Hindusthan Samachar
Banner 2 रविवार, मार्च 24, 2019 | समय 07:31 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

পড়ুয়া বোঝাই পুলকারে হামলা, আহত এক শিশু, গ্রেফতার ৭৫

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 9 2019 6:00PM
পড়ুয়া বোঝাই পুলকারে হামলা, আহত এক শিশু, গ্রেফতার ৭৫
কলকাতা, ৯ জানুয়ারি (হি.স): বুধবার রাজাবাজারে ধর্মঘট সমর্থকদের তাণ্ডবে পড়ুয়া বোঝাই পুলকারে হামলা হল। তখন পুলকারে ছিল বেশ কয়েকটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী। তারা মূলত নার্সারি-মন্তেশ্বরী স্কুলের ছাত্রছাত্রী। আহত হয় ১ শিশু। গাড়ির চালক শম্ভুলাল শ্রীবাস্তব জানান, পুল কারের ওপর হামলা করার আগে আরও একটি গাড়ি ভাঙচুর করে ধর্মঘট সমর্থকরা। হামলাকারীরা সংখ্যায় প্রায় ৪০ জন ছিল। একটি শিশুর চোখের নিচে আঘাত লাগে, তাকে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা পর ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকিরা আতঙ্কে গাড়ি থেকে নেমে পালায়। গাড়িতে অন্তত একজন অভিভাবকও ছিলেন। ডিসি নর্থ দেবাশিস সরকার জানান, ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ২২ জন। ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে কলকাতা মোটের ওপর ছিল স্বাভাবিক। এরই মাঝে ঘটে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা। যাদবপুরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় ধর্মঘট সমর্থনকারীদের। ধর্মঘট সফল করতে নেমে ফের গ্রেফতার হন সিপিএন নেতা সুজন চক্রবর্তী। যাদবপুর থেকে তাঁকে আটক করা হয়। সুজন চক্রবর্তীসহ প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের লালবাজার নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে এই ধর্মঘটকে সমর্থন করেছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। ধর্মঘটের সমর্থনে পথে নামে তারাও। ধর্মঘট সফল করতে রাজাবাজার এলাকায় নামেন রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। রাজাবাজারের কাছে কেসি সেন স্ট্রিটে একটি গাড়ির কাচ ভাঙ্গে ধর্মঘটিরা। এদিকে ঘটনার জেরে সৃজনসহ মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ। তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন, এস এফআই এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস। ইতিমধ্যেই কলকাতার টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে ১২ জন সিপিএম সমর্থককে গ্রেফতার করেছে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে হাওড়া থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক ছিল। অনাদি শাহুর নেতৃত্বে সিটুর মিছিল যায় নোনাপুকুরে। গ্রেফতারি এড়াতে বারবার রুটবদল করে সেই মিছিল। দ্বিতীয় দিনের ধর্মঘটের শুরুটা যেন প্রথম দিনের মতই। সকালে সবার প্রথমে ধরমঘটিরা ব্যহত করে দেয় শিয়ালদহ শাখার রেল চলাচল। তারপরে যাদবপুরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি সহ আবারও বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর গ্রেফতার। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বামেদের ধর্মঘট চিত্র স্পষ্ট হলেও বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা বাদে বুধবারের বনধ চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে অধিকাংশ স্কুল-কলেজই খোলা। পড়ুয়াদের উপস্থিতিও রয়েছে স্বাভাবিক। দ্বিতীয় দিনেও প্রভাব পড়েনি সরকারি হাসপাতালে। স্বাভাবিক সেক্টর ফাইভ। হাজিরা রয়েছে অন্যদিনের মতই। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে এসপ্ল্যানেড চত্বরে যান চলাচল স্বাভাবিক। খুলেছে বিভিন্ন সংস্থার অফিস। দ্বিতীয় দিনেও রাস্তায় রয়েছে প্রচুর সরকারি বাস। বেসরকারি বাসও চলছে। নিত্যযাত্রীরা কর্মস্থলে গেছেন। মেট্রোতেও আর পাঁচদিনের মতো ভিড় রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসে হাজিরা স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষই দুই দিনের বন্‌ধকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। ‌এখনও পর্যন্ত কলকাতায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৭৫ জন ধর্মঘটিকে। আজ ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করলেন আইএনটিইউসি সমর্থকরা। রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করলে সরিয়ে দেয় পুলিশ। তবে জনজীবন মোটের ওপর স্বাভাবিক ছন্দেই। সকাল ৯টার সময় হাওড়া ষ্টেশনে যথারীতি বাসে বাদুর ঝোলা ভিড়। সঙ্গে কর্মব্যস্ত দিনে মহানগরের রাস্তার চেনা যানজট। অর্থাৎ সচল কলকাতা, অচল বনধ। বর্ষীয়ান বাম নেতা রবীন দেব প্রথম দিন থেকেই যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন এই ধর্মঘটে। রবীন দেব জানান, এর মূলে রয়েছে অঘোষিত ১৪৪ ধারা। যা কোনও নোটিশ ছাড়াই ঘোষিত হয়েছে কলকাতার বুকে। তিনি মনে করেন, ‘রাস্তাঘাটে যে চিত্র দেখা গেছে সেটা স্পষ্ট কিন্তু আদতে তা জোর করে করা হয়েছে। আমাদের প্রতিবাদকে থামিয়ে রাখবার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমি বলছি শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তাও বিনা নোটিশে’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা গতকাল বড় রাস্তায় বেরোতেই প্রচুর বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা গলির মধ্যে দিয়ে আমাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিলাম। সেখানেও বাধা দেওয়া হয়েছে। সকালে টালিগঞ্জ অঞ্চলে তাদের মিছিল বেরিয়েছিল গলির ভিতরে। সেখানে তাদের আটকে দেওয়া হয়। আটক করা হয় ধর্মঘটিদের। একই ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় মৌলালিতেও। এরপরে সন্তোষপুরে আমাদের মিছিলকে আটকে দিল। কেন ? এর কোনো কোনও কথা নেই। মিছিল করতে না দেওয়া অনেকটা জোর জুলুমের মতো’। তিনি বলেন, ‘আর্মহার্স্ট স্ট্রিট সংগ্রাম চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ইন্দ্রজিতের মতো নবীন নেতাদের গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। ওরা ওদের কাজ করে পার্টি অফিসে রেস্ট নিচ্ছিল। হঠাৎ পুলিশ ঢুকে ওদেরকে বলেছে ১৪৪ ধারা আছে একসঙ্গে এতজন বসা যাবে না। রবীন দেবের প্রশ্ন, ঘরের ভিতরে কিভাবে ১৪৪ ধারা জারি হয় ! ওই বাম নেতাদের জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রবীন দেবের। তিনি জানান, ‘কোনও ব্যাঙ্ক খোলা নেই এবং আমরা আমাদের কার্যক্রম এবং আমাদের যে দাবি তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি বলে আমি মনে করি। তাই আমি মনে করি রাস্তায় গাড়ি চললেও আমাদের কাজে আমরা সফল। তাই আজকেও ধর্মঘট সফল’। রবীন দেব বলেন, ‘আমরা তৃণমূলকে ডেকেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা। ওরা বলছে কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে সরাতে হলে এক হতে হবে। তাই যখন তাহলে আমাদের কাজ করতে বাধা দিল কেন ? প্রমানিত হয়ে গেল ওইসব কথা আসলে লোক দেখানি আসলে তৃণমূল বিজেপি একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে’। হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image