Hindusthan Samachar
Banner 2 गुरुवार, नवम्बर 22, 2018 | समय 16:08 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

দীপাবলীতে কালীঘাটে মা কালী পূজিতা হন লক্ষ্মীরূপে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 5 2018 9:39PM
দীপাবলীতে কালীঘাটে মা কালী পূজিতা হন লক্ষ্মীরূপে
কলকাতা, ৫ নভেম্বর (হি.স.) : দ্বীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে কালীঘাটে কালীপুজো হয় না, হয় ধনলক্ষ্মীর আরাধনা। মা দক্ষিণেশ্বরী এই বিশেষ দিনে পূজিতা হন লক্ষ্মীরূপে। প্রাচীন শাস্ত্রীয় রীতি মেনেই কালীঘাটের মন্দিরে মাকে ''কালীরূপে'' পুজো না করে ''ধনলক্ষ্মী'' রূপে পুজো করাই রীতি প্রাচীন কাল থেকেই যা হয়ে চলেছে, তা আজও বিদ্যমান। সোমবার কালী পুজোর আগেরদিন মাতৃ আরাধনার প্রস্তুতি চলছে কালীঘাট মন্দির চত্বরে| মন্দিরের সেবাইত মঙ্গলময় হালদার বলেন, সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম কলকাতার কালীঘাট মন্দিরের মা শুধুই ত্রিনয়নী কৃষ্ণবর্ণা দেবীমূর্তি নন, ভক্তজনের নিত্যদিনের মা ইনি। তিনি জীবনদায়ী ফলদায়ী মাতা রূপেই বেশি পরিচিত। দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে কালীঘাটের মহাকালীকে পুজো করা হয় লক্ষ্মীরূপে। কালী নয়, লক্ষ্মীকেই মূর্তির মধ্যে প্রত্যক্ষ করার রীতি এই শক্তিপীঠে। সারারাত ধরে মা লক্ষ্মীর আরাধনা চলে। তারা আরও জানান, এদিন দেবীর নিত্যপুজোর রোজনামচায় কোনও পরিবর্তন হয় না। ভোরে দেবীকে জাগিয়ে মঙ্গলারতি করা হয়। দুপুরবেলা দেবীকে রাজবেশে এনে আরতি করে ভোগ দেওয়া হয়। ভোগ হিসেবে থাকে- বেগুনভাজা, পটলভাজা, কপি, আলু ও কাঁচকলা ভাজা, থাকে ঘিয়ের পোলাও, ঘি ডাল, শুক্তো, শাকভাজা, মাছের ঝোল বা মাছের কালিয়া, পাঁঠার মাংস, চাটনি, চালের পায়েস এবং মিষ্টি। কিন্তু সন্ধ্যা থেকেই ভোগের উপাচারে ঘটে পরিবর্তন। সন্ধ্যেবেলায় কালীমূর্তিকেই লক্ষ্মীপুজো করা হয় কালীঘাটে। অসংখ্য পাটকাঠি জ্বেলে মন্দিরকে তিনবার প্রদক্ষিণ করার পর শুরু হয় দীপান্বিতার রাতে মায়ের রাত্রিকালীন পুজো। রাতে কিন্তু আমিশ ভোগ হয় না, নিরামিশ ভোগ দেওয়া হয় মাকে। প্রথমে নারায়ণের ভোগ দিয়ে, মায়ের হাত মুছে লুচি,আলুভাজা, বেগুনভাজা, জ্বাল দেওয়া দুধ, ছানার সন্দেশ, রাজভোগ দেওয়া হয়। শুধু লক্ষ্মীরূপে পুজোই নয়, ভোগের আয়োজনও হয় লক্ষ্মীপুজোর মতই। লক্ষ্মীপুজোতে যা যা নিবেদন করা হয়, সেসবই এদিন কালীঘাটের দক্ষিণেশ্বরী মাকে নিবেদন করা হয়। মাকে গাওয়া ঘিয়ের ফুলকো লুচি, পাঁচরকম ভাজা এবং মিষ্টি সহযোগে ভোগ দেওয়া হয়। এই শীতল ভোগের সঙ্গে সংযোজন করা হয় নারকেল নাড়ু, গুড় মাখানো খই, কদমা, বাতাসা, তিলের নাড়ু। বছরের অন্যান্যদিনের মতই মা কালী দু''বার রাজবেশে সজ্জিত করা হয়। কিন্তু দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে মাকে ''রাজরাজেশ্বরী মাতা'' বলে মনে হয়। এমন শাড়ি বাছাই করা হয় যা তাঁকে সমৃদ্ধ করে তোলে অঙ্গসজ্জায়। লাল বেনারসী, জরিপাড়ের শাড়িতে সিঁদুর পরিয়ে ''রাজবেশ'' ধারণ করানোর পর মোহময়ী হয়ে ওঠেন মা কালী। সোনার গয়নার ঐশ্বর্যশালী মায়ের মূর্তি এদিন আরও বেশি করে সেজে ওঠেন ফুলের সজ্জায়। ঝুমকো ফুলের মালায় সাজেন মা কালী। রাতে পুজো শেষে বিশেষ ভোগ দেওয়ার ও রীতি রয়েছে তাতে দেওয়া হয় পোলাও, ঘি ভাত,পাঁচরকম ভাজা, চচ্চরি, মাছ, পাঠার মাংস, মিষ্টি প্রভৃতি। কালীঘাট মন্দিরের সেবায়েতরা আরও জানান, এখানে দুর্গাপুজোর সময়ও মাকে ন''দিন ধরে দুর্গারূপে পুজো করা হয়। মহালয়া থেকেই শুরু হয় সেই পুজো। ন''দিন ধরে চলা এই পুজোয় ফুল, আলতা, সিঁদুর, লালপলা প্রভৃতি নিবেদন করা হয় মাকে | হিন্দুস্থান সমাচার / মৈত্রেয়ী / হীরক/ সঞ্জয়
image