Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, जनवरी 19, 2019 | समय 14:46 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

পুজো কমিটি গুলোকে ডেকে পাঠাল আয়কর, ক্ষুব্ধ মমতা

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 11 2019 4:31PM
পুজো কমিটি গুলোকে ডেকে পাঠাল আয়কর, ক্ষুব্ধ মমতা
কলকাতা, ১১ জানুয়ারি (হি.স.) : শুক্রবার কলকাতার ২০ টি পুজো কমিটিকে ডেকে পাঠাল আয়কর কর্তারা । আর এতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । গত সোমবারই কলকাতার প্রথম সারির ২০টি পুজো কমিটির প্রতিনিধিদের ডেকে আয়কর কর্তারা বৈঠক করেন । সেখানে তাঁরা পরিস্কার বলেছিলেন ২০১৯ সালের দুর্গাপুজো থেকে তিরিশ হাজার টাকার উর্ধ্বে সমস্ত রকম পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে উৎসমূলে কর বা টিডিএস আদায় করতে হবে । এবং তা আয়কর দফতরে জমা দিতে হবে । যার অর্থ ঢাকি, পুরোহিত, দশকর্মা, ডেকরেটার্স ইত্যাদি সবাইকেই পাওনা মেটানোর সময় কর আদায় করে নিতে হবে । আয়কর কর্তাদের বক্তব্য, পেশাদারদের ক্ষেত্রে, যেমন থিম শিল্পীদের পাওনা মেটানোর সময় উৎসমূলে ১০ শতাংশ হারে কর আদায় করতে হবে । শ্রমিকদের থেকে কেটে নিতে হবে ১ শতাংশ এবং সংস্থার থেকে ২ শতাংশ হারে কর আদায় করতে হবে । আর এতেই আপত্তি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আজ বারাসাতে তিনি রীতিমত হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘পুজো কমিটির থেকে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন চাওয়া হচ্ছে । একটা ক্লাবের গায়ে হাত লাগলেও ছেড়ে কথা বলব না । আমি সব ক্লাবকে বলে দেব, ডাকলে একদম যাবেন না’। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি শুনেছি কেন্দ্রীয় সরকার ক্লাবগুলোকে ডিস্টার্ব করতে চাইছে । কেন ইনকাম ট্যাক্স চাইবে ? ক্লাবগুলো কি লাভের জন্য পুজো করে ? এটা তো আমাদের উৎসব’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগেই গতকাল এ ব্যাপারে মুখ খুলেছিলেন কলকাতার মেয়র তথা চেতলা অগ্রণী ক্লাবের কর্ণধার ফিরহাদ হাকিম । তাঁর বক্তব্য, নীরব মোদী, মেহুল চোস্কিরা হাজার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতি করে পালিয়ে যাচ্ছে । আর কেন্দ্রের নজর কলকাতার পুজোর ওপর । শারদোৎসবের আনন্দকে ভণ্ডুল করতে চাইছে মোদী সরকার । যথার্থ ভাবে বলতে গেলে বাংলা তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো বর্তমানে কার্যত একটা শিল্পে পরিণত হয়েছে । কয়েক লক্ষ মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থান হয় এই সময়ে । কোনও কোনও শিল্পক্ষেত্র বা ব্যবসার গোটা বছরের আয় হয় দুর্গাপুজো বা শারদ উৎসব থেকে । হিসাব মতো কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় । কিন্তু আয়কর দফতরের বক্তব্য, এতো বিপুল পরিমাণ ব্যবসা হলেও এর থেকে আয়কর আদায় হয় যৎসামান্য । অথচ সমস্ত রকম লেনদেনকে আয়করের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে চলছে কেন্দ্রীয় সরকার । যে কোনও উন্নত বা উন্নতিশীল রাষ্ট্রের এটাই নিয়ম । সেই কারণেই কলকাতায় দুর্গাপুজোর সময় লেনদেনকেও করের আওতায় আনার কথা ভাবা হয়েছে । আয়কর দফতরের এক কর্তার কথায়, পুজো কমিটিগুলিকে কারা চাঁদা দেন, সেই আয়ের উৎস কী, তারও হিসাব নেওয়া জরুরি । ভুলে গেলে চলবে না, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কলকাতার পুজোগুলোতে বহু কোটি টাকা চাঁদা দিত চিটফাণ্ড গুলো । তাতে বাংলার সাধারণ মানুষের কোন উপকার হয়েছে । ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কলকাতা বা শহরতলিতে প্রায় ষোল আনা দুর্গাপুজো তথা ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ,বিধায়করা । ফলে, ওই সব পুজো কমিটির স্বার্থ তৃণমূলনেত্রী দেখবেন, সেটাই স্বাভাবিক । বিশেষ করে লোকসভা ভোটের আগে ক্লাবগুলির পাশে থাকার বার্তা দেওয়া রাজনৈতিক ভাবেও জরুরি । হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক / কাকলি
image