Hindusthan Samachar
Banner 2 गुरुवार, मार्च 21, 2019 | समय 16:05 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

(লিড)'দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার'-র প্রদর্শন বন্ধ করায় বিদ্বজ্জনদের প্রতিক্রিয়া, ক্ষোভ প্রকাশ অনুপম খের-র, ‘অ্যাক্সিডেন্টাল সিএম’ বানানোর দাবি দিলীপ ঘোষের

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 12 2019 9:43PM
(লিড)'দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার'-র প্রদর্শন বন্ধ করায় বিদ্বজ্জনদের প্রতিক্রিয়া, ক্ষোভ প্রকাশ অনুপম খের-র,  ‘অ্যাক্সিডেন্টাল সিএম’ বানানোর দাবি দিলীপ ঘোষের
কলকাতা, ১২ জানুয়ারি(হি.স.) : দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড: মনমোহন সিংয়ের রাজনৈতিক জীবনের উপর আধারিত হিন্দি চলচ্চিত্র ''দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার''-এর প্রদর্শনকে ঘিরে শনিবার উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতার বিভিন্ন সিনেমা প্রেক্ষাগৃহ| শুক্রবার ‘হিন্দ’-র পর এদিন কলকাতায় আরও কিছু সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে বন্ধ হয়ে গেল ''দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার''-এর প্রদর্শন| শুক্রবার রাতে কোয়েস্ট মলে নাইট শো চলাকালীন হঠাৎই একদল কংগ্রেস সমর্থক দলীয় পতাকা নিয়ে হলের ভিতর ঢুকে পরে বিক্ষোভ দেখায়| এই ঘটনার জেরে ৯ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ| শনিবার দক্ষিন কলকাতার ইন্দিরা, মেনকা, রক্সি সহ কোয়েস্ট মলেও বন্ধ হয়ে গেল ''দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার''-এর প্রদর্শন| এর আগে গত রাতে কোয়েস্ট মলে ৮.২০-এর শোয়ে চলছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর জীবন নিয়ে তৈরি ছবি ''দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার''| জানা গিয়েছে, সিনেমার নাম দেখানোর সময়েই জনা ষাটেক যুব কংগ্রেস সমর্থক দলীয় পতাকা হাতে নিরাপত্তা রক্ষীদের ধাক্কা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে পড়ে| এর পর প্রেক্ষাগৃহে ভাঙচুর চালিয়ে সিনেমার পর্দা ছিঁড়ে দেয় তারা| তটস্থ দর্শকরা তখন কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন চেয়ারের নিচে| কেউ আবার দৌড় লাগিয়েছেন দরজার দিকে| লালবাজার সুত্রে খবর, যে সকল প্রেক্ষাগৃহে এই সিনেমা চলছিল, সেই সব জায়গায় করা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে| কাল সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর সকাল থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সিনেমার বিতর্কে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। তা সত্বেও আজ কিছু হলে বন্ধ হয়ে গেল ''দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার''-এর প্রদর্শন| যুব কংগ্রেসের সহ সভাপতি রোহন মিত্র অবশ্য দাবি করছেন, কাউকে কোনও শো বন্ধ করতে বলা হয়নি| রাহুল গান্ধীও এই নিয়ে কোনওরকম নির্দেশ দেননি| কেন্দ্রীয় চরিত্র অনুপম খেরের নামেও একাধিক এফআইআর করা হয়েছে| প্রসঙ্গত, ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বিতর্ক সূত্রপাত| বিজেপি টুইট করে এই সিনেমার ট্রেলারের প্রচার করেছিল| যা সাধারনত বেনজির| প্রথম কোনও রাজনৈতিক দল সিনেমার প্রচার করল| কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ আনা হয়েছে, এই সিনেমার মাধ্যমে গান্ধী পরিবারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে| এদিকে সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সিনেমা শিল্প মহলে| এক কথায় এই প্রদর্শন বন্ধের বিষয়টিকে ধিক্কার জানিয়েছেন অনেকেই| শিল্পীর সৃষ্টিকে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলেই মন্তব্য করেন বিদ্বজ্জনেরা| এই প্রসঙ্গে সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র অনুপম খের ট্যুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানিয়েছেন, “কলকাতা সহ বেশ কিছু জেলার প্রেক্ষাগৃহে আমার অভিনীত ছবি ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’-এর স্ক্রিনিংয়ে এসে বিক্ষোভ দেখায় কিছু লোকজন৷ থিয়েটারে বসে থাকা দর্শকদের হুমকি দিয়ে ভয়ও দেখায় তারা৷ ঘটনাটির জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত৷ সরকার এবং আইন বিভাগকে আমার অনুরোধ এই বিষয়টির উপর একটু নজর দেওয়া হোক৷” “সিনেমাটিকে হিট করানোর দায়িত্ব কংগ্রেস নিজেই নিয়ে নিয়েছে| এভাবে সিনেমাটি দেখার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এই দল|” ''দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার''-র প্রদর্শন বন্ধ করা নিয়ে আজ এই ভাবেই ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-র কাছে মুখ খুললেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী| শনিবার তিনি এই বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরও বলেন, “সিনেমাকে সিনেমার মতই চলতে দেওয়া উচিত| শিল্পীর শিল্পস্বত্তায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারোরই নেই| সিনেমায় দেখানো বিষয়বস্তু যদি সত্যি ভুল হয় তাহলে তার প্রতিবাদ করার মত অনেক উপায় আছে”| হরনাথ বাবু এই প্রদর্শন বন্ধ করাকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে আমার সম্পূর্ন অধিকার আছে স্বাধীন ভাবে সিনেমা বানানোর| এদের এই বিক্ষোভের জেরে সিনেমাটা সুপার হিট হয়ে যাবে”| গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অচিন্ত্য বিশ্বাস জানান, “বিতর্ক রাজনৈতিক সিনেমার অঙ্গ| এই ধরনের সিনেমায় বিতর্ক থাকবেই| তার জন্য একেবারেই সিনেমা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে আমি ঘোর বিরোধী”| ‘বুদ্ধ ইন দ্য ট্রাফিক জ্যাম’এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই সিনেমাটির সময়ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যলয়ের পড়ুয়ারা| গণতান্ত্রিক দেশে থাকতে গেলে বা সৃষ্টিশীল কিছু তৈরি করতে গেলে সমালোচনা নেওয়ার ক্ষমতাটাও রাখা উচিত”| শিল্পী সমীর আইচ এবিষয়ে বলেন, “শিল্পকে শিল্পের জায়গায়ই থাকতে দেওয়া উচিত| সিনেমাতেও যদি রাজনীতি ঢুকে পরে তাহলে সেটা আর সিনেমা থাকবেনা| দর্শকের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত সিনেমাকে| ভালো লাগলে তাঁরাই সমাদর করবেন। আর খারাপ হলেও দর্শকই তাঁর ভর্ত্সনা করবেন”| এদিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলেও| এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা এবার ‘অ্যাক্সিডেন্টাল সিএম’ বানাবো| দিলীপ ঘোষ জানান, “নেতাজির ছবি নিয়েও তো বিতর্ক হয়েছিল| ‘অ্যাক্সিডেন্টাল সিএম’ করার জন্য অনেক অভিনেতা আছে, যাঁরা ভালো অভিনয় করেন”| দিলীপ ঘোষকে সিনেমার পর্দায় দেখা যাবে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি রিয়েল লাইফ বেশি পছন্দ করি রিল লাইফের থেকে| তাই যে যাই করুক ফাইনালে জিতব আমরাই”| অপরদিকে স্বাভাবিকভাবেই অন্য সুর শোনা গেল রাজ্যের প্রবীন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের গলায়| তিনি জানাচ্ছেন, “ বিজেপি থেকে এই ধরনের সিনেমা করার ঢালাও ব্যবস্থা করা হয়েছে| সিনেমায় রাজনীতির কোনও জায়গা নেই| এই ধরনের দাঙ্গা, হাঙ্গামা করে আটকানো যাবে না”| তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বিজেপিকে খোঁচা মেরে বলেন, “এইভাবে স্বার্থ চরিতার্থ করা যাবেনা| কাজের জনপ্রিয়তার উপর ভড় করে মোদী জিততে চাইছে|” সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন তৃনমূল সাংসদ | প্রসঙ্গত, ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বিতর্ক সূত্রপাত| প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর জীবন নিয়ে তৈরি ছবি ''দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার''| কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ আনা হয়েছে, এই সিনেমার মাধ্যমে গান্ধী পরিবারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে| কাল সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর সকাল থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সিনেমার বিতর্কে পোড়ানো হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। এর ফলস্বরূপ হিন্দ সহ ইন্দিরা, মেনকা, রক্সি ও কোয়েস্ট মলে বন্ধ করে দেওয়া হয় ''দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার''-এর প্রদর্শন| হিন্দুস্থান সমাচার/মৌসুমী/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image