Hindusthan Samachar
Banner 2 सोमवार, नवम्बर 19, 2018 | समय 20:48 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

৭০ বছরে লেক কালীবাড়ি বেড়ার ঘর থেকে পাকা দালান

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 5 2018 8:27PM
৭০ বছরে লেক কালীবাড়ি বেড়ার ঘর থেকে পাকা দালান
কলকাতা, ৫ নভেম্বর (হি.স.): কাল কালীপূজা । আলোর উৎসবে মাতোয়ারা গোটা শহর । দুর্গাপুজোর পরে প্রায় পনেরো দিন কাটিয়ে আবার সাজো সাজো রব শহরতলিতে । দক্ষিণ কলকাতার লেক কালীবাড়িতেও তার অন্যথা হয়নি । লেক কালী বাড়ি গিয়ে দেখা গেল ব্যস্ততা তুঙ্গে । যেন মেয়ের বিয়েতে ব্যস্ত গোটা বাড়ি । আর কনে, সেতো সাজগোজ করতেই ব্যস্ত । ফিরে যাওয়া যাক ৭০ বছর আগে । তখন দক্ষিণ কলকাতায় এত জন বসতি ছিল না । এলাকাটা ছিল জল জঙ্গলে ভরা । ১৯৪৯সালে ১৩ এপ্রিল হরপ্রসাদ চক্রবর্তী প্রথম শুরু করেন পুজো । সন্ন্যাসী হরপ্রসাদ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে এখন যেটা লেক কালী বাড়ি, সার্দান আভিনিউয়ের ধারে সেখানে এসে প্রথম শুরু করেন কালি পুজো । মৃন্ময়ী রূপে তখন পুজিতা হতেন মা । পুজো শেষে এক বুক কষ্ট নিয়ে তাঁকে বিসর্জন দিতেন হরপ্রসাদ চক্রবর্তী । বেশ কয়েক বছর এমন চলার পর ধীরে ধীরে ভক্ত সমাগম হতে শুরু করল । একজন ভক্ত একবার বললেন মাকে স্থায়ীরূপে প্রতিষ্ঠা করার জন্য । সাধ থাকলেও সাধ্য ছিলনা তখন । নিত্য পুজো করার মত সামর্থ্য ছিলনা তাঁর । সেই সময় স্বপ্নাদেশ পান তিনি । মা তাঁকে স্বপ্নে ভরসা জুগিয়ে বলেন, তাঁর নিজের উপাচার সে নিজেই জোগাড় করে নেবে । এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয় করুনাময়ী কালী । বর্তমানে কষ্টি পাথরের মূর্তিতে পুজো হয় করুনাময়ী । মন্দিরটির পোষাকি নাম শ্রীশ্রী ১০৮ করুণাময়ী কালীমাতা মন্দির । ২০০২ সালে মন্দিরটি সংস্কার শুরু হয় । ২০১৩ সালের মধ্যে মন্দিরটি একটি বিশাল মন্দিরে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে । ছোট্ট বেড়ার ঘর থেকে আজ দোতলা পাকা মন্দির পুরোটাই হয়েছে মায়ের আশীর্বাদে এমনই দাবী মন্দিরের সেবক দেবতোষ চট্টোপাধ্যায়ের । আটজন পুরোহিত রোজকার পুজো করেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে । কাল রাত দশটা থেকে শুরু হবে পুজো চলবে সারা রাত । কাকভোরে হয় অঞ্জলি । লেক কালীবাড়িতে আগে পশুবলি হলেও সে চল বন্ধ হয়েছে আজ প্রায় ১৫বছর হল । এখন আখ, আর চালকুমরো দেওয়া হয় বলি । পুজোর রাতেই হয় প্রতিমার প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও চক্ষুদান । পুজোর পরের দিন হয় ভোগ বিতরণ ও নারায়ণ সেবা । লেক কালীবাড়ি কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, স্বপ্নাদেশ পেয়ে হরিপদ ওই কালীবাড়ির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি নিজে তান্ত্রিক ছিলেন । এখনও কালীমূর্তির পাশে তাঁর আসন রাখা রয়েছে । প্রতিষ্ঠাতা হরিপদ চক্রবর্তীর কারণেই ওই কালীবাড়ির এতো সুনাম । ক্রমশ ওই কালীবাড়ি শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে গিয়েছে । হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী / হীরক
image