Hindusthan Samachar
Banner 2 सोमवार, नवम्बर 19, 2018 | समय 20:48 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

শীত পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 9 2018 8:14PM
শীত পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি
কলকাতা, ৯ নভেম্বর (হি.স.): মেঘ কাটতেই তৈরি হয়েছে শীতের আমেজ । আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানায়, পূর্ব বিহার থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর থাকা নিম্নচাপ অক্ষরেখাটি আপাতত দুর্বল হয়ে পড়েছে । এজন্য আকাশ পরিষ্কার রয়েছে । ফলে, উত্তুরে হাওয়ার পথ সুগম হতেই এরাজ্যে ঢুকছে ঠান্ডা বাতাস । সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৯ ডিগ্রিতে । জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনাও নেই। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১৯ ডিগ্রির আশপাশে থাকবে । বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে । শুক্রবার আবহাওয়াবিদরা জানান, দক্ষিণ চিন সাগর থেকে তাইল্যান্ডের উপর রয়েছে একটি নিম্নচাপ । তবে তার প্রভাব কতটা আমাদের রাজ্যে পড়বে সেব্যাপারে নিশ্চিত নয় আবহাওয়া দফতর । আমাদের রাজ্যে সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শীত পড়ে । তার আগে এই শিরশিরে ভাবটাই স্বাভাবিক । কাজেই, এটাকে শীতের আগমন বার্তা বলে মনে করা যেতেই পারে । এ বছর অক্টোবর শেষ হতেই হেমন্তের আভাস মিলেছিল। ২৬ অক্টোবর আলিপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ২০ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে । নভেম্বর শুরুতে রাতে পারদ নামার সঙ্গে সঙ্গে হিমেল ভাবও মালুম হচ্ছিল । কিন্তু ঘূর্ণাবর্তের জেরে সেই পরিস্থিতি বদলে যায় । আসলে শীত নির্ভর করে উত্তুরে হাওয়ার উপর । উত্তুরে হাওয়ার গতি যত বাড়বে রাজ্যে শীতের দাপটও তত বাড়বে । তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের জন্য বিপরীত বায়ুপ্রবাহের জেরে বন্ধ হয় উত্তুরে হাওয়ার পথ । সমুদ্র থেকে গরম হাওয়া ঢুকে পড়ে স্থলভাগে । ফলে উত্তাপ বাড়তে থাকে। গত কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গের শীতের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে । যেমন, পড়শি রাজ্যের নিম্নচাপ অক্ষরেখার জেরে মেঘ ঢোকায় কালীপুজোয় পরেরদিন বৃষ্টির মুখ দেখেছে শহর ও শহরতলির বাসিন্দারা । আবহাওয়াবিদদের মতে, অক্টোবর-নভেম্বর মাস বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম । এই সময় সেখানে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলেই রাজ্যে ঢুকতে শুরু করে গরম জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস । চার বছর আগে হুদহুদ, নিলোফারের হানায় থমকে গিয়েছিল শীতের আমেজ । বছর তিনেক আগে ঠান্ডার রথে রাশ টেনেছিল অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আন্দামান সাগরে তৈরি দু’টি ঘূর্ণিঝড় ‘হেলেন’ এবং ‘লহর’। এ বছরও পুজোর সময় ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ বিস্তর ভুগিয়েছে । আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, বর্ষা বিদায় নিতেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায় । তার জেরে রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক বেশি তাপ বিকিরিত হতে পারে । সেই বেশি তাপ বিকিরণের ফলেই রাতের তাপমাত্রা দ্রুত হারে কমতে থাকে । শীত পড়ার জন্য এই তাপ বিকিরণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু, নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত হলে সেই প্রক্রিয়ায় বাধা পড়ে । তাঁদের কথায়, আকাশে মেঘ থাকলে দিনের তাপমাত্রা বাড়বে না। ফলে দিন-রাতের তাপমাত্রার ফারাক সেভাবে হবে না । শীত পড়ার ক্ষেত্রে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ফারাকটা বেশি হওয়া প্রয়োজন৷ পটভূমি প্রস্তুত । শীত পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে । এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা । শনিবার কলকাতার আকাশ থাকবে প্রধানত পরিস্কার । শুক্রবারও অবশ্য কলকাতার আকাশ ছিল পরিস্কার । আবহাওয়াবিদরা জানান, এদিন রাজ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস । স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রী কম । সর্বনিম্ন, ১৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস । স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রী কম । বাতাসে অপেক্ষিক আদ্রর্তার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৮৮ শতাংশ । সর্বনিম্ন, ৪০ শতাংশ । গত চব্বিশ ঘন্টায় কলকাতা ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয় নি । হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক
image