Hindusthan Samachar
Banner 2 बुधवार, मार्च 27, 2019 | समय 02:26 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

উত্তরপূর্বে জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে বিজেপি সরকার : নেসো উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 11 2019 8:24PM
উত্তরপূর্বে জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে বিজেপি সরকার : নেসো উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল
আগরতলা, ১১ জানুয়ারি, (হি.স.) : ''উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে উদ্বাস্তুদের ডাম্পিং-স্টেশন করতে কোমর কষে নেমেছে বিজেপি সরকার। বিজেপির এ ধরনের হঠকারী কর্মকাণ্ডকে সর্বতোভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে বিজেপি সরকার।'' বলেছেন উত্তরপূর্বের ছাত্র সংগঠনগুলোর যৌথমঞ্চ নর্থ-ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন সংক্ষেপে নেসো-র উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য। গত ৮ জানুয়ারি নেসো আহূত ১১ ঘণ্টার বনধকে কেন্দ্র করে জিরানিয়ার মাধববাড়ি বাস টার্মিনাল এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় আহত আইপিএফটি ত্রিপাহা-র ছয় সদস্যকে দেখতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাতের দিকে গুয়াহাটি থেকে নেসো-র উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য-সহ তিন সদস্যের দল এসেছেন ত্রিপুরায়। রাজ্যে এসে আজ শুক্রবার তাঁরা জিরানিয়ার মাধববাড়ি এবং পশ্চিম জেলার সিধাই মহকুমার হেজামারা এলাকায় যেতে চাইলে নেসো-র প্রতিনিধি দলকে বাধা দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ। এর পর আগরতলায় এসে সমুজ্জ্বলরা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সমুজ্জ্বল জানতে চান, সেদিন মাধববাড়িতে এমন কী ঘটনা ঘটেছিল যে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছিল? তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে বিজেপি সরকার জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি কেবল ত্রিপুরায় নয়, গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জরুরি অবস্থাসদৃশ পরিস্থিতি কায়েম করেছে বিজেপি সরকার। সর্বত্র দমন-পীড়ন চলছে। একনায়কতন্ত্র চলছে। এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে যাতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া না হয় সে ব্যাপারে ত্রিপুরার বিজেপি সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন সমুজ্জ্বল। মাধববাড়িতে সেদিন যে ঘটনা বিজেপি সরকারের পুলিশ সংঘটিত করছে, সে বার্তা গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানান নেসো উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে কথা বলার মৌলিক অধিকার সকলের আছে। এই বিলের মাধ্যমে অবৈধ হিন্দু বাংলাদেশিদের বোঝা উত্তরপূর্বের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি জোট এনডিএ সরকার। জবরদস্তি মানুষের ওপর বিদেশিদের চাপিয়ে দিলেই হবে না। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য। আজ তাঁদের রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার কথা ছিল। কোথাও যেতে দেয়নি পুলিশ। এমন-কি মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, কিন্তু সর্বত্র তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। সরকার হয়তো ভুলে গেছে, আজ যাঁরা এখানে এসেছেন তাঁরা এ-দেশেরই নাগরিক। সর্বত্র তাঁদের যাওয়ার অধিকার আছে। এতে করে সরকার নাগরিকদের অধিকার খর্ব করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নেসো উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-এর বিরুদ্ধে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যৌথ ছাত্র সংগঠন উত্তরপূর্ব স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (নেসো) আহূত গত ৮ জানুয়ারি ভোর পাঁচটা থেকে বনধ-কে কেন্দ্র করে আগরতলার পার্শ্ববর্তী জিরানিয়ার পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছিল। জিরানিয়ার মাধববাড়ি বাস টার্মিনাল এলাকায় অবরোধ গড়েছিল আইপিএফটি-তিপ্রাহা এবং উপজাতি ছাত্র সংগঠন তুপ্রা ছাত্র ফেডারেশন। অবরোধ চলাকালীন আচমকা লাগোয়া দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে দেয় ছাত্র সংগঠনের কতিপয় উশৃঙ্খল যুবক। আগুনে ১৪টি দোকান পোড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বনধ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ এবং পরে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় পুলিশ শূন্যে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশের লাঠির ঘায়ে ছয় জন পিকেটার্স আহত হয়েছিলেন। আহতের মধ্যে দুজনকে আগরতলা মেডিক্যাল গভর্নমেন্ট কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং বাকি চারজনকে খুমলুঙ হাসপাতালে নিয়ে ভরতি করা হয়। পরবর্তীতে এই চারজনকেও খুমলুং থেকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদের সকলের চিকিৎসা চলছে এখানে। গোটা এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ করা হয়েছে। টহল দিচ্ছে আধাসেনা বাহিনীর জওয়ান। ঘটনার জের যাতে অন্যত্র না ছড়ায় তাই সমগ্র রাজ্যে প্রথমে ৪৮ ঘণ্টা এবং গতকাল রাত থেকে ফের আরও ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। হিন্দুস্থান সমাচার / নবেন্দু / এসকেডি / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image