Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, नवम्बर 17, 2018 | समय 09:49 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

আসল জবার চাহিদা মেটাচ্ছে ‘প্লাস্টিকের জবার মালা’

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 6 2018 5:15PM
আসল জবার চাহিদা মেটাচ্ছে ‘প্লাস্টিকের জবার মালা’
কলকাতা, ৬ নভেম্বর (হি.স.): জবা ফুল ও মা কালী যেন একে অপরের পরিপূরক । দুজনই অসম্পূর্ণ পরস্পরকে ছাড়া । কিন্তু প্রয়োজন মত জবাফুল যোগাতে না পেরে ভরসা করতে হচ্ছে সেই কৃত্রিম ফুলেই । অপারগ হয়ে প্লাস্টিকের জবা ফুলই চড়াতে হচ্ছে মায়ের পায়ে । কালীপুজোতে শুধু রাজ্যেই জবা ফুলের চাহিদা থাকে এক কোটি । কিন্তু যোগান দেবে কিভাবে এত ফুলের । তাই বাধ্য হয়েই প্লাস্টিকের ফুলের মালা সমর্পণ করতে হচ্ছে মাকে। এছাড়াও যথেষ্ট পকেট সুলভ এই নকল ফুলের মালার । ১০৮ জবা ফুলের মালার দাম পুজোর দিন যেখানে কম করে ১২০ টাকা, সেই সাইজের প্লাস্টিকের মালা বিকোচ্ছে ৭০ টাকাতেই । ফলে আসল ফুলের খোঁজে না গিয়ে পকেট বাঁচিয়ে নকলেই খুশি বারোয়ারি থেকে গেরস্থ । মূলত হাওড়ার বাগনান, কোলাঘাট, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর, পূর্ব মেদিনীপর, নদিয়া থেকেই ফুল আসে জগন্নাথ ঘাটের ফুলবাজারে । তারপরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তা নিয়ে যাওয়া হয় । এক ফুল চাষি জানান, পুজোর সময় থেকেই দাম বাড়তে শুরু করে ফুলের । কোনও ফুলের দাম বেশি হারে বাড়ে আবার কিছু ফুলের দাম অল্প বাড়ে । বিভিন্ন জায়গায় যে মাল্টিপারপাস হিমঘর রয়েছে সেখানেই রাখা হচ্ছে জবা । ব্যবসায়ীদের কথায়, এতদিন হিমঘরে রাখলে অনেক সময় ফুল পচে যায় । ফুল ব্যবসায়ীদের অকপটে স্বীকারক্তি, অনেক সময় অনেক দিন ধরে মজুত করে রাখার ফলে পচে যায় ফুল । তাই টাটকা মালা বিক্রি করে পঁচা ফুলের দামও তুলে নেওয়া হয় স্বভাবতই আগুন হয়ে থাকে ফুলের বাজার । সেক্ষেত্রে নকল ফুল কিছুটা মলমের কাজ করে । আজকের দিনে জবার চাহিদা মেটাতে এক সপ্তাহ আগে থেকেই ফুল তুলে হিমঘরে মজুত করেন ফুলচাষিরা । ফুলচাষিদের কথায়, আগে থেকে ফুল কিনে রাখলে লাভ অনেক বেশি । শুধু লাভই নয়, একদিনে এত জবার জোগান দেওয়াও সম্ভব হয় না। তাই ‘বাসি’ ফুলই বিকোয় সর্বত্র। যারা সেটাও পান না, তাঁদের প্লাস্টিকের জবাতেই ভক্তি নিবেদন করতে হয় । পরিবেশবিদদের কথায়, বিসর্জনের সময় প্রতিমার সাথে সাথে এই মালাও জলে ফেলা হয় । ফলে দূষণ ছড়ায় অতিরিক্ত । দশকর্মার দোকানে এই ছোট বড় কাগুজে মালা কেনার ভিড় উপচে পড়ল বাজারে । ফ্যান্সি অন্যরকমের মালা থাকলেও কালীপুজোয় প্লাস্টিকের জবার মালার চাহিদা অনেক বেশি । সাধারণ মানুষও জানেন এই ধরনের প্লাস্টিকের মালা ব্যবহার করা ঠিক নয় । তা সত্ত্বেও তো দোকানে তা বিক্রি হয় । মানুষ কেনে । এছাড়া যেহেতু এই ধরনের মালা সস্তায় পাওয়া যায় তাই সকলেই কেনে । বিশিষ্ট লেখক তথা পরিবেশকর্মী জয়া মিত্র বলেন,‘কৃত্রিমভাবে এই প্লাস্টিকের মালার চাহিদা তৈরি করা হচ্ছে । করছেন ব্যবসায়ীরা । আগেও তো কালীপুজো হত । তখন তো প্লাস্টিকের মালার প্রয়োজন পড়ত না । মানুষ হুজুগে চলে । এটাও তেমনই’ । সারা বাংলা ফুল চাষি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, ‘এই কালিপুজোর দিনে জবার চাহিদা থাকে প্রচুর । ফলে চাহিদা থাকলে দাম তো বাড়বেই । আর একদিন যে সংখ্যক ফুল ফোটে তা দিয়ে গোটা রাজ্যের প্রয়োজন পূরণ করা অসম্ভব। তাই আগে থেকে মজুত করতে হয়’। হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী / হীরক / কাকলি
image