Hindusthan Samachar
Banner 2 गुरुवार, मार्च 21, 2019 | समय 16:12 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

(লিড) বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকে বিরোধীদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jan 12 2019 10:21PM
(লিড) বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকে বিরোধীদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
নয়াদিল্লি, ১২ জানুয়ারি (হি.স.): আর মাত্র কয়েকমাস পরই লোকসভা নির্বাচন| শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন| আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের রণনীতি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত হল দু’দিন ব্যাপী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র জাতীয় পরিষদের বৈঠক| দু’দিন ব্যাপী ন্যাশনাল কাউন্সিল বৈঠকের অন্তিম দিন, শনিবার রামলীলা ময়দানে আয়োজিত বৈঠকে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| পূর্বতন ইউপিএ সরকারকে তুলোধনা করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে কৃষকদের সমস্যাও| পাশাপাশি ন্যাশনাল কাউন্সিল মিটিংয়ে বর্তমান সরকারের আগামী প্রকল্প এবং ভবিষ্যত কর্মসূচিও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| এদিন ন্যাশনাল কাউন্সিল মিটিংয়ের শুরুতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, মুকুল রায়-সহ অন্যান্যরা| সবশেষে ন্যাশনাল কাউন্সিল মিটিংয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও সরকার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে, অথচ এই সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও অভিযোগই নেই| আমাদের সত্যিই গর্বিত হওয়া উচিত|’ এরপরই পূর্বতন ইউপিএ সরকারকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের আগের সরকার দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল| এ কথা বললে ভুল হবে না যে, কেলেঙ্কারি এবং দুর্নীতির মধ্যেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বছর (২০০৪-২০১৪) হারিয়েছে দেশ|’ এরপরই বর্তমান সরকারের ভূয়শী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে আগেও রাস্তা তৈরি হয়েছে, উড়ালপুল হয়েছে| শেষ সাড়ে চার বছরে এই কাজগুলিই যে পরিমাণে গতিতে হয়েছে তা সত্যিই অকল্পনীয়| যে গতিতে রাস্তা-রেলপথ তৈরি হচ্ছে, আগে তা হলে দেশ কোথায় পেঁৗছত ভাৱুন| আগের গতিতে শৌচালয় বানানো হলে, সব ঘরে পৌঁছতে ১০ বছর লাগত| সবার ঘরে গ্যাস পেঁৗছতে আরও অনেক বেশি সময় লাগত| সব কাজ শেষ হয়নি, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি| দেশের মানুষের জীবন যাতে আরও একটু সহজ হয়, সেই চেষ্টাই করছি| সব সমস্যা মিটে গিয়েছে, এমন দাবি আমি করি না| প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে কৃষকদের সমস্যাও| প্রধানমন্ত্রীর কথায়, কৃষকদের সমস্যা দূরীকরণে আমরা তাঁদের পাশে রয়েছি| নতুন আধুনিক ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে| পূর্বতন শাসকরা অন্নদাতা কৃষকদের শুধুমাত্র ভোটদাতা করেই রেখেছিলেন| ২০২২-এর মধ্যে কৃষকদের আয় যাতে দ্বিগুণ হয়, সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি| আগের সরকার শেষ ৫ বছরে ৭ লক্ষ টাকা শস্য কৃষকদের কাছ থেকে কিনেছিল| আমরা কিনেছি ৯৫ লক্ষ টন খাদ্যশস্য| ডালের দাম বেড়েছে, এমন ব্রেকিং নিউজ এখন দেখেন? দেখেন না, তার কারণ হল আমরা এর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি নিয়েছি| উচ্চবর্ণের গরিবদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশকে এগোতে হলে গরিবদের নিয়েই এগোতে হবে| দেশের যুব সম্প্রদায় জানেন আর্থিক ও সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী ভারত| গরিব উচ্চবর্ণের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ সবার উন্নতি করবে| বিভেদ ঘুচিয়ে সবাইকে এক করাই মূল উদ্দেশ্য| সব কা বিকাশ সফল করতে হবে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই| পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে থাকত, এ প্রসঙ্গে খোঁচা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আয়ুষ্মান যোজনার আগে নরেন্দ্র মোদীর নাম আছে? জনধন যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনার আগে মোদীর নাম আছে?’ বর্তমানে সরকারের আমলে ব্যাঙ্কের ঋণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, ‘স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত (৬০ বছরে) ব্যাঙ্ক ১৮ লক্ষ কোটি ঋণ দিয়েছে| কিন্তু, কংগ্রেস সরকারের আমলে ৬ বছরেই ৩৪ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে| দু’ভাবে ঋণ এসেছে,এক-কমন প্রসেস এবং দুই-কংগ্রেস প্রসেস| কমন প্রসেসে ঋণ পেয়েছেন ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা|’ মহিলাদের কথা ভেঙে মেটারনিভি লিভ (মাতৃত্বকালীন ছুটি) ১২ থেকে ২৬ সপ্তাহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী| প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, ‘মহিলাদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে বিগত ৪ বছরে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে| অথচ বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও নিয়ে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে বিদ্রুপ করছেন| বহুচর্চিত অযোধ্যা মামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আইনজীবী মারফত অযোধ্যা মামলায় বিঘ্ন ঘটাতে চাইছে কংগ্রেস| কংগ্রেসের কি ধরনের মানসিকতা যে, তাঁরা প্রতিটি বিষয়ে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে?’ একই সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগড়ে সিবিআই-এর প্রবেশ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগড়ে সিবিআই-এর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে| তাঁরা এমন কি ভুল করেছেন যে ভয় পাচ্ছেন? আজ তাঁরা সিবিআইকে গ্রহণ করছে না, আগামীকাল অন্য কোনও এজেন্সিকে গ্রহণ করবে না| সেনাবাহিনী, পুলিশ, সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশন, ক্যাগ সবাই ভুল| শুধুমাত্র তাঁরাই সঠিক|’ দু’দিন ব্যাপী বিজেপির ন্যাশনাল কাউন্সিল বৈঠকের অন্তিম দিনে শনিবার সেখানে ভাষণ দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায়। এদিন তাঁর ভাষণে মুকুল রায় বলেন, “আমার স্বীকার করতে গ্লানি নেই যে, আমি পাপ করেছি। তৃণমূল তৈরি হওয়ার কাজে আমার ভূমিকা ছিল। কিন্তু বাংলায় সেই তৃণমূল এখন যে ভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে তা ভাবা যায় না। পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে বিরোধীরা মনোনয়ন পেশ করতে পারেননি। ১৮০ জন রাজনৈতিক কর্মী খুন হয়েছেন। বাংলায় পুলিশ রাজ চলছে। সেই কারণেই প্রায়শ্চিত্ত করতে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছি।” এর পরই মুকুল, মোদী-অমিত শাহকে কথা দেন, বাংলায় কুড়িটার বেশি আসন পাবে না তৃণমূল। মুকুলের বক্তৃতা শুনে হাততালি দিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। আবার তাঁকে সমর্থন জানাতে গিয়ে মুকুলের বক্তৃতা শেষ হতেই হাতে মাইক তুলে নেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তিনি বলেন, “এই প্যান্ডেলে বসে আন্দাজ করা যাবে না যে বাংলার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। সেখানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। বিজেপি কর্মীদের উপর কী পরিমাণ অত্যাচার হচ্ছে। তাদের খুন করা হচ্ছে।” বিজেপি সভাপতি বলেন, “বাংলার কর্মীদের পাশে পাহাড়ের মতো মজবুত হয়ে দাঁড়াতে হবে সবাইকে। সেই একাত্মতা জানাতে সবাই মিলে স্লোগান তুলুন,-ভারত মাতা কী জয়!” উল্লেখ্য, আর মাত্র কয়েকমাস পরই লোকসভা নির্বাচন| আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের রণনীতি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত হয় দু’দিন ব্যাপী বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠক| দু’দিন ব্যাপী ন্যাশনাল কাউন্সিল বৈঠকের অন্তিম দিন, শনিবার সকালেই রামলীলা ময়দানে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ| প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ছাড়াও, বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ি, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার-সহ অন্যান্যরা| দলের তাবর তাবর নেতাদের সঙ্গে জাতীয় মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পান মুকুল রায় | প্রসঙ্গত, বিজেপি-র জাতীয় অধিবেশনের মঞ্চে বরাবরই দলের শীর্ষ সারির নেতারা বক্তৃতা দেন। আবার রাজ্য স্তরের নেতাদের মধ্যে কখনও মুখ্যমন্ত্রীকে, কখনও বা রাজ্য সভাপতিকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতিদের সবাই যে সুযোগ পান তাও নয়। সে দিক থেকে রাষ্ট্রীয় পরিষদের বৈঠকে মুকুল রায়ের হাতে মাইক দেওয়া বিজেপি-র অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বইকি। –হিন্দুস্থান সমাচার /রাকেশ / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image