Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, जनवरी 19, 2019 | समय 13:38 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

(লিড) সিবিআই জটিলতা অব্যাহত, ডিরেক্টর পদ থেকে সরাতেই বিস্ফোরক অলোক বর্মা, পাল্টা জবাব মুকুল রোহতগির, আরও বিপাকে আস্থানা

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 11 2019 10:13PM
(লিড) সিবিআই জটিলতা অব্যাহত, ডিরেক্টর পদ থেকে সরাতেই বিস্ফোরক অলোক বর্মা, পাল্টা জবাব মুকুল রোহতগির, আরও বিপাকে আস্থানা
নয়াদিল্লি, ১১ জানুয়ারি (হি.স.): প্রত্যাবর্তনের পর খুব বেশি সময় কাটেনি| মাত্র ৩৩ ঘন্টার মধ্যেই সিবিআই ডিরেক্টরের পদ হারিয়েছেন অলোক বর্মা| সিবিআই অধিকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর অবশেষে শুক্রবার মুখ খুললেন অলোক বর্মা| মিথ্যে, গুরুত্বহীন এবং প্রমাণ নেই, এমনই অভিযোগের ভিত্তিতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন অলোক বর্মা| অলোক বর্মার এহেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি বলেছেন, ‘অলোক বর্মার বক্তব্য সঠিক মনে হচ্ছে না| সিভিসি-র রিপোর্ট দেখার পরই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একজন সিনিয়র বিচারপতি| অথচ অলোক বর্মা বলছেন ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাঁর এই ব্যাখ্যা যথার্থ নয়|’ অলোক বর্মার অপসারণ নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ঠেস বিজেপি নেতা নরসিমহা রাওয়ের। এদিকে, অলোক বর্মার অপসারণ হতেই তাঁর জায়গায় দায়িত্ব বুঝে নিলেন এম নাগেশ্বর রাও। ক্ষমতায় এসেই অলোক বর্মার জারি করা নির্দেশগুলি প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন হোমগার্ড, দমকল ও অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্তার পদে অলোক বর্মাকে বসানো হলেও সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। অন্যদিকে, ঘুষের মামলায় আরও বিপাকে পড়লেন সিবিআই-এর স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা | অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করার পরিবর্তে, রাকেশ আস্থানার উপর থেকে গ্রেফতারির নির্দেশিকা প্রত্যাহার করল দিল্লি হাইকোর্ট | আর তাই রাকশে আস্থানাকে গ্রেফতারিতে বাধা নেই| দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-এর তদন্ত চলবে | সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ফিরে পান হারিয়ে যাওয়া গৌরব| গত বুধবারই সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর ডিরেক্টর পদে পুনর্বহাল হন অলোক বর্মা| কিন্তু, বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলির সিদ্ধান্ত নেয়| বৃহস্পতিবার রাতের সিদ্ধান্তে সিবিআই ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন হোমগার্ড, দমকল ও অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্তার পদে বসানো হয়েছে অলোক বর্মাকে| সিবিআই ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে অলোক বর্মা বলেছেন, ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে আমাকে সরিয়ে দিয়েছে| কিন্তু, আমি সিবিআই-এর স্বতন্ত্রতা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলাম| ফের দায়িত্ব নিতে বললে, আমি সেই চেষ্টাই করব|’ উল্লেখ্য, সিবিআই ডিরেক্টর অলোক বর্মা এবং সিবিআই-এর স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা পরস্পরের প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন| ওই পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে দু’জনকেই ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার| সিবিআই-এর অন্তর্বর্তীকালীন ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল নাগেশ্বর রাওকে| আচমকা ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অলোক বর্মা| শীর্ষ আদালতের নির্দেশে অলোক বর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশন (সিভিসি)-কে| গত মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানায়, অলোক বর্মাকে পুনরায় সিবিআই ডিরেক্টর পদে ফিরিয়ে আনতে হবে| এরপর বৃহস্পতিবার রাতের সিদ্ধান্তে সিবিআই ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন হোমগার্ড, দমকল ও অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্তার পদে বসানো হয়েছে অলোক বর্মাকে| যদিও হোমগার্ড, দমকল ও অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিজি পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে নারাজ অলোক বর্মা| কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন সদ্য প্রাক্তন সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মা| বিবৃতি মারফত অলোক বর্মা জানিয়েছেন, ‘প্রকৃত ন্যায়বিচার হয়নি| সিবিআই ডিরেক্টর পদ থেকে সরানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ায় তালগোল পাকানো হয়েছে|’ পার্সোনেল এবং ট্রেনিং ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারিকে লেখা চিঠিতে অলোক বর্মা উল্লেখ করেছেন, ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসর নেওয়ার কথা ছিল| এরপরও সিবিআই-এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি| বর্তমানে তিনি আর সিবিআই ডিরেক্টর পদে নেই| ডিজি ফায়ার সার্ভিস, অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং হোম গার্ডের ডিজি হওয়ার জন্য তাঁর বয়স অতিক্রম হয়েছে| তাই ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত| সিবিআই-এর আভ্যন্তরীন গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষিতে অলোক বর্মাকে অপসারণের পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ শানাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্ব| এমতাবস্থায় রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেস নেতৃত্বকে আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা জি ভি এল নরশিমহা রাও| রাহুলকে আক্রমণ করে জি ভি এল নরশিমহা রাও বলেছেন, ‘সিবিআই দ্বন্দ্বে অলোক বর্মার থেকেও বেশি কাঁদছেন রাহুল গান্ধী|’ বিজেপি নেতা জি ভি এল নরশিমহা রাও আরও বলেছেন, ‘সিবিআই আসল তদন্ত করছে অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে| সিবিআই-এর তদন্তে প্রকৃত সত্য সামনে চলে আসছে, তাই তাঁরা ভয় পাচ্ছে| আর এই কারণেই সিবিআই দ্বন্দ্বে নাক গলাচ্ছে কংগ্রেস|’ এদিকে, আবারও সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর অতিরিক্ত ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বভার বুঝে নিলেন এম নাগেশ্বর রাও| সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পরও ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন অলোক বর্মা| বৃহস্পতিবারই অলোক বর্মাকে সিবিআই ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন হোমগার্ড, দমকল ও অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্তার পদে বসানো হয়েছে| সিবিআই-এর ডিরেক্টর পদ থেকে অলোক বর্মা সরে যাওয়ার একদিন পরই, শুক্রবার সিবিআই-এর অতিরিক্ত অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার বুঝে নিলেন এম নাগেশ্বর রাও| কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন ডিরেক্টর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আগের মতোই সিবিআই অধিকর্তা হিসেবে কাজের দেখভাল করবেন অতিরিক্ত ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাও| পাশাপাশি সিবিআই-এর অতিরিক্ত অধিকর্তার দায়িত্ব নেওয়ার পরই অলোক বর্মার সমস্ত নির্দেশ প্রত্যাহার করেছেন এম নাগেশ্বর রাও| অন্যদিক, ঘুষের মামলায় আরও বিপাকে পড়লেন সিবিআই-এর স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা| অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করার পরিবর্তে, রাকেশ আস্থানার উপর থেকে গ্রেফতারির নির্দেশিকা প্রত্যাহার করল দিল্লি হাইকোর্ট| আর তাই রাকশে আস্থানাকে গ্রেফতারিতে বাধা নেই| দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-এর তদন্ত চলবে| দু’সপ্তাহ পর নেওয়া যাবে পদক্ষেপ| দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ, আগামী ১০ সপ্তাহের মধ্যে রাকেশ আস্থানা এবং দেবেন্দ্র কুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে হবে সিবিআইকে| নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আর্জি জানান রাকেশ আস্থানা| এফআইআর খারিজের আবেদন জানান ডেপুটি এসপি দেবেন্দ্র কুমারও| কিন্তু, শুক্রবার আস্থানা এবং দেবেন্দ্র কুমারের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট| আর তাই রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে পারবে সিবিআই| এমনকি তাঁর গ্রেফতারিতেও কোনও বাধা নেই| রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাংস ব্যবসায়ী মইন কুরেশি মামলায় তাঁর ঘনিষ্ঠ সতীশ বাবু সানার কাছ থেকে দু’কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন তিনি| সেই অভিযোগে আস্থানার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়| সেই এফআইআর-ই খারিজের আর্জি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আস্থানা| পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষারও আবেদন জানান তিনি| সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শুক্রবার আস্থানার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট| অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করার পরিবর্তে, রাকেশ আস্থানার উপর থেকে গ্রেফতারির নির্দেশিকা প্রত্যাহার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট| আগামী ১০ সপ্তাহের মধ্যে রাকেশ আস্থানা এবং দেবেন্দ্র কুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে হবে সিবিআইকে| হিন্দুস্থান সমাচার/রাকেশ/শুভঙ্কর/কাকলি
image