Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, जनवरी 19, 2019 | समय 15:35 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

বীরভূমের ধর্মঘটে তেমন সারা পড়ে নি

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 8 2019 9:35PM
বীরভূমের ধর্মঘটে তেমন সারা পড়ে নি
বীরভূম, ৮ জানুয়ারি (হি. স.) : কেন্দ্রের শ্রমিক নীতির বিরোধিতা করে দেশজুড়ে শুরু হল ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট। দেশের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকট, বেকারত্বসহ একাধিক দাবিতে দেশের দশটি শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রামপুরহাটে পাঁচমাথা মোড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে বনধ সমর্থকদের মিছিল আটকায় পুলিশ এবং তারই পরে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। রামপুরহাটের পাঁচমাথা মোড়ে বন্ধ সমর্থকেরা মিছিল করে এলে সেই মিছিল আটকায় পুলিশ এবং তারপর পুলিশের সাথে ধর্মঘট সমর্থনকারীদের বাঁধে হাতাহাতি, ধ্বস্তাধ্বস্তি। মহিলা সমর্থনকারীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ধর্মঘটকে সফল করতে একটি মিছিল প্রথমে রামপুরহাট সংলগ্ন রানীগঞ্জ মোড়গ্রাম জাতীয় সড়ক অবরোধ করতে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ জমায়েতের পর জাতীয় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে সেই জমায়েত তুলে দেয় এবং জাতীয় সড়ককে সচল করে। এরপর ওই মিছিলটি রামপুরহাট শহর প্রদক্ষিণ করার পর যখন পাঁচমাথা মোড়ে আসে তখন সেই মিছিলটিকে আবার আটকায় রামপুরহাট থানার পুলিশ। তারপরই ওই মিছিলে থাকা ধর্মঘট সমর্থনকারীদের সাথে বচসা বাধে রামপুরহাট থানার পুলিশের। সেই বচসা থেকে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বন্ধ সমর্থনকারীদের গায়ে হাত তোলার। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ১০ জন ধর্মঘট সমর্থনকারীকে আটক করে রামপুরহাট থানার পুলিশ। এই পাঁচমাথা মোড়েই ধর্মঘট সমর্থনকারীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তির সময় আহত হয় এক মহিলা পুলিশকর্মী। ধস্তাধস্তির সময় ওই মহিলা পুলিশকর্মীর হাতে কেউ কামড়ে দেয়।অন্যদিকে ধর্মঘটের সমর্থনের ওই মিছিলে থাকা মহিলা কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন ধর্মঘটের সমর্থকদের মিছিল আটকানোর জন্য পুলিশের কাছে ছিল না পর্যাপ্ত পরিমাণে মহিলা পুলিশ। মহিলা পুলিশ পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকা সত্বেও মহিলা ধর্মঘট সমর্থকদের গায়ে হাত দেয় পুলিশ।রামপুরহাটে বিভিন্ন এলাকায় ধর্মঘটকে ঘিরে এখনো উত্তেজনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গোটা শহর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বন্ধ সমর্থকেরা। যদিও প্রশাসনের তরফ থেকে গোটা শহর জুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।বীরভূমের সব থেকে বড় শিল্পাঞ্চল হল পাঁচামি পাথর শিল্পাঞ্চল। মহঃবাজার এলাকায় রয়েছে এই বড় পাথর শিল্পাঞ্চলটি। এই শিল্পাঞ্চল থেকে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার গাড়ি পাথর বোঝাই করে চলে যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে। এখানকার শিল্পের উপর নির্ভর করে দিন কাটে অজস্র শ্রমিকের। বাম ও কংগ্রেসের জোটের ডাকা শ্রমিকদের স্বার্থে ৪৮ ঘণ্টার ভারতবর্ষের প্রভাব কতটা ফেলল শিল্পনির্ভর মহঃবাজারের এই পাঁচামি শিল্পাঞ্চল এলাকায় সেটাই দেখার বিষয়।কেন্দ্রের শ্রমিক নীতির বিরোধিতা করে দেশজুড়ে শুরু হল ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট। দেশের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকট, বেকারত্বসহ একাধিক দাবিতে বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।বন্ধকে সফল করতে সকাল থেকেই রাজ্য জুড়ে জেলাগুলিতে দফায় দফায় বের হয় সমর্থকদের মিছিল। ধর্মঘট শুরু হওয়ার সাথে সাথে রামপুরহাটে রামপুরহাটের বিভিন্ন অফিস, রেলস্টেশনে বামফ্রন্টের পতাকা লাগিয়ে বন্ধ সফল করার চেষ্টা চালানো হয়। ভোর বেলাতে রামপুরহাট স্টেশনে ধর্মঘট সমর্থনকারীরা জড়ো হয়ে বিশ্বভারতী এবং আজিমগঞ্জ ট্রেন আটকানোর চেষ্টা করে। যদিও রেল পুলিশের তৎপরতায় ট্রেন চলাচলে ব্যাহত হয় নি। আর এ রকমই শ্রমিকদের নিয়ে চলা মহঃবাজারের পাঁচামি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে ডাকা এই ধর্মঘটের কোনও রকম প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে দাবি এলাকার তৃণমূল ব্লক সভাপতি তাপস সিনহার। পাঁচামি শিল্পাঞ্চল ধর্মঘটের দিনেও সচল বলেই দাবি করেন তিনি।তৃণমূল ব্লক সভাপতি তাপস সিনহা বলেন, "আমাদের এখানে বন্ধের কোনও প্রভাব পড়েনি। কারণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন বন্ধ ডাকলেও রাস্তাঘাট বাস গাড়ি শিল্পাঞ্চল সব সচল থাকবে। পাঁচামি যা বীরভূমের অন্যতম শিল্পাঞ্চল। সেখানে এই মুহূর্তে সমস্ত ক্যাসার খোলা আছে, সমস্ত শ্রমিকরা কাজ করছে।" ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা রামপুরহাটে। রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌমজিৎ বড়ুয়ার কলার ধরে টান বাম কর্মীদের। কলার ধরে টানলেন মহিলা বামকর্মী। বন্ধ করা হলো তৃণমূল পরিচালিত রামপুরহাট পৌরসভার দরজা।কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বিরোধিতা করে দুদিন ব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। আজ প্রথম দিনের ধর্মঘটে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়ালো রামপুরহাটে। বাম এবং কংগ্রেস সমর্থকরা একত্রিত হয়ে রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড় অবরোধ করে। সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। অবরোধ তুলতে যায় পুলিশ, অবরোধ তুলতে গেলে ধর্মঘট সমর্থনকারীদের সাথে পুলিশের বচসা শুরু হয়। সৌমজিৎ বড়ুয়া অবরোধকারীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলে, হঠাৎই ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় তার সাথেও। জামার কলার ধরে টানাটানি করা হয় তাঁকে। ঘটনার পরই ১০ জন ধর্মঘট সমর্থনকারী বাম এবং কংগ্রেস কর্মীকে আটক করে রামপুরহাট থানার পুলিশ। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে রামপুরহাট পৌরসভায় তালা মেরে দেয় ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। দরজার সামনে লাগিয়ে দেওয়া হয় বামফ্রন্টের পতাকা। সাথে সাথেই তালা বন্ধ করা হয় স্টেট ব্যাংকের একটি শাখাতেও। ধর্মঘট সমর্থনকারী বাম এবং কংগ্রেস মহিলা কর্মীদের অভিযোগ কোন মহিলা পুলিশ ছাড়াই পুরুষ পুলিশ দিয়ে মহিলাদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে। মহিলাদের গায়ে হাত দিয়েছে পুরুষ পুলিশরা।কিছুক্ষন ধস্তাধস্তি চলার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুনরায় পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় খুলে ফেলা হয় পৌরসভার গেটের সামনে লাগানো বাম সমর্থকদের পতাকা, খোলা হয় তালা। স্টেট ব্যাংকের সামনে লাগানো বামেদের পতাকা ও খুলে ফেলে পুলিশ।ধর্মঘটে বোলপুরে জনজীবন স্বাভাবিক ছিল। রাস্তায় বেসরকারি বাস নেমেছিল। স্কুল কলেজ অফিস খোলা ছিল। হিন্দুস্থান সমাচার/ হেমাভ/ শ্রেয়সী / কাকলি
image