Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, मार्च 19, 2019 | समय 20:16 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

(লিড)কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ডাকা ধর্মঘটে মিশ্র প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 8 2019 10:37PM
(লিড)কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ডাকা ধর্মঘটে মিশ্র প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে
নয়াদিল্লি, ৮ জানুয়ারি (হি.স.): কর্মসংস্থান, কেন্দ্রীয় সরকারের অমানবিক নীতি, নূন্যতম মজুরির দাবি, বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ-সহ একাধিক ইসু্যতে দেশজুড়ে ৪৮ ঘন্টার সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন| ৪৮ ঘন্টার সাধারণ ধর্মঘটের প্রথম দিন, মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে| ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, ওডিশা, কেরল, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ-সহ দেশের প্রায় সমস্ত রাজ্যেই| মঙ্গলবার এবং ৱুধবার যথাক্রমে দু’দিন দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, এইচএমএস, সিটু, এআইইউটিইউসি, আইসিসিটিইউ, ইউটিইউসি, টিইউসিসি, এলপিএফ এবং এসইডাব্লিউএ-এই ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন| কেন্দ্রীয় সরকারের অমানবিক নীতির বিরুদ্ধেই এই ধর্মঘট| পশ্চিমবঙ্গে এদিন সকাল থেকেই রেল অবরোধের খবর আসতে থাকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে| অবরোধের জেরে হাওড়া ও শিয়ালদহ শাখায় ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল| হাওড়া-বর্ধমান মেইন শাখার শ্রীরামপুরে দফায় দফায় রেল অবরোধ করেন ধর্মঘটীরা| যার জেরে হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়| ঘন্টা খানেকের বেশি সময় ধরে চলে অবরোধ| অবরোধের খবর মলেছে হুগলি জেলার উত্তরপাড়া, হিন্দমোটরেও| পাশাপাশি হুগলি, রিষড়ায় দফায় দফায় রেল অবরোধ করেন বাম কর্মী-সমর্থকরা| ট্রেনের তারে কলাপাতা ফেলে রেল চলাচল বন্ধ করে দেন বাম সমর্থকরা| বর্ধমানের সমুদ্রগড়ে দফায় দফায় রেল অবরোধের খবর মিলেছে| পাশাপাশি, শিয়ালদহ শাখার হাসনাবাদ ও বনগাঁয় অবরোধের জেরে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল| অবরোধের খবর মিলেছে শিয়ালদহ উত্তর এবং মেইন শাখার বিভিন্ন স্টেশনে| যার জেরে ব্যহত হয় ট্রেন চলাচল| অবরোধ হয় বেলঘরিয়া-ইছাপুরে| এরই মধ্যে শিয়ালদহ উত্তর শাখায় বড়া-দত্তপুকুর স্টেশনের মাঝে বোমা উদ্ধার হওয়া নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়| যদিও এর সঙ্গে ধর্মঘটীদের কোনও সম্পর্কে আছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ-আরপিএফ স্পষ্ট নয়| অবরোধের খবর মিলেছে বীরভূম জেলার রামপুরহাটেও| মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মতোই পশ্চিমবঙ্গে ধর্মঘটের সেখাবে প্রভাব পড়েনি| সকাল থেকেই কলকাতার রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল| রাস্তাঘাটে অফিস যাত্রীদেরও দেখা মিলেছে অন্যান্য দিনের মতোই| এদিন সকাল ৭.৫৫ মিনিট নাগাদ সিপিআই (এম) বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে যাদবপুরে মিছিল করা হয়| ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে দফায় দফায় মিছিল হয়| পরে রাস্তা অবরোধ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় ধর্মঘট সমর্থনকারীদের| এরপরই গ্রেফতার করা হয় সুজন চক্রবর্তী, অনাদি সাহপ-সহ বেশ কয়েকজন বাম কর্মী-সমর্থকদের| তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় লালবাজারে| ধর্মঘট রুখতে এদিন সকাল থেকেই শুধুমাত্র কলকাতা নয়, রাজ্যের সর্বত্রই তত্পর ছিল পুলিশ-প্রশাসন| তা সত্ত্বেও, কিছু কিছু জায়গায় ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব পড়েছে| উলুবেড়িয়ায় বাস-লরি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ| শোভাবাজারে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়| বাসে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন বনধ সমর্থকরা| দমদম ক্যান্টনমেন্ট, দমদম রোড ও এয়ারপোর্ট ১ নম্বর গেট-সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর আসতে থাকে| উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের চাঁপাডালি মোড়ে বাস ভাঙচুর করে বনধ সমর্থকরা| বাসের চাকা খুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ| সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেই চলছে প্রথম দিনের ধর্মঘট| পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও ধর্মঘটের সেভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি| ওডিশায় সকাল থেকেই দফায় দফায় রেল-রাস্তা অবরোধে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে| ভদ্রক-সহ বিভিন্ন স্টেশনে অবরোধের জেরে আটকে পড়ে বহু লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেন| এছাড়াও বিভিন্ন রাস্তায় ধর্মঘট সমর্থনকারীরা পিকেটং, অবস্থান করেন| ভূবনেশ্বরে রাস্তায় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখান বনধ সমর্থকরা| টায়ার জ্বালিয়ে, মিছিল করে চলে বিক্ষোভ| বাম শাসিত রাজ্য কেরলে সকাল থেকেই রাস্তায় ছিল ধর্মঘটীরা| ব্যাপক প্রভাব পড়েছে রাজধানী তিরুবনন্তপুরম, ত্রিশূর, কোচি-সহ রাজ্যের প্রায় সর্বত্র| যানবাহন চলছে হাতে গোনা| বন্ধ ছিল অধিকাংশ স্কুল-কলেজ ও সরকারি অফিস| তবে, ধর্মঘট ঘিরে কোথাও বড় কোনও অশান্তির খবর মেলেনি| আবার মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গাতেও ধর্মঘটের ভাল প্রভাব পড়েছে| মুম্বইয়ে বৃহন্মুম্বই ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই এবং ট্রান্সপোর্ট-এর কর্মীরা সোমবার মধ্যরাত থেকেই ধর্মঘটকে সফল করতে পথে নেমে পড়েছেন| সকাল থেকেই ব্যহত বাস পরিষেবা| তবে, সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ৪০টি অতিরিক্ত বাস চালানো হচ্ছে| যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে মুম্বইজুড়ে প্রচুর স্পেশ্যাল বাস চালিয়েছে মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন| ধর্মঘটের জেরে জনজীবন ব্যাহত হয় উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসমেও| গুয়াহাটি-সহ বিভিন্ন স্টেশনে রেল অবরোধে আটকে পড়েন বহু ট্রেন| অন্যান্য যানবাহনও চলেছে খুব কম| কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনয়নের কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হন| স্কুল-কলেজ, সরকারি দফতর খোলা থাকলেও উপস্থিতির হার কম| সাধারণ ধর্মঘটের ভাল সাড়া পড়েছে কর্নাটকের হুবলিতে| সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ-বিক্ষোভে শামিল হন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা| তবে, বেঙ্গালুরুতে জনজীবন স্বাভাবিক ছিল| কর্ণাটকের বেল্লারিতে সমস্ত স্কুল-কলেজে ছুটি দেওয়া হয়েছে| হাম্পি কন্নড় বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার নির্ধারিত পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে| রাজধানী দিল্লিতেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে| তবে, মোটের উপর জনজীবন স্বাভাবিক ছিল| অসমে ধর্মঘটের প্রথমদিন, আহ্বায়ক সংগঠনগুলির কোনও কর্মচারী দফতরমুখো হননি। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় রেলরোকো কর্মসূচিও পালন করেছেন ধর্মঘটীরা। এরই অঙ্গস্বরূপ আজ মহানগরের লাখটকিয়ায় রোলপথ অবরোধ করেছেন ধৰ্মঘটী পিকেটার্সরা। ২ নম্বর রেলগেটে প্ৰতিবাদ যাঁরা করছেন তাঁরা সিআইটিইউ এবং এসএফআই-এর কর্মী। এছাড়া ফেডারেশন অব পোস্টাল ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের কর্মচারীরাও ধর্মঘটে শামিল হওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে ডাক পরিষেবা। সরকারের শ্ৰমিক ও জনবিরোধী নীতি পরিবৰ্তন করার দাবিতে দুদিবসীয় এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দশটি সংগঠন। ধর্মঘটীদের অভিযোগ, শ্ৰমিক বিরোধী এবং মালিক শ্ৰেণির স্বাৰ্থ রক্ষার জন্য আইন প্ৰণয়ন করা হয়েছে। তা বাতিল করতে হবে। শ্ৰম আইন সংস্কারের নামে চারটি শ্ৰম সংহিতার বলে শ্ৰমিকদের কষ্টোপাৰ্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এছাড়া তৈলক্ষেত্ৰ, বিমানবন্দরগুলো বেসরকারিকরণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার তারও বিরোধিতা করেছে সংগঠনগুলো। তাঁদের ২২ দফা দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম কাগজ কলের কৰ্মচারীদের প্ৰাপ্য বেতন প্রদান, সর্বজনীন সামাজিক ও সুরক্ষা প্রদান, ন্যূনতম ৬ হাজার টাকা পেনশন প্রদান, সরকারি সংস্থাগুলির বিলগ্নীকরণ বন্ধ করা, সম কাজে সম বেতন প্রদান, বোনাস, ইএসআই, প্রভিডেন্ট ফান্ড আইনের যোগ্যতা সীমা প্রত্যাহার করা, অত্যাবশ্যক সামগ্ৰীর মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা ইত্যাদি। ১২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাম সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা বনধ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় ত্রিপুরায়। তবে বাম সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটে তেমন কোনও প্রভাব নেই ত্রিপুরায়। এদিন সকাল থেকেই যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। অফিস আদালতেও স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়েছে। তবে রাজধানী আগরতলার বাজারগুলিতে এই বনধের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। মঠ চৌমুহনি বাজার, লেক চৌমুহনি বাজার, গোলবাজার, বটতলা বাজার প্রভৃতি বাজারগুলিতে দোকানপাট আংশিক খোলা ছিল। বেশ কয়েকটি স্কুল বন্ধ ছিল। রাজধানী আগরতলার বিভিন্ন স্ট্যান্ডে অন্যান্য দিনের তুলনায় গাড়ি কম ছিল। রাজধানী আগরতলা ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়ও একই চিত্র ছিল বলে জানা গেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বনধকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রাজ্য পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনী টহলরত আছে। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সংস্থাগুলির ধর্মঘটে মিশ্র সাড়া ছত্তিশগড়ে। ব্যাঙ্ক এবং পোস্ট অফিসগুলির সার্বিক কাজকর্ম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যের কয়েকটি ব্যাঙ্ক, বীমা সংস্থা এবং পোস্ট অফিসের কর্মীরা এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে। সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক ধর্মরাজ মহাপাত্র জানিয়েছেন, ‘কয়লা, ইস্পাত, বিদ্যুৎ কোম্পানির কর্মীরা ধর্মঘটে যো দিয়েছে। এমনকি ব্যাঙ্ক, বীমা সংস্থার কর্মীরাও এই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে। রাজ্যের অসংগঠিক ক্ষেত্রে শ্রমিকেরা এই ধর্মঘটে সামিল হন। চালের মিল, অঙ্গনওয়াড়ি, মান্ডির কর্মীরা এই ধর্মঘটে যোগ দেয়। বুধবার ঘর্মঘটে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।’ ধর্মঘটের কোনও প্রভাব স্কুল, কলেজগুলিতে পড়েনি। প্রতিদিনকার মত এদিন স্বাভাবিক পঠন-পাঠন হয়। যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। এদিন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা রাজ্যে ঘটেনি। ছত্তিশগড়সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ দেখায়। রাজ্যের খনি অঞ্চলগুলিতে বনধের মিশ্র সাড়া পড়ে। কোরবা জেলার রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা খনি সংস্থা সাউথ ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। অন্যদিকে কুসুমডা, গেভরা আবন্দ দীপকায় জেলাড় কয়লা খনিগুলিতে বনধের মিশ্র প্রভাব পড়ে। মঙ্গলবার ওডিশায় ব্যাহত হল রেল ও সড়কপথ পরিবহন ব্যবস্থা। পুলিশ জানিয়েছে, টানা ৪৮ ঘন্টার এই ধর্মঘটে এদিন ভুবনেশ্বর, কটক, পুরি, বালাশোর, জলেশ্বর, ভদ্রাক, সম্বলপুর, এবং পারাদ্বীপে ধর্মঘটিরা রেল পরিষেবা বন্ধ রাখতে ''রেল রোকো'' প্রতিরোধ করায় দিনের বেশ অনেকটা সময় বন্ধ ছিল এইসব অঞ্চলের রেল পরিষেবা। প্রায় এক ডজন ট্রেন দেরি করে চলেছে, যার জেরে নাকাল হয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। এদিন গোটা রাজ্যজুড়ে যানচলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। বন্ধ ছিল দোকান-বাজার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অফিস। সড়কপথেও একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি বাস না চলায় ঘন্টার পর ঘন্টা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত ছিলেন যাত্রীরা। গোটা দিন জুড়ে রাস্তাঘাট শুনশান ছিল। রাজধানী ভুবনেশ্বরে শ্রমিক সংগঠনের কর্মী ও ধর্মঘট সমর্থকেরা রাস্তা আটকে এবং একাধিক জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন। প্রতিবেশী কটক শহরেও পিকেটিং করেন ধর্মঘটিরা এবং রেললাইন অবরোধও করেন। ভুবনেশ্বর-কটকের পুলিশ কমিশনার সত্যজিৎ মোহান্তি বলেন, ধর্মঘট চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। প্রথমদিনের ধর্মঘট শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারি সূত্রের খবর, ধর্মঘটের জেরে অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না হয় তার জন্য সোমবারই স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রশাসন। বালাশোর, জলেশ্বর, রায়গড়, সুন্দরগড়, রাউরকেল্লা, বেরহামপুর, পুরি, ভদ্রাক, সম্বলপুর, জগৎসিংপুর, জাজপুর এবং কেন্দ্রপাড়ায় ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় থাকা বিজেডি এবং এর শ্রমিক সংগঠন বিজু শ্রমিক সমুখ্য সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছেন। ধর্মঘটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে কর্ণাটকে। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের অনেকগুলি বাস না চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। তবে, বিভিন্ন জায়গায় প্রাইভেট বাস এবং অটো, ট্যাক্সি ইত্যাদি উপলব্ধ ছিল। মাইসোর, মেঙ্গালুরু, হুব্বালি-ধারবাদে ধর্মঘটের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। টানা ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘটে রাজ্যজুড়ে নিত্যযাত্রীদের সংখ্যা তবে অনেকটাই কম ছিল। বন্ধ ছিল একাধিক সরকারি বাস পরিষেবা। মালেশ্বরমের কাছে বিএমটিসি-র দুটি বাসে হামলা চালায় ধর্মঘটিরা। নিত্যযাত্রীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, হুব্বালি ও প্রতিবেশী এলাকাগুলিতে ধর্মঘটের দিনে অনেক প্রাইভেট অটো ও ট্যাক্সিচালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেছেন তাদের কাছ থেকে। একাধিক জেলায় আগে থেকেই প্ৰশাসনের তরফ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। তবে, এদিন দোকান-বাজার, হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি সচল ও স্বাভাবিক ছিল। ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত ছিল এদিন। শ্রমিক ইউনিয়নগুলির নেতৃত্বে মঙ্গলবার রাজধানীর টাউন হল থেকে ফ্রিডম পার্ক এবং বুধবার টাউন হল থেকে রাজভবন পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। তবে ধর্মঘটকে \"অযৌক্তিক\" বলে বিরোধিতা জানিয়ে জনসাধারণকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। ।হিন্দুস্থান সমাচার/রাকেশ/কাকলি/শুভঙ্কর/এসকেডি/নবেন্দু/শ্রেয়সী
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image