Hindusthan Samachar
Banner 2 बुधवार, नवम्बर 14, 2018 | समय 14:36 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

তুকতাকের অভিযোগে মারধর করে চুলকেটে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ ভাঙড়ে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 7 2018 3:34PM
তুকতাকের অভিযোগে মারধর করে চুলকেটে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ ভাঙড়ে
ভাঙড়, ৭ নভেম্বর (হি.স.) : তুকতাক ও তন্ত্রসাধনার অভিযোগ তুলে দুই মহিলাসহ মোট চারজনকে মারধর করে গ্রাম ছাড়া করার অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। মারধরের পাশাপাশি এক মহিলার মাথার চুল কেটে নেওয়া হয়েছে বলে ও অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড় থানার অন্তর্গত বোদরা গ্রামে। মূলত কুসংস্কারের উপর ভর করে এদেরকে মারধর ও চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে উল্টে আক্রান্তদের থেকে দশ হাজার টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভাঙড় থানার বিরুদ্ধে। বোদরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান মোল্লা নামে এক মেধাবী যুবক বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের দাবি বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে ও সুস্থ হচ্ছে না ওই যুবক। ফলে ছেলেকে সুস্থ করতে পরিবারের লোকজন এক গুনিনের দ্বারস্থ হয়। গুনিন জানায় কেউ তন্ত্র সাধনা করে তুকতাক করেছে রহমানের উপর। সেই গুনিনের কথা অনুযায়ী ওই যুবকের বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়ে একটি মাদুলি পাওয়া যায় বলে দাবি পরিবারের। সেই মাদুলির মধ্যে কাগজে এলাকার এক গৃহবধূ মেহেরুন্নেশা বিবি ও তার স্বামী সামসুদ্দিন খানের নাম লেখা ছিল। এরপর থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। সেই থেকেই ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে বিচার করতে এলাকায় সালিশি সভায় ডেকে নিয়ে গিয়ে তাদের মারধর করা হয় ও ওই গৃহবধূর চুল কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অসুস্থ আব্দুল রহমান মোল্লার পরিবার এবং সমস্ত গ্রামবাসী তাদের ওপর জোর দিতে শুরু করে। তাদেরকেই দোষী সাব্যস্ত করে চলে অত্যাচার। ঘটনার কথা শুনে ওই গৃহবধূর বোন ও ছেলে সেখানে গেলে তাদেরকে ও বেধড়ক মারধর করা হয়। গৃহবধূর দাবি তারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। তারা কোন তন্ত্র সাধনা করে না। তবুও জোর করে তাদের কে দোষারোপ করে মারধর করা হচ্ছে। আরও অভিযোগ অসুস্থ আব্দুর রহমান মোল্লা ও এলাকার লোকজন মিলে তার চুল কেটে নিয়েছে। যদিও এলাকাবাসীর দাবি তারা ডাক্তার দেখিয়ে যখন সুস্থ না হওয়ায় গুনিনকে দেখিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন তারা। এই ঘটনার সঙ্গে ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারের লোকজন যুক্ত প্রমানিত হওয়াতেই তাদেরকে সালিশি সভায় ডেকে নিয়ে জানতে চাওয়া হয় কেন তারা এমন করল? তারপর চলে মারধোর। পরে ভাঙড় থানার পুলিশ এসে উদ্ধার করে আক্রান্তদের। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে আক্রান্তদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধু এবং তার পরিবারের লোকজনদের কে মারধোরের কথা স্বীকার করে নেয় এলাকাবাসী। বিজ্ঞানের যুগে এমন ঘটনা সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই ঘর ছাড়া ওই পরিবার। এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। পুলিশের দাবী এ বিষয়ে কোন অভিযোগ হয়নি থানায়। অভিযোগ হলে ক্ষতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে।হিন্দু্স্থান সমাচার/প্রসেনজিত
image