Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, फरवरी 19, 2019 | समय 22:09 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

সমীক্ষায় প্রকট রাজ্যে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক-ঘাটতির ছবি

By HindusthanSamachar | Publish Date: Feb 8 2019 5:20PM
সমীক্ষায় প্রকট রাজ্যে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক-ঘাটতির ছবি
কলকাতা, ৮ ফেব্রুয়ারি (হি. স.): রাজ্যে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক বা শিক্ষিকা-পিছু ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা সর্বভারতীয় অনুপাতের তুলনায় এ রাজ্যেদের কম| ফলে মার খাচ্ছে উচ্চশিক্ষায় পঠন পাঠন | তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভে অন হায়ার এডুকেশন’-এ। রাজ্যে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক-ঘাটতির ছবি প্রকট হয়ে উঠেছে এই সমীক্ষাতে। সর্বভারতীয় সমীক্ষায় সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে গত দেশের ক্ষেত্রে যেখানে সংখ্যাটা ৪৪! এ রাজ্যে ৩৪। অর্থাৎ, বাংলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-প্রতি পড়ুয়ার সংখ্যা সর্বভারতীয় অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি| এ রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনাম আছে যাদবপুরের| তারাও এই সমস্যা থেকে মুক্ত নয়| যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জুটা-র সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় শুক্রবার বিকেলে ‘হিন্দুস্থান সমাচার’কে বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত ঢিমেতালে চলছে। যাদবপুরও তার ব্যতিক্রম নয়। গত কয়েক মাসে কিছু নিয়োগ হলেও অনেকে এর মধ্যে অবসর নিয়েছেন| ফলে প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষকপদ খালি। পঠনপাঠন ও গবেষণার ক্ষতি হচ্ছে। আমরা সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের কাছে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম| আবার শীঘ্রই যাব|’’ কিভাবে মার খাচ্ছে পঠনপাঠন, তার ব্যখ্যা দিতে গিয়ে পার্থবাবু বলেন, “বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে নিজের লোক বসানোর চেষ্টা হচ্ছে| কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁরা উপযুক্ত ছাড়পত্র না পাওয়ায় যোগ্য় লোকের নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে|” বিজেপি-র শিক্ষক সেলের আহ্বায়ক দীপল বিশ্বাস ‘হিন্দুস্থান সমাচার’কে বলেন, ‘‘এ রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে হাজারো সমস্যা| শিক্ষক-প্রতি পড়ুয়ার সংখ্যা সর্বভারতীয় অনুপাতের তুলনায় আরও অনেক বেশি জয়ে যাবে বাংলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে|” কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম শিক্ষক সমিতি ওয়েবকুটা-র সাধারণ সম্পাদক কেশব ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের বিষয়টি এমনিতেই ঢিলেঢালা। তার উপরে অনেক নতুন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। সেখানে নিয়োগই হয়নি। অধিকাংশ ক্লাস আংশিক সময়ের শিক্ষকদের দিয়ে চালানো হয়।" ওই সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাতের প্রশ্নে কর্ণাটক, কেরল, অন্ধ্র, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, এমনকি ছত্তীসগঢ়েরও পিছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। দূরশিক্ষা ও রেগুলার কোর্স বা সাধারণ পাঠ্যক্রমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাতিক হার দেওয়া হয়েছে ওই রিপোর্টে। শুধু রেগুলার কোর্সে সর্বভারতীয় অনুপাত ৩০। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেটা ৩৯! রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর শিক্ষকপদ শূন্য থাকার অভিযোগ নিয়ে বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলি সরব হয়েছে বারবার। তাদের অভিযোগ, সময়ে নিয়োগ না-হওয়ায় পড়াশোনা থেকে গবেষণা— সবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের কলেজ সার্ভিস কমিশন বা সিএসসি। শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাতে সামঞ্জস্য না-থাকায় সম্প্রতি রাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষার পাঠ্যক্রম চালানোর অনুমোদন বাতিল করে দিয়েছিল ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফের ওই পাঠ্যক্রম চালু হলেও শিক্ষক-ঘাটতির সমস্যার বিশেষ সুরাহা হয়নি। রাজ্যে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৮০০। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে পড়ুয়া ভর্তির সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। অনেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু সর্বত্র সেই সব আসনও পুরোপুরি ভর্তি হয়নি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকপদ খালি থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল শিক্ষক সমিতির সভানেত্রী কৃষ্ণকলি বসুর দাবি, বাম আমলে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া খুবই শ্লথ ছিল। তৃণমূল সরকার তাতে গতি সঞ্চার করেছে। তিনি বলেন, ‘‘আগের যে-খামতি রয়েছে, সেটা পূরণ করতে তো সময় লাগবে।’’ হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
चुनाव 2018
image