Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, मार्च 19, 2019 | समय 20:37 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

( লিড ) মঙ্গলবারের ধর্মঘটে মিশ্র প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 8 2019 10:19PM
( লিড ) মঙ্গলবারের ধর্মঘটে  মিশ্র প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে
কলকাতা, ৮ জানুয়ারি (হি.স.):কর্মসংস্থান, কেন্দ্রীয় সরকারের অমানবিক নীতি, নূন্যতম মজুরির দাবি, বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ-সহ একাধিক ইসু্যতে দেশজুড়ে ৪৮ ঘন্টার সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন| ৪৮ ঘন্টার সাধারণ ধর্মঘটের প্রথম দিন, মঙ্গলবার মিশ্র প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে | ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের আজ মঙ্গলবার প্রথমদিন । বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া এই ধর্মঘটে স্বাভাবিক শহর কলকাতা | ধর্মঘটে বাংলাকে সচল রাখতে সকাল থেকেই তৎপর প্রশাসন । তবুও , বনধের প্রথম দিনেই বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা দেখা গেল আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে। বিক্ষিপ্ত হাঙ্গামা বাদ দিয়ে মঙ্গলবার বামেদের ডাকা ধর্মঘটে কোন প্রভাব পড়তেই দেখা গেল না এক সময়কার বাম দূর্গ বলে পরিচিত রাঢ়বাংলার ৫ জেলা বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বীরভূমে । বামেদের সাধারণ ধর্মঘটে জনজীবন স্বাভাবিক পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে । দু একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটের উপর এদিন সাধারণ জনজীবনে সেভাবে কোন প্রভাব পড়েনি দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বারুইপুর ও ক্যানিং মহকুমায়। আর পাঁচটা দিনের মতোই এদিন রাস্তায় বাস থেকে শুরু করে অটো ও অন্যান্য যানবাহন ছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই। তবে এদিন বাস বা ট্রেনে যাত্রী অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। উত্তরের কনকনে ঠান্ডাতেও মিছিল পালটা মিছিলে উষ্ণতা বাড়লো শিলিগুড়িতে। এদিকে, মঙ্গলবার জানালেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ধর্মঘট চলবে ৪৮ ঘণ্টাই । কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের সাফল্য নিয়ে বলতে গিয়ে রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘তৃণমূলের সরকার দক্ষিণপন্থী সরকার । এরা প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চায়’ । ৮ এবং ৯ জানুয়ারি শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকে ‘কেন্দ্রের শ্রমিক-বিরোধী নীতির’ প্রতিবাদে বারো দফা দাবিতে দেশজুড়ে দু’দিনের সাধারণ ধর্মঘট । বাম সমর্থিত সংগঠনগুলির পাশাপাশি ধর্মঘটে শামিল হয়েছে কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসিও । বস্তুত সংঘ পরিবারের ভারতীয় মজদুর সংঘ বাদে দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও কর্মচারী ফেডারেশন এই ধর্মঘট সমর্থন করছে । বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা বাদ দিলে দু’দিনের ধর্মঘটের প্রথম দিনে এখনও পর্যন্ত কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে মোটের উপর জনজীবন স্বাভাবিক । কোথাও কোথাও বাসে ঢিল মারার ঘটনা ঘটেছে, চেষ্টা হয়েছে অন্যান্য গাড়িও ভাঙচুরের । এ পর্যন্ত ১১টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পরিবহন দফতর সূত্রে খবর । সকাল ছটা থেকে নটা পর্যন্ত অবরোধের জেরে বিভিন্ন শাখায় রেল চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে । সড়কপথে বিক্ষিপ্ত অবরোধ হলেও দ্রুত হস্তক্ষেপ করেছে পুলিশ । মৌলালি, গড়িয়াতেও ধর্মঘট সমর্থকরা পথ অবরোধ করে । মৌলালিতে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে নীলরতন সরকার হাসপাতালের কাছ থেকে গ্রেফতার হন সিটু নেতা অনাদি সাহু সমেত ১৬ জন ধর্মঘট সমর্থক। রাসবিহারী মোড়ে গ্রেফতার করা হয় ২০ জন সমর্থককে । গড়িয়াতে জোর করে দোকানপাট বন্ধ করে দিতে যায় তারা । ভোর পৌনে পাঁচটা নাগাদ ধর্মঘটিরা দুটি সরকারি বাসে ঢিল ছোঁড়ে । যাদবপুর এবং গড়িয়া রথতলা অঞ্চলে ঘটনা দুটি ঘটেছে । বাস দুটির কাচ ভেঙে গেছে । পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি হয় ধর্মঘট সমর্থকদের । ধর্মতলায় সকাল থেকে সেভাবে বাস চলাচল না করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা । বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করছে ধর্মঘট সমর্থকরা । পথ অবরোধের ফলে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে বাস, গাড়ি, অটো । চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা । শোভাবাজার মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন ধর্মঘট সমর্থকরা । যাদবপুরে অবরোধকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় পুলিশের । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুতুল দাহ করা হয় । রাস্তা অবরোধ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় । সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে যাদবপুরে মিছিল হয় । ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে দফায় দফায় মিছিল হয় । যাদবপুরে সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ধর্মঘটের সমর্থকদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় পুলিশের । গ্রেফতার হন সুজন চক্রবর্তী সহ সিপিএমের বেশ কয়েকজন নেতানেত্রী । আজ কলকাতায় শীর্ষ বাম নেতাদের মধ্যে গ্রেফতার হন সুজন চক্রবর্তী, অনাদি সাহু, মধুজা সেন রায়, রূপা বাগচী, ও দিবাকর ভট্টাচার্য । তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় লালবাজারে । শিলিগুড়িতে গ্রেফতার হন অশোক ভট্টাচার্য । কলকাতা শহরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, রাস্তায় মানুষজনের ভিড় অপেক্ষাকৃত কম, যদিও অফিসে হাজিরা বাধ্যতামূলক, অন্তত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের । কলকাতার লর্ডস ক্রসিংয়ে বনধ ধর্মঘটের সমর্থকদের গ্রেফতার করে পুলিশ । গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডিং-এর সামনে আইএনটিইউসি সমর্থকদের জমায়েত এবং বিক্ষোভ সংগঠিত হয় । কসবায় জিএসটি ভবনের সামনে ধর্মঘটীদের পিকেটিং চলে । কলকাতার বিডন স্ট্রিট ক্রসিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা পোড়ালেন বনধ সমর্থকরা । রাস্তা অবরোধ করতে গেলে সরিয়ে দেয় পুলিশ । শহরে গ্রেফতার হয়েছেন ১৩৭ জন ধর্মঘট সমর্থক । কুড়ি জন ধর্মঘটীকে গ্রেফতার করা হয় দক্ষিণ কলকাতার ভবানী সিনেমার সামনে পথ অবরোধের জন্য । ঢাকুরিয়ার দক্ষিণাপণের সামনে অবরোধ করেন জনা তিরিশ ধর্মঘটের সমর্থক । পরে পুলিশ গিয়ে তাদের তুলে দেয় । বাম কর্মীদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট পালনের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন । তুলে দিতে এসে পুলিশ বাম কর্মীদের মারধর করে । হাজরা মোড়ে উত্তেজনার জেরে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয় । তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । জনজীবন ব্যাহত করার কোনরকম চেষ্টা হলে দ্রুত তা কড়া হাতে দমনের নির্দেশ আছে পুলিশের ওপরেও । লালবাজার সূত্রের খবর, তিন হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী এদিন মোতায়েন আছেন রাস্তায় । টহলদারির তত্ত্বাবধানে আছেন কুড়ি জন ডিসি পদমর্যাদার অফিসার । শহরে আছে তিনশোর বেশি পুলিশ পিকেট । শিয়ালদা-রানাঘাট ও বারাসাত-বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল আংশিক বিঘ্নিত হয় । ভোর ৫:১০ নাগাদ সোদপুর-আগরপাড়া এবং ৫:৫০ নাগাদ কল্যাণী-কাঁচড়াপাড়ার মাঝখানে ট্রেন চলাচলে বাধা দেন ধর্মঘটের সমর্থকেরা । বারাসত-বনগাঁ শাখায় ভোর ৫:৪৫ থেকে মসলন্দপুরে যাওয়ার ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয় । হাওড়া-বর্ধমান মেন শাখাতেও পুরোপুরি বন্ধ ট্রেন চলাচল । বিভিন্ন স্টেশনে চলে বিক্ষোভ-অবরোধ । এছাড়া শিয়ালদা ও হাওড়ার সব শাখায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয় । আসানসোল ও মালদা শাখায়ও স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল করছে । শহরে যানচলাচল স্বাভাবিক । স্কুল-কলেজ খোলা । দোকানপাট-বাজারহাটও চলছে অন্যদিনের মতোই । স্বাভাবিক মেট্রো পরিষেবাও । এ পর্যন্ত ৩৫৩ জন ধর্মঘটি শুধু কলকাতাতেই গ্রেফতার হয়েছেন । বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ পথে পাওয়া গেল রাজ্যের শীর্ষ বাম নেতা ও বামফ্রন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিমান বসুকে । কলকাতার হেদুয়া অঞ্চল থেকে মিছিলে যোগ দেন তিনি । দুপুরের মাণিকতলা মোড় তুলনামূলকভাবে জন শূন্য, তবে কলকাতা এখনও শান্ত । আজ শহরের অফিস, স্কুল, কলেজে হাজিরা ছিল মোটের ওপর স্বাভাবিক । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা পোড়ায় ছাত্রছাত্রীরা । কলকাতায় বড়বাজারের পোস্তা এলাকায় মোটামুটি ভালো সাড়া মিলল ধর্মঘটের । কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে রইলেন অধিকাংশ দিনমজুর ও শ্রমিক । বামেদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার শ্রমিক ধর্মঘটে অবশ্য তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি রাজ্য সরকারের দফতর গুলোতে । বেসরকারি অফিসগুলিও খোলা । ‌নবান্নে রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক । তবে ধর্মঘটে বিক্ষোভের জন্য যাতায়াতে সমস্যা হওয়ার কথা মাথায় রেখে এদিন হাজিরার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের কড়াকড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে নবান্নে । কিন্তু ধর্মঘটের বিশেষ প্রভাব দেখা গেল না মহাকরণে । অন্য দিনের মতো ব্যস্ততা রয়েছে মহাকরণে । উপস্থিতির হার রয়েছে ৯০ শতাংশেরও বেশি । আজকে কাজের উপস্থিতি বজায় রাখতে অনেক কর্মীই গতরাতে বাড়ি ফেরেননি । মহাকরণেই রাত কাটিয়েছেন তাঁরা । তবে কয়েকজনকে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে ধর্মঘটের জেরে । রেল অবরোধের জন্য যে সব কর্মীরা বাড়ি থেকে আসেন তাঁরা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন । আজ এই ধর্মঘটের কোনও প্রভাব পড়ল না কলকাতা পুরসভায় । ছবিটা ছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই । কলকাতা পৌর কমিশনার খলিল আহমেদ ১০টার সময় দফতরে হাজির হন । বেলা বাড়তেই মেয়র পরিষদের সদস্যরাও একে একে আসতে শুরু করেন নিজের নিজের দফতরে । গুরুত্বপূর্ণ নথি সই করা থেকে বিভাগীয় মিটিং করছেন তাঁরা । সমস্ত জরুরি বিভাগগুলোতেই উপস্থিত রয়েছেন কর্মীরা । যাঁরা পুরসভায় কাজের জন্য এসেছেন তাঁরাও যথাযথ পরিষেবা পাচ্ছেন । সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার অবস্থা স্বাভাবিক ও সচল । তবে দেখা মেলেনি বামপন্থী সংগঠনের সমর্থক কর্মীদের । কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে তাদের এই আন্দোলন বলেই তাঁরা কোনওভাবেই নিজের নিজের কাজে আজ অংশ নেননি । তাঁদের পক্ষে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, সার্কুলার অনুযায়ী তাঁদের যদি ছুটি কাটা যায় বা বেতনের একাংশ বাদ দেওয়া হয় তাও তাঁরা কাজে যোগদান করবেন না । ধর্মঘটের কারণে যাতে কোনও কর্মী ছুটি না নেন সেজন্য গত শুক্রবারই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল । সেরকম উপযুক্ত কারণ ছাড়া কাউকে এদিন ছুটি না নিতে নির্দেশ দিয়েছিল নবান্ন । সরকারি হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসকদের হাজিরা বাকি দিনের মতোই স্বাভাবিক । তবে রোগী এবং তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, বন্‌ধ সমর্থকদের পথ অবরোধ, বিক্ষোভের ফলে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছতে তাঁদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে । সেক্টর ফাইভেও সব অফিস খোলা । সরকারি বাস ছাড়াও চলছে বেসরকারি বাস এবং প্রচুর অটো । তাই হাজিরাও স্বাভাবিক । পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার জানান, কয়েকটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে । হাজার হাজার গাড়ি পথে নেমেছে । আমি নিজে সকালে শহরে ঘুরে দেখেছি । তাতে দেখেছি রাস্তায় অন্যদিনের মতো মানুষ বেরিয়েছে । আমাদের সব ব্যবস্থা করা আছে’। ধর্মঘটে স্বাভাবিক জনজীবন দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার | বিক্ষিপ্ত ঝামেলা বারুইপুর, সোনারপুর ও জয়নগরে | কেন্দ্রীয় বাম শ্রমিক সংগঠনের ডাকে দুদিন ভারত ধর্মঘটের প্রথম দিনে দু একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটের উপর এদিন সাধারণ জনজীবনে সেভাবে কোন প্রভাব পড়েনি দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বারুইপুর ও ক্যানিং মহকুমায়। আর পাঁচটা দিনের মতোই এদিন রাস্তায় বাস থেকে শুরু করে অটো ও অন্যান্য যানবাহন ছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই। তবে এদিন বাস বা ট্রেনে যাত্রী অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে বারুইপুর, সোনারপুর ও জয়নগর সহ আশপাশের এলাকায় দু একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা এদিন ঘটেছে। কিন্তু তাতে জনজীবনে কোন প্রভাবই পড়েনি। সরকারি বাসে ভাঙচুরের ঘটনায় চার বাম সমর্থককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগণার শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপ লাইনে বাসুলডাঙ্গা, নেতরা, মথুরাপুর সহ বেশ কয়েকটি স্টেশনের কাছে রেল লাইনে স্লিপার তুলে দিয়ে ট্রেন অবরোধের চেষ্টা করেন ধর্মঘ্ট সমর্থকরা। তবে রেল পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল। ধর্মঘটের প্রথম দিনে আসানসোল-দুর্গাপুরে বিক্ষিপ্ত অশান্তি, গ্রেফতার শতাধিক| বাম শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘটে বাংলাকে সচল রাখতে সকাল থেকেই তৎপর প্রশাসন । তবুও , ধর্মঘটের প্রথম দিনেই বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা দেখা গেল পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে। এদিন জামুরিয়াতে সরকারি বাসে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠল ধর্মঘট সমর্থকদের বিরুদ্ধে। কলকাতাগামী বাসে এলোপাথারি ইট ছুঁড়ে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ । পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় জামুরিয়া থানার পুলিশ। ধর্মঘট আটকাতে এদিন রাস্তায় নামে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাও । ধর্মঘট সমর্থক ও তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বচসায় উত্তেজনা ছড়ায় আসানসোলের হটন রোড মোড়ে । মঙ্গলবার সকালে বলপূর্বক বেসরকারি বাস ও দোকানপাট বন্ধ করানোর অভিযোগ ওঠে ধর্মঘট সমর্থকদের বিরুদ্ধে । পরে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা বাস চালু করতে গেলে শুরু হয় বচসা। অন্যদিকে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের ধর্মঘট সমর্থনে রেল অবরোধকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর। ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করল জিআরপি পুলিশ। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সিটুর ১২ দফা দাবীর ভিত্তিতে দুদিনের বন্ধের প্রথমদিন ছিল। এদিন দুর্গাপুর শিল্পশহরে বনধের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। জনজীবিন ছিল অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক। সেইলের দুর্গাপুর ইস্পাত ও অ্যালয় স্টীলে শ্রমিককদের হাজিরা ছিল স্বাভাবিক। পাশাপাশি কোলিয়ারী ও বপসরকারী শিল্পকারখানাগুলিতে হাজিরা ছিল অন্যান্যদিনের মতই স্বাভাবিক। এদিন সকালে অন্ডাল ও দুর্গাপুর সাগড়ভাঙায় রেল অবরোধ করে বনধ সমর্থনকারীরা। শিপ্র এক্সপ্রেস ও ময়রাক্ষী ফাষ্ট প্যাসেঞ্জারের মতো দুটি ট্রেন প্রায় ১৫ মিনিট আটকে রাখে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর কোকওভেন থানার পুলিশ পৌঁছায়। অবরোধ তুলতে গেলে পুলশের সঙ্গে অবরোধকারীদের ধস্তাধস্তী শুরু হয়। ঘটনায় ৮৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তার মধ্যে ১৪ জনকে জিআরপির হাতে তুলে দেয়। রেল অবরোধের দায়ে তাদের গ্রেফতার করে আসানসোল আদালতে পাঠায়। একইরকমভাবে অন্ডালে রেল অবরোধ করে ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন আটকে পড়ে অবরোধে। খবর পেয়ে জিআরপি পুলিশ গিয়ে অবরোধ তোলে। বীরভূমে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রামপুরহাটে পাঁচমাথা মোড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে বনধ সমর্থকদের মিছিল আটকায় পুলিশ এবং তারই পরে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। রামপুরহাটের পাঁচমাথা মোড়ে বন্ধ সমর্থকেরা মিছিল করে এলে সেই মিছিল আটকায় পুলিশ এবং তারপর পুলিশের সাথে ধর্মঘট সমর্থনকারীদের বাঁধে হাতাহাতি, ধ্বস্তাধ্বস্তি। মহিলা সমর্থনকারীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ধর্মঘটকে সফল করতে একটি মিছিল প্রথমে রামপুরহাট সংলগ্ন রানীগঞ্জ মোড়গ্রাম জাতীয় সড়ক অবরোধ করতে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ জমায়েতের পর জাতীয় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে সেই জমায়েত তুলে দেয় এবং জাতীয় সড়ককে সচল করে। এরপর ওই মিছিলটি রামপুরহাট শহর প্রদক্ষিণ করার পর যখন পাঁচমাথা মোড়ে আসে তখন সেই মিছিলটিকে আবার আটকায় রামপুরহাট থানার পুলিশ। তারপরই ওই মিছিলে থাকা ধর্মঘট সমর্থনকারীদের সাথে বচসা বাধে রামপুরহাট থানার পুলিশের। সেই বচসা থেকে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বন্ধ সমর্থনকারীদের গায়ে হাত তোলার। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ১০ জন ধর্মঘট সমর্থনকারীকে আটক করে রামপুরহাট থানার পুলিশ। এই পাঁচমাথা মোড়েই ধর্মঘট সমর্থনকারীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তির সময় আহত হয় এক মহিলা পুলিশকর্মী। ধস্তাধস্তির সময় ওই মহিলা পুলিশকর্মীর হাতে কেউ কামড়ে দেয়। অন্যদিকে ধর্মঘটের সমর্থনের ওই মিছিলে থাকা মহিলা কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন ধর্মঘটের সমর্থকদের মিছিল আটকানোর জন্য পুলিশের কাছে ছিল না পর্যাপ্ত পরিমাণে মহিলা পুলিশ। মহিলা পুলিশ পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকা সত্বেও মহিলা ধর্মঘট সমর্থকদের গায়ে হাত দেয় পুলিশ। রামপুরহাটে বিভিন্ন এলাকায় ধর্মঘটকে ঘিরে এখনো উত্তেজনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গোটা শহর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বন্ধ সমর্থকেরা। যদিও প্রশাসনের তরফ থেকে গোটা শহর জুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ধর্মঘটে বোলপুরে জনজীবন স্বাভাবিক ছিল। রাস্তায় বেসরকারি বাস নেমেছিল। স্কুল কলেজ অফিস খোলা ছিল। বামপন্থীদের ডাকা দু দিনের ভারত বনধের প্রথম দিনে মিশ্র প্রভাব পড়েছে বাঁকুড়ায় ।বাস চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজার হাট শুনশান ।অফিস, আদালত, স্কুল কলেজ সব খোলা ।কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ধর্মঘট শান্তিপূর্ন ।বাঁকুড়া শহরে সকালের দিকে দোকান পাট বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকান খুলতে থাকে ।পরবর্তী সময়ে যা স্বাভাবিক হয় অন্যান্য দিনের মতো ।তবে বাস চলাচল প্রায় বন্ধ ।সকালের দিকে জোর করে বাস চালানোর চেষ্টা করা হয় ।কিছু বাস বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে যাত্রীর অভাবে মাঝ পথেই যাত্রা বন্ধ করে দেয় ।তবে সরকারি বাস চলাচল স্বাভাবিক । আদালতে কর্মী ও আইনজীবীরা উপস্থিত থাকলেও মক্কেল না থাকায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় । ধর্মঘট ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি ।সকালে ধর্মঘট সমর্থক ও ধর্মঘট বিরোধী তৃণমূল সমর্থকদের মিছিলের জন্য চাপা উত্তেজনা ছিল সবর্ত্র ।শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যপক পুলিশি বন্দোবস্ত করা হয় ।সকালে ধর্মঘটি ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের সাথে বচসা বাধে তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে ।সে সময় এক ব্যাঙ্ক কর্মচারী প্রহৃত হন বলে অভিযোগ করেছেন ধর্মঘট সমর্থকেরা ।এছাড়া রাইপুরে ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচারে বেড়িয়ে গ্রেফতার হন জেলার সিপিএম নেতা তথা প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি পার্থপ্রতিম মজুমদার ।দোকান পাট বন্ধ ও যান চলাচলে বাধা দানের কারনে তাকে গ্রেফতার করা হয় । বাঁকুড়ার শিল্প তালুক বড়জোড়া, মেজিয়ায় ধর্মঘটের বিশেষ প্রভাব পড়েনি ।ধর্মঘটের সমর্থনে সিপিএম কর্মীরা যানচলাচলে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সাথে ঝামেলা বাধে ।পুলিশ জোর করে তাদের হঠিয়ে দিতে গেলে সিপিএম কর্মীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয় ।প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দু খান সহ সিপিএমের কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পুলিশ তাদের হঠিয়ে দেয় । সিপিআইএম নেতা প্রতীপ মুখার্জি বলেন ধর্মঘটে ব্যপক সাড়া মিলেছে ।শ্রমিক ও কর্মচারীরা সরকারী রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ধর্মঘটে সামিল হয়েছে ।তৃণমূলীরা ভয় দেখিয়ে জোর করে দোকান পাট খোলানোর চেষ্টা করে ।অপর দিকে ধর্মঘট মানুষ প্রত্যাখান করেছে সাধারন মানুষ ।সর্বনাশা ধর্মঘট কেউ চাইছেন না । পুরুলিয়ায় সকাল থেকে বনধের সেরকম কোন প্রভাব পড়েনি বললেই চলে। সরকারি বাস পরিষেবা ছিল অনান্য দিনের মতই সচল। সকালে পুরুলিয়া থেকে কলকাতা, মালদা, বহরমপুর, আসানসোল, দুর্গাপুর রুটের সমস্ত বাস ডিপো থেকে নির্দিষ্ট সময়েই ছেড়ে গন্থব্যের পথে রওয়ানা দিয়েছে। বেসরকারি বাসও রাস্তায় নেমেছে। সরকারি এবং বেসরকারি বাস স্ট্যান্ডে নিত্যাযাত্রীদের প্রতিদিনের মতোই উপস্থিত হতে দেখা গেছে। তবে বেসরকারি বাসের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে ওনান্য দিনের তুলনায় ছিল কম। শহরের সব স্কুলই রয়েছে খোলা। শহরের বড় হাট প্রতিদিনের মতোই সচল। দোকানবাজার সকালের দিকে বন্ধ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিটাও বদলে যেতে শুরু করে। রঘুনাথপুর মহকুমার নিতুড়িয়ায় পারবেলিয়া কোলিয়ারি সহ সমস্ত দোকানপাট খোলা ছিল এদিন। কোলিয়ারিতে গিয়ে দেখা গেল অন্যান্য দিনের মতই কোলিয়ারি সচল, খনি কর্মীরাও কাজে যোগ দিতে এসেছেন। খনিকর্মী সুকু কাহার জানান, ‘আমরা ডিউটি করতে এসেছি। ডিউটি করব। কেউ আমাদের আটকাতে আসেনি।’ অন্যদিকে নিতুরিয়ার ব্লক তৃণমূল সভাপতি শান্তিভূষন প্রসাদ যাদব জানান, ‘আমরা বনধের বিরুদ্ধে। তাছাড়া জনসাধারণও চাইছে বনধ হয়ে একটি দিন কর্মনাশা যেন না হয়।’ একাধিক দাবি–দাওয়া নিয়ে ৮–৯ জানুয়ারি দুইদিনের ধর্মঘটের প্রথমদিন মঙ্গলবার প্রভাব পড়ল শিলিগুড়িতে। এদিন সকালে ধর্মঘট সমর্থকদের যেমন দেখা গেছে রাস্তায় বেরিয়ে দোকানপাট বন্ধ করতে, ঠিক তেমনই দেখা গেছে রাস্তায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকতেও। দুদিনের ধর্মঘটকে সফল করতে সকাল থেকেই গোটা রাজ্যের পাশাপাশি শিলিগুড়িতেও ছিল বিরোধী দলগুলির তৎপরতা। এদিন শহরের একাধিক জায়গায় ধর্মঘটে সমর্থনে মিছিল বের করেন ধর্মঘট সমর্থনকারীরা। বেশ কিছু জায়গায় চলে পথ অবরোধ, বাস, অটো আটকানো। বনধের সমর্থনে শিলিগুড়িতে মিছিল করল বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নগুলি। এদিন সকাল ১০টা ও ১২টা নাগাদ পরপর দুটি মিছিল বের করা হয়। বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা এই মিছিলে অংশ নেন। হিলকার্ট রোডের সিপিএমের দলীয় কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে হিলকার্ট রোড হয়ে ফের অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সমন পাঠক, অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকার,অভিজিৎ মজুমদার, অলক চক্রবর্তী সহ অন্যান্য নেতারা। এদিকে, বনধের সমর্থনে মিছিল করতে বেরিয়ে সরকারি বাস ও স্কুল বাস আটকানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজন বনধ সমর্থনকারীকে গ্রেফতার করল এনজেপি থানার পুলিশ। জানা গেছে, এদিন সকালে বনধের সমর্থনে শিলিগুড়ির গেটবাজার এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। সেইসময় বনধ সমর্থনকারীরা সরকারী বাস এবং স্কুল বাস আটকায় বলে অভিযোগ। এরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাপ রায়, এলাকার নেতা দিবস চৌবে সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে এনজেপি থানার পুলিশ। এছাড়াও শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। এখনও পর্যন্ত মোট ১৫ জন ধর্মঘট সমর্থনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিন শহরে রাস্তাঘাটে হাতেগোনা কয়েকটি গাড়ি চললেও, রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য ছিল। সরকারি অফিসে কাজ হয়েছে। তবে বেসরকারি কার্যালয়, স্কুল সবই প্রায় বন্ধই ছিল। রাস্তায় সরকারি বাস চলাচল করলেও তা কম ছিল। আইএনটিইউসির জেলা সভাপতি অলক চক্রবর্তী বলেন, ‘সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা যেভাবে ধর্মঘটকে স্বাগত জানিয়েছে তাতে আমরা সাহস পাচ্ছি। বিশেষ করে চা বাগানের কর্মীরা। শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট হয়েছে এদিন। আমাদের পাশে মানুষ দাঁড়ানোয় আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য দাবি করেন, দেশ জুড়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট হয়েছে। শিলিগুড়িতে পুরোপুরি সফল ধর্মঘট। সাধারণ মানুষ মনে করেছে দাবিগুলি সমর্থনযোগ্য। তাই আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আগামীকালও পুরোপুরি ধর্মঘট হবে বলে তিনি দাবি করেন। এদিক, এই ধর্মঘট নিয়ে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘বন্‌ধ করে কোনও কিছু হয় না। মানুষ বিচার করবে। অনেকভাবে প্রতিবাদ জানানো যায়। কিন্তু মানুষকে দেখানোর জন্য বন্‌ধ ডাকা উচিত নয়। এই খেলা বন্ধ হওয়া উচিত।’ মন্ত্রী তথা দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘সিপিএম পার্টি আছে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন। দরজা খুলে বাম এখন রাম হয়ে গেছে।’ উল্লেখ্য, এদিন এক দিকে যখন ধর্মঘটের সমর্থনে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নগুলি রাস্তায় মিছিল বের করেছে, ঠিক তখনই ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশকে সফল করে তুলতে শহরে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও মহামিছিল বের করা হয়। এদিন শহরে মিছিল–পাল্টা মিছিলকে কেন্দ্র করে পৌষের কনকনে ঠাণ্ডায় রাজনৈতিক পারদ কিছুটা চড়িয়ে দিয়েছিল এদিন। যদিও মঙ্গলবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানালেন, ধর্মঘট চলবে ৪৮ ঘণ্টাই , বলে । আজ বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ পথে পাওয়া গেল রাজ্যের শীর্ষ বাম নেতা ও বামফ্রন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিমান বসুকে । কলকাতার হেদুয়া অঞ্চল থেকে মিছিলে যোগ দেন তিনি । কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের সাফল্য নিয়ে বলতে গিয়ে রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘তৃণমূলের সরকার দক্ষিণপন্থী সরকার । এরা প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চায়’ । গ্রেফতার করে দমন করা যাবে না, বলে মঙ্গলবার মন্তব্য করলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র । আজ বিকেলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের আঘাত এলেই হবে প্রত্যাঘাত । মঙ্গলবারের ধর্মঘট পুরোপুরিভাবেই সফল হয়েছে বলে দাবি করেন সূর্যকান্ত মিশ্র ৷ তিনি বলেন, ‘বাস চললেও যাত্রী ছিলেন না ৷ জোর করে দোকান খোলা হয়েছে ৷ দোকান-বাজারে ক্রেতা ছিলেন না ৷ কাল আমাদের কর্মসূচি একই থাকছে ৷ মানুষ ধর্মঘটকে সমর্থন করেছেন ৷ কৃষক, খেতমজুর, শ্রমিকরা ধর্মঘটে সামিল ৷ সরকারি অফিসে হাজিরা কম ছিল’ ৷ মমতা বন্দ্যো পাধ্যায়ের উন্নয়নকে ব্যাহত করার চেষ্টায় হচ্ছে এই কর্মনাশা বনধ বলে মঙ্গলবার মন্তব্য করেন তৃণমূলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় । ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা দেশব্যাপী দু''দিনের ধর্মঘটের আজ প্রথম দিনে রাজ্যে বিক্ষিপ্ত অশান্তি তৈরি হয়েছে । যাকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছড়িয়েছে শহর ও শহরতলির বেশ কিছু জায়গায় । বামফ্রন্টকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘এদের গণসংগঠন আর নেই । সেকারণে সকাল থেকে দেখলাম কোথাও ২০ জন কোথাও ১০ জন নিয়ে মিছিল করছে । ঘটা করে পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে বাড়ি চলে যাচ্ছে । বিক্ষিপ্ত ঘটনা দেখিয়ে বলবে বনধ সফল । এটাই ওদের কাজ । মানুষ দেখছে সব । সব জায়গায় হাজিরা ঠিকই আছে’। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিক্ষিপ্ত ঘটনাগুলোকে দেখিয়ে বলবে বনধ সফল । এটাই হচ্ছে ওদের কাজ । সব জায়গায় হাজিরা ঠিকই আছে’। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সবসময় ধর্মঘট ডাকা উচিত নয় । এরা আবার ধর্মঘটের রাজনীতিতে ফিরে আসছে । যখন দেখছে মানুষের প্রতিবাদের ভাষাকে এক করা যাচ্ছে না, তখন বনধ ডাকছে । মানুষ এদের এখন চিনতে পেরেছে’ । বনধের জন্য সিপিএমকে অক্সিজেন দিচ্ছে কংগ্রেস | মঙ্গলবারের ধর্মঘট নিয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ | ধর্মঘট প্রসঙ্গে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ''বনধের জন্য কংগ্রেস সিপিএমকে অক্সিজেন দিচ্ছে । বনধ করে সিপিএম ও কংগ্রেস তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে চাইছে ''। লোকসভা নির্বাচনের আগে, নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার, সিপিএম কংগ্রেসের এটা যৌথ কৌশল বলেই মন্তব্য করেন তিনি । ধর্মঘট প্রসঙ্গে দিলীপবাবু আরও বলেন, '' ইসলামপুরের ছাত্র হত্যার প্রতিকার চাইতেই বনধ ডেকেছিল বিজেপি । মানুষ তাতে সাড়াও দিয়েছিল । কারন তাতে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না । কিন্তু বামেদের ডাকা বনধ কোনও সমাজ কল্যাণের জন্য নয়'' । তিনি আরও জানান, ''যে দাবি গুলো আজকের বনধ ডাকা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই ইতিমধ্যে পুরন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার । তাই এই বনধের মানেই হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি । উল্লেখ্য, শ্রমিক নীতির বিরোধিতা করে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের আজ প্রথমদিন । বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া এই ধর্মঘট আংশিক সফল বলা যায় । তবে পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও রাস্তা ঘাটে মানুষ জন ছিল কম । বাম সমর্থিত সংগঠনগুলির পাশাপাশি ধর্মঘটে শামিল হয়েছে কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসিও । বস্তুত সংঘ পরিবারের ভারতীয় মজদুর সংঘ বাদে দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও কর্মচারী ফেডারেশন এই ধর্মঘট সমর্থন করছে । হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক / রক্তিমা/ হেনা/ সোনালী/ সোমনাথ/ প্রভাস/কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image