Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, नवम्बर 20, 2018 | समय 13:39 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

কলকাতাবাসী এখন হাঁটছে ভূতেদের সঙ্গে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 6 2018 7:18PM
কলকাতাবাসী এখন হাঁটছে ভূতেদের সঙ্গে
কলকাতা, ৬ নভেম্বর (হি.স.): কলকাতায় এবার এল ভূত পর্যটন । যখন সবাই ডিনার সেরে ঘুমের দেশে তখন আরম্ভ হচ্ছে হাঁটা । যাকে বলা হয় ‘ঘোস্ট ওয়াক’। নিঝুম রাতে স্ট্রিট লাইটের টিমটিমে আলোয় তেনরা নির্ভয়ে হাঁটেন । এখন থেকে হাঁটতে পারেন আপনিও । সেই ব্যবস্থাই করেছে ''লেট আস গো’ এবং ‘সিক শেরপা’নামে দুটি সংস্থা । ভূত আছে কি নেই তা নিয়ে প্রশ্ন অনেক । কিন্তু এই শহরের হেরিটেজ বাড়িগুলোর অন্দরের ভূতুড়ে কাহিনি আজও রীতিমতো হট চকলেট । রাতের অন্ধকারে ইচ্ছুক সঙ্গীরা ডিনার সেরে তল্পিতল্পা বেঁধে গাইডের হাত ধরে ভূতের খোজে বেরতেই পারেন । শুধু কি আর হাঁটা । তেনাদের দর্শনলাভের আশাও । আক্ষরিক অর্থে চোখে দেখা যায় না হয় তো আবার মিলে যেতেও পরে দেখা । তবে, গাইডের মুখ থেকে মধ্য রাতে থমথমে পুরনো বাড়িতে আঁধারে তেনাদের কাহিনি শুনতে গা ছমছম করবে তো বটেই । কোথাও গার্স্টিন প্লেসের পিয়ানোর আওয়াজ । আবার কোথাও স্টেটসম্যান হাউসের পায়ের শব্দ । কারও মনে হবে, এই বুঝি কেউ হেঁটে গেল পাশ দিয়ে । এমনই সব হাড় হিম করা অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরেন ঘোস্ট ওয়াকের অংশগ্রহণকারীরা ।এইসব ভূতুড়ে কাহিনীর উপর ভর করে রুজিরুটি অনেকের । কলকাতার গার্স্টিন প্লেস, রাইটার্স বিল্ডিং, হগ মার্কেট, হেস্টিংস হাউস, জিপিও, স্টেটসম্যান হাউসের মতো শহরের পুরনো বাড়িগুলোর আনাচাকানাচে ছড়িয়ে আছে নানান ভুতুড়ে গল্প। সেইসব ভূতুড়ে গল্প বলতেই শহরবাসীকে হাঁটাবেন‘লেট আস গো’-র মতো সংস্থা । রাত এগারোটা থেকে ভোর সাড়ে তিনটে-চারটে পর্যন্ত চলে এই হাঁটা । ‘ঘোস্ট ওয়াক’ করাতে গিয়ে ভূতুড়ে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল ঘোস্ট ওয়াকের গাইড অ্যান্টনি খাচাটুরিয়ানকে । তিনি জানান, ''একবার ঘোস্ট ওয়াক করাচ্ছি । গার্স্টিন প্লেসে নিয়ে গিয়েছিলাম, যেখানে আগে অল ইন্ডিয়া রেডিওর অফিস ছিল । বলছিলাম পিয়ানোর শব্দ শোনার কথা । বলার সঙ্গে সঙ্গেই দেখলাম দুজন মহিলা খুব ভয় পেয়ে গেলেন । বললেন যে, কিছুক্ষণ আগেই নাকি ওঁরা পিয়ানোর আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন । কিন্তু জানতেন না এ কাহিনী যখন বললাম পিয়ানোর কথা, তখন তা বুঝতে পেরেই খুব ভয় পেয়ে গেলেন । প্রায় কেঁদে ফেলেছিলেন । তবে তাঁদের সঙ্গের বাকিরা কেউ শুনতে পাননি সেই শব্দ''। লেট আস গো’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা দেবরাজ ভট্টাচার্য জানান ''প্রথম প্রথম ঘোস্ট ওয়াক শুরু করেছি । হাইকোর্টের কাছে গিয়েছিলাম । হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গাছের তলায় দাঁড়ায় সবাই । এমন সময় আমাদের দলের একজন হঠাৎ চিৎকার করে গাছের তলা থেকে বেরিয়ে এলেন । বললেন, তাঁর গায়ে নাকি পিছন থেকে কেউ ফুঁ দিয়েছে''। ভূতে রীতিমত বিশ্বাস করেন ‘ঘোস্ট প্যারানর্মাল অ্যাক্টিভিস্ট’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সায়ন কুমার দে । তিনি জানান ,বাগবাজারে চক্ররেল স্টেশনের কাছে একটা পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে, সেখানে আমরা পজিটিভি রেজাল্ট পেয়েছিলাম । শোভাবাজারে একটা বাড়িতেও পেয়েছিলাম । তবে ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে কিছু পাইনি । ইচ্ছে আছে আরেকবার যাওয়ার । সাউথ পার্ক স্ট্রিট গোরস্থানেও কিছু পাইনি'' । ঘোস্ট ওয়াকে গিয়ে গা ছমছম করলেও আবারও যেতে চান ব্যাঙ্কে কর্মরত সুদেষ্ণা ঘোষ । তিনি জানান, ''খুব ভাল লেগেছিল, খুব উপভোগ করেছি । রাতের বেলায় কলকাতাকে অন্যরকম লাগে । দিনের বেলায় ওই জায়গাগুলোতে গেলে যেরকম মনে হয়, রাতের বেলায় ছবিটা পুরো অন্য । তাছাড়া যেভাবে ইতিহাস বলা হয়, তা শুনতে বেশ লাগে । ভয় তো একটু লাগেই, গা ছমছম তো করেই । বিশেষত গার্স্টিন প্লেসে বেশ ভয় লেগেছিল। তবে সুযোগ হলে আবার যাব'' । ভূত আছে নাকি নেই তা নিয়ে তর্ক চলবেই , কিন্তু ভূতকে ঘিরে এ ধরনের ওয়াক যে পর্যটন শিল্পের পক্ষে ভাল । আসলে এই ওয়াকে কলকাতার পুরনো বাড়ির ইতিহাস বলা হয় । আর সেইসব বাড়িকে ঘিরে যেসব ভৌতিক কাহিনি রয়েছে তা শোনানো হয় । ৬০ শতাংশ থাকে কলকাতার ইতিহাস, আর ৪০ শতাংশ ভূতুড়ে কাহিনী । তবে জনা যাচ্ছে এই ভূত পরিদর্শনে পুরুষের থেকে মহিলাদের সংখ্যাই বেশী । তবে কি পুরুষরা ভুতে ভয় পাচ্ছে,তা অবশ্য বোঝা যাবে ঘোস্ট ওয়াকের মাধ্যমেই । হিন্দুস্থান সমাচার / পায়েল / হীরক / কাকলি
image