Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, जनवरी 19, 2019 | समय 19:38 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

(লিড)লোকসভায় তৃণমূলের আসন ৩৪ থেকে কমে হল ৩২

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 9 2019 9:40PM
(লিড)লোকসভায় তৃণমূলের আসন ৩৪ থেকে কমে হল ৩২
কলকাতা, ৯ জানুয়ারি (হি.স): দু হাজার উনিশের ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলকে ধাক্কা দিল বিজেপি । ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের ৪২ টি আসনের মধ্যে ৩৪ টি আসন পেয়েছিল তৃনমূল । বুধবার বাধ্য হয়ে তার মধ্যে ২ টি আসন খোয়ালো তৃনমূল । তাদের দুই নির্বাচিত সাংসদকে বহিস্কার করতে বাধ্য হল তারা । একই দিনে দুই লোকসভার সাংসদকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস । বুধবার বেলা আড়াইটে নাগাদ দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্য্যালয়ে মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খান । আগামীকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দেওয়ার কথা বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরার । আর আজ কলকাতায় বসে ওই দুই সাংসদকে বহিস্কারের কথা ঘোষনা করলেন তৃণমূলের মহা সচিব পার্থ চট্টপাধ্যায় । এদিন দুপুরে বিজেপি সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে সামিল হন সৌমিত্র খান । সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়ও । তাঁকে স্বাগত জানান বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান । বিজেপিতে যোগ নিয়ে সৌমিত্রের সঙ্গে কথা হয়েছিল দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর । দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল সিনহা । আজ সৌমিত্রকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করতে বসেছিলেন মুকুল রায় । সেখানে তিনি বলেন, ‘আজ তো শুধু ট্রেলর দেখলেন, পিকচার আভি বাকি হ্যায়’। যদিও বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খান দল ছাড়ার আগেই এদিন সকালে তাঁকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল বলে দাবি করেন, তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় । বুধবার বিকেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, সৌমিত্রকে দল থেকে বহিষ্কার করার চিঠিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে । তাঁর কথায়, ‘ওর সঙ্গে বহুদিন ধরে দলের কোনও সম্পর্ক ছিল না । বিষ্ণুপুরের মানুষের সঙ্গেও ওর যোগাযোগ ছিল না । সৌমিত্র জানতেন এ বার ওকে লোকসভার টিকিট দেওয়া হবে না’ । তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা খণ্ডন করেন সৌমিত্র খান বলেন, ‘আমি কোনও বহিষ্কারের চিঠি পাইনি । তৃণমূল আমাকে বহিষ্কার করবে কী, আমিই তৃণমূলকে আমার রাজনৈতিক জীবন থেকে বহিষ্কার করেছি’। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার বিরুদ্ধে তো দলের অভিযোগ রয়েছে ? জবাবে সৌমিত্র বলেন, কেন ? আমি কী করেছি? সারদা চিট ফাণ্ডের টাকা নিয়েছি ? সেই অভিযোগ তো আমার বিরুদ্ধে নেই। যাঁরা চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত, তাঁরাই কালীঘাট চত্বরে ঘুরঘুর করেন’। সৌমিত্র খানের ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, দলের সঙ্গে বিষ্ণুপুরের সাংসদের সম্পর্ক ছিল না এ কথাও ঠিক নয় । মাত্র বিশ দিন আগে ১৯ ডিসেম্বর বাঁকুড়ায় সভা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । ওই সভাতেও উপস্থিত ছিলেন সৌমিত্র খান । তিনি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন । তবে তিনি যে দল ছাড়বেন, তার পরদিন থেকেই খোলাখুলি ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছিলেন সৌমিত্র খান । তৃণমূল শীর্ষ নেতারা বলছেন, এটা ঠিক যে সৌমিত্রর কাজে খুশি ছিলেন না তৃণমূলনেত্রী । এমনকি দেড় বছর আগেই দলের কোর কমিটির বৈঠকে সৌমিত্রকে একবার যা তা বলেছিলেন মমতা । দিদি এও বলেছিলেন, কী সৌমিত্র দল করবে নাকি বালি খাদানের টাকা তুলেই দিন চলে যাবে ! তার পরেও সতর্ক হননি সৌমিত্র । তবে গোটা ব্যাপারটা ঠিক মতো সামলাতে পারেনি দল । সৌমিত্রকে যে টিকিট দেওয়া হবে না সেটা ওঁকে আগে বুঝিয়ে দেওয়া ভুল হয়েছিল । ভোটের মুখে এসে ও টিকিট না পেয়ে দল ছাড়লে সেটার কোনও গুরুত্ব থাকতো না । পাশাপাশি সৌমিত্র-র দল ছাড়ার প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘যতক্ষণ মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থাকবে ততদিন নম্বর থাকবে। মাথার উপর থেকে হাত উঠে গেলে সৌমিত্র খান জিরো। ববি হাকিমও জিরো । সব্বাই জিরো’। আজই আবার বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরাকে বহিষ্কার করল তৃনমূল । কারণ আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাঁর বিজেপিতে যোগ দেবার কথা । তাই, দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার হলেন অনুপম । ইতিমধ্যেই ফেসবুকে তিনি নানা ধরনের পোস্ট করছিলেন যা দলের ক্ষতি করছিল বলে মনে করে তৃণমূল । অনুপমকে আর দল ছাড়ার ‘নাটক’ করার সুযোগ দিলেন না দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আগেভাগেই তাঁকে বহিষ্কার করে দিলেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল । এদিকে, অনুপম হাজরার বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে তুমুল জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে । উল্লেখ্য, সৌমিত্র খাঁর বিজেপিতে যোগদানের কথা বুধবার প্রকাশ্যে আসতেই মুকুল রায় জানান, তৃণমূলের আরও পাঁচ-ছয় সাংসদ বিজেপিতে নাম লেখাতে তৈরি হয়ে রয়েছেন । এর ঠিক পরেই তৃণমূল থেকে অনুপমের এই বহিষ্কারকে রীতিমতো ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল । মুকুল রায় তৃণমূল ছাড়ার পর, পরিস্থিতিরই সুযোগ নেন । গত বছর খানেক ধরে মুকুলবাবুর সঙ্গে ক্রমশই দহরম মহরম বাড়তে থাকে অনুপমের । এমনকি সৌমিত্র ও অনুপমকে নিয়ে সাত মাস আগেই অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করে আসেন মুকুল রায় । ঠিক হয়, লোকসভা ভোটের ঠিক মুখে দল ছাড়বেন এই দুই সাংসদ । ২০১৪ সালে বীরভূম জেলার বোলপুর লোকসভা আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন ‘কেষ্ট কাকুর স্নেহের ভাইপো’ অনুমপ । বর্তমানে তিনি সাংসদ । অথচ ভোটে জেতার পর বিভিন্ন ইস্যুতে ‘কেষ্ট কাকু’ অর্থাৎ তৃণমূলের অন্যতম ‘বাহুবলী নেতা’ তথা বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডেলর সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব বেড়েছে বছর সাইত্রিশের অনুপম হাজরার । বেশ কয়েকবার সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুলেও তৃণমূল নেতৃত্বের ‘বকুনি’ খেতে হয়েছে তাঁকে । সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে অনুমপকে তৃণমূল আর প্রার্থী করবে না বলেই মনে করছিল, দলেরই একটা বড় অংশ । তবে, আগামী লোকসভা নির্বাচনে অনুমপ-সহ তৃণমূলের মোট নয় সাংসদের টিকিট অনিশ্চিত বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল । এ ব্যাপারে অনুপম কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি । তবে মুকুল রায় বলেন, ‘মমতা বুঝতে পেরে গিয়েছেন যে ও দল ছাড়বে। এই বহিষ্কারের কোনও মানেই নেই। কংগ্রেস যেমন মমতাকে বহিষ্কার করেছিল, এও খানিকটা সেরকমই হল’। হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক /সঞ্জয়
image