Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, जनवरी 19, 2019 | समय 14:02 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

গঙ্গা বাঁচাতে আমাদের নিজেদের বলিদান দিতে হবে, রাজেন্দ্র সিং

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 9 2019 7:54PM
গঙ্গা বাঁচাতে আমাদের নিজেদের বলিদান দিতে হবে, রাজেন্দ্র সিং
কলকাতা, ৯ জানুয়ারি (হি.স.) : গঙ্গায় এখন গঙ্গাজল আসছে না। শহরের নিকাষির জল ফেলার জায়গা হয়ে উঠেছে গঙ্গা, হয়ে উঠেছে দূষণের আঁতুরঘর। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করলেন ‘ওয়াটারম্যান’ রাজেন্দ্র সিং। ‘গঙ্গা সদ্ভাবনা যাত্রা’য় বেড়িয়ে তিনি সপারিষদ কলকাতায় এসেছেন। এই সদ্ভাবনা যাত্রা শুরু হয়েছে গোমুখে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর। শেষ হবে গঙ্গাসাগরে। আগামীকাল বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে ওঁরা পৌঁছোবেন সাগরদ্বীপে। পরিবেশ আন্দোলনের জন্য ২০০৫ সালে ম্যাগসাইসাই পান রাজেন্দ্রবাবু। ২০১৫-তে পান সুইডিশ সরকারের সর্বোচ্চ পরিবেশ-আন্দোলনের স্বীকৃতি। এ দিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে তিনি বলেন, গঙ্গা না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। এর জন্য আমাদের নিজেদের বলিদান দিতে হবে। গঙ্গাকে মুখে আমরা মা বলছি। কিন্তু গঙ্গার কাছ থেকে কামাই করতে চাইছি। বিভিন্ন নদীতীর দখলের চাপে ল্যান্ডস্কেপ বদলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক মদতে ক্রমাগত চলছে এই দখলের মাত্রা। রাজেন্দ্রবাবু বলেন, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, পরিবেশগত দিক মাথায় রেখে গঙ্গাকে বাঁচাতে হবে। ফারাক্কা বাঁধের নকশার ত্রুটির জন্য বাংলাদেশ যতটা উপকৃত হয়েছে, ভারতের ক্ষতি হয়েছে ততটাই। এর জন্য দায়ী দূরদৃষ্টি ও সুদূরপ্রসারি প্রযুক্তি-ভাবনার অভাব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পে প্রচুর অর্থব্যয় হলেও কাজের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন রাজেন্দ্রবাবু। তাঁর অভিযোগ, ঘাটগুলির সংস্কার হয়েছে। কিন্তু গঙ্গার মানোন্নয়ন হয়নি। ঠিকাদাররাই নিয়ন্ত্রণ করছে গঙ্গার নানা প্রকল্প। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, “আগে কেন এ সব নিয়ে সরব হননি?“ জবাবে বলেন “আগের সরকারের আমলেও সরব হয়েছি সরকারী দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতিবাদে। ২০০৭ থেকে তিন বার পদত্যাগ করেছি গঙ্গা বেসিন কমিটি থেকে। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার লেনদেন নেই।” পরিবেশ-আন্দোলনের জন্য মহারাষ্ট্র সরকার ''জলনায়ক'' হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে মুম্বাইয়ের অসওয়াল কলেজের অধ্যক্ষ স্নেহাল দন্ডেকে। সদ্ভাবনা যাত্রার আহ্বায়ক হিসাবে তিনি এ দিন বলেন, “গঙ্গার ধার ধরে সামাজিক মানচিত্র করতে করতে ফারাক্কা থেকে শান্তিপুর-বারাকপুর হয়ে কলকাতায় এসেছি। আমাদের অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। লক্ষ্য করেছি, গঙ্গার পবিত্রতা রক্ষার জন্য নিয়োজিত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে। গঙ্গার ভাঙন রোধের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে নতুন তৈরি বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। তীরবর্তী মানুষজনের পুনর্বাসনের নীতিও অস্পষ্ট। শান্তিপুরে একটি সেতু হবে। এর জন্য বেশ কিছু গাছ কাটা পড়বে। এই গাছ কাটা নিয়েও রয়েছে বড় রকমের মতানৈক্য। আমরা চেষ্টা করেছি এর সমাধানের পথ খুঁজতে।" ফটো আছে হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক/ সঞ্জয়
image