Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, नवम्बर 17, 2018 | समय 09:49 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

(লিড) রাজ্য জুড়ে চলছে শক্তির আরাধনা

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 6 2018 9:56PM
(লিড) রাজ্য জুড়ে চলছে শক্তির আরাধনা
কলকাতা, ৬ নভেম্বর (হি.স.): আজ কালীপুজো । তিথি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে পড়ছে অমাবস্যা । কার্তিক মাসের এই অমাবস্যা চলবে বুধবার পর্যন্ত । ফলে এবার মঙ্গল-বুধ দু-দিনই চলবে কালীপুজো । এবার কালীপুজো এবং দীপাবলি ২ দিন হওয়ায় উৎসব দীর্ঘায়িত হয়েছে । ভাইফোঁটা পিছিয়ে গেছে শুক্রবার । তাই নভেম্বরের লম্বা ছুটি শুরুই হল এদিন কালীপুজো দিয়ে । মঙ্গলবার সারারাতের এই শক্তি আরাধনায় এদিন সকাল থেকেই তৈরি গোটা শহর । বিকেল সন্ধ্যার দিকে গড়াতেই শহর সেজেছে আলোর মালায় । দুর্গাপুজোয় শহরতলি থেকে ঠাকুর দেখতে লোক কলকাতায় এলেও এদিন রাতে কালী প্রতিমা দর্শনে মানুষজন ছুটেছেন বারাসাত বা নৈহাটিতে । তাই বলে কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল নেই ভাবা ভুল হবে । শহর কলকাতার বড় বড় কালীপুজোর উদ্বোধন হয়ে গেছে গত সপ্তাহের শেষেই । কালীপুজোর দিন সকালে প্রায় সব মণ্ডপই তৈরি । সর্বত্রই ঝলমল করছে কালী প্রতিমা । সকালে কলকাতার অভিমুখ ছিল দক্ষিণেশ্বর বা কালীঘাটের মত বিখ্যাত মন্দির গুলোর দিকে । রাত বাড়তেই ভিড় বেড়েছে মন্ডপে মন্ডপে । উত্তর কলকাতার বিখ্যাত দুই মন্ডপ সোমেন মিত্রের কালীপুজো এবং ফাটাকেষ্টর কালীপুজো মণ্ডপের মাতৃপ্রতিমা দর্শনে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত । কলকাতা ছাড়াও বারাসাত, নৈহাটী, বীরভূমেও বিভিন্ন পীঠ ও মন্দিরে শান্তি এবং শক্তির আরাধনা চলেছে গভীর রাত পর্যন্ত এবং রাত বাড়ার সাথে সাথে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। কালীপুজোকে ঘিরে দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বর সাজিয়ে তোলা হয়েছে আলোকমালায়। আলোর উৎসবে আলোকিত এই দেবালয় সকাল থেকেই ভক্তসমাগমে জমজমাট। লক্ষ্য বিশেষ দিনে মায়ের দর্শনে পুণ্যার্জন। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য উপচে পড়ছে ভিড়। প্রতি বছরের মত এবারেও ভোর থেকেই ভক্তরা ভিড় জমিয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণে। মন্দিরের বাইরে লম্বা লাইন। এবারের বাড়তি আকর্ষণ স্কাইওয়াক| এবারও ভক্তদের পুজো দর্শনের জন্য মন্দির চত্বরে বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। ভক্তদের ঢল আটকাতে ব্যারিকেডের বহরও বাড়ানো হয়েছে। মন্দির চত্বরের বাইরে পুলিশ ফাঁড়িতে বসছে বিশেষ কন্ট্রোলরুম। নিরাপত্তা বজ্র আঁটুনি রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশের পাশাপাশি গঙ্গায় থাকছে পুলিশের স্পিড বোট। এই দিনটিতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এই কালীমন্দিরে আসেন মাকে দর্শন করতে। রাতভর ভক্তরা থাকেন কালীপুজো দেখার জন্য। পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ সকালে ব্যারাকপুর পুলিশের কমিশনার নিজে মন্দির চত্বর ঘুরে দেখেছেন। অন্যদিকে, স্কাইওয়াকেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রচুর নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন মন্দির চত্বরে। গ্রাম থেকে আসা দর্শনার্থীদের যাতে স্কাইওয়াকে চড়তে কোনও অসুবিধা না হয়, তার দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে| বেলা যত বাড়ছে, ভিড় ততই বাড়ছে। আজ লাইন এতটাই বেশি কারও কারও পুজো দিতে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লেগে গেছে। তবে এইবছর স্কাইওয়াকের জন্য দর্শনার্থীদের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো। কলকাতায় এবছর ৩২৬১টি পুজো হচ্ছে । শব্দবাজি যাতে না পোড়ে, এজন্য আজ রাতে শহরের গলির ভেতরে সাইকেলেও টহল দেবে পুলিশ । এছাড়াও ছোট ছোট রাস্তায় অটো নিয়েও চলবে নজরদারি । ৫২টি থানাকে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স । ঠনঠনিয়া, লেক, কালীঘাট এবং করুণাময়ী কালীবাড়িতে বহু মানুষ পুজো দিতে যান । এই জায়গাগুলিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । তাই, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই পুলিশের বিশেষ নজর অলিগলি ও বহুতলের ছাদের দিকে । শহরের বহুতলগুলোর ছাদে যাতে রাত দশটার পর আতশবাজি কেউ না ফাটান, তার জন্য যেমন বেশ কিছু বহুতলের ছাদকেই ‘ওয়াচ টাওয়ার’ হিসাবে ব্যবহার করবে পুলিশ । তেমনই শহরের অলিগলি ও অপরিসর রাস্তায় বাইক ও অটো করে চলবে টহলদারি । পুলিশের নিজস্ব বাইক বাহিনী তো রয়েছেই, দু’দিনের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে অটোও । শব্দবাজিই শুধু নয়, এবার আতশবাজির উপরও নজর রয়েছে পুলিশের । কলকাতা পুলিশের কর্তারা জানিয়েছেন, যেভাবে পুলিশ প্রত্যেক বছর শব্দবাজি দাপট নিয়ন্ত্রণে রাখে, সেভাবেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো,রাত ৮টা থেকে ১০টার বাইরে কোনওভাবেই আতশবাজিও পোড়াতে দেওয়া হবে না । কলকাতা ছাড়া রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও থাকছে কড়া নজরদারি। যে সমস্ত এলাকায় প্রতিমাকে সোনার গয়না বেশি পরানো হয়, কলকাতার এরকম ২৬টি জায়গায় বিশেষ নিরাপত্তা থাকছে । ৬১৮টি পুলিশ পিকেট, ১১৪টি অটোরিকশায় টহল দেবে পুলিশ । চলছে মেট্রোতেও নজরদারি । বুধবার থেকে কালী প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ৩৪টি ঘাটকে চিহ্নিত করা হয়েছে । কালী প্রতিমা ৭ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিসর্জন দেওয়া যাবে । থাকছে রিভার ট্রাফিক পুলিশের রেসকিউ টিমও ।‌ হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক/ কাকলি/ অশোক/ শ্রেয়সী
image