়ক্ষেত্র নির্মাণ করা হবে বলে আজ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সমন্বয় ক্ষেত্ৰে সংরক্ষণ করা হবে উত্তরপূর্বের সব জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি। সোমবার ভূপেন হাজরিকার সমাধিস্থলে একটি সংগ্রহশালারও উন্মোচন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতে ৩০০-এর বেশি সুধাকণ্ঠের আলোকচিত্র রয়েছে। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক দফতরের মন্ত্রী নবকুমার দলে বলেন, অসমের জাতীয়জীবনে আবেগ, অনুভূতির সঙ্গে ভূপেন হাজরিকা জড়িয়ে আছেন। তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করে তিনি বলেন, সুধাকন্ঠ তাঁর শব্দধ্বনী ও জাদুর মায়ায় জগতকে মোহিত করেছিলেন। প্রবহমান ব্রম্মপুত্রের মতোই সুরের মায়াজালে তিনি সবাইকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের কাছে তিনি চিরসবুজ হয়ে থাকবেন। এই যাযাবর শিল্পীর স্মৃতি রক্ষার জন্য সরকারি তরফে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কলকাতার টালিগঞ্জে সুধাকণ্ঠের বাড়ি কিনে নিয়েছে অসম সরকার। সেখানে তাঁর স্মৃতি রক্ষায় সংরক্ষণশালা তৈরি করা হবে। ওই বাড়িকে সংস্কারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করবে রাজ্য সরকার। আজ সকাল থেকেই ভূপেন হাজরিকার নিজের কণ্ঠে গাওয়া স্বরচিত গানে মুখরিত হয়ে ওঠে সমাধিস্থল। আজকের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের সঙ্গে ছিলেন, সংস্কৃতিক পরিক্রমা দফতরের কমিশনার-সচিব প্রীতম শইকিয়া, কামরূপ মহানগরের জেলাশাসক বীরেন্দ্র মিত্তাল প্রমুখ। এদিকে গুয়াহাটিতে ড. ভূপেন হাজরিকা স্মৃতি রক্ষা সমিতি কর্তৃক পৃথকভাবে ভূপেন হাজরিকাকে শ্রাদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বহু বিদ্যালয়ে ভূপেন হাজরিকার গানে নৃত্য ও গীত পরিবেশন করা হয়েছে। অন্যদিকে, মহানগরের দীঘলিপুখুরি পাড়ে সংস্থাপিত ড. ভূপেন হাজরিকার পূর্ণাবয়ব প্ৰতিমূৰ্তিতে শ্ৰদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে সারা অসম ছাত্র সংস্থা (আসু)। আসু-র মুখ্য উপদেষ্টা সমুজ্বলকুমার ভট্টাচাৰ্য, সভাপতি দীপাংককুমার নাথ, সম্পাদক লুরিনজ্যোতি গগৈরা প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেছেন। এছাড়া সন্ধ্যায় দীঘলিপুখুরি পাড়ে ভূপেন হাজরিকার প্ৰতিমূৰ্তিস্থলে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্ৰছাত্ৰী, বিশিষ্ট নাগরিক, সাধারণ জনতা ১০ হাজার প্রদীপ প্ৰজ্বলন করে সুধাকণ্ঠের প্রতি গভীর শ্ৰদ্ধাঞ্জলি জানানোর পাশাপাশি তাঁর কালজয়ী গান পরিবেশন করেছেন। জেলা গ্রন্থাগারেও এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে, নুনমাটির অসম জাতীয় বিদ্যালয়েও সুধাকণ্ঠের মৃত্যুতিথি উপলক্ষে ভূপেন্দ্ৰ সংগীত প্ৰতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল নয়টা থেকে স্কুলের ছাত্ৰছাত্ৰীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই প্ৰতিযোগিতা। তাছাড়া, নিউ গুয়াহাটি সৰ্বজনীন পূজা সমিতির উদ্যোগে সন্ধ্যায়া ছয়টা থেকে সুধাকণ্ঠের মৃত্যুতিথি উপলক্ষে বিশেষ শ্ৰদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোটা রাজ্যেই আজ প্রয়াত ভূপেন হাজরিকার সপ্তম প্রয়াণদিবস উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর মুম্বাইতে ৮৫ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটেছিল প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী ড. ভূপেন হাজরিকার। হিন্দুস্থান সমাচার / দেবযানী / এসকেডি / কাকলি
image