Hindusthan Samachar
Banner 2 गुरुवार, अप्रैल 25, 2019 | समय 10:08 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

শিশুকন্যা রক্ষায় সরস্বতী পুজোর ভাবনা সিউড়িতে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Feb 9 2019 6:50PM
শিশুকন্যা রক্ষায় সরস্বতী পুজোর ভাবনা সিউড়িতে
সিউড়ি ৯ জানুয়ারি (হি. স.) : পাশের গ্রামের ছোট্ট মেয়েটার আচমকাই বিয়ে হযে গিয়েছিল। পরে যখন স্কুলে, পুলিশের পক্ষ থেকে ক্যাম্প হল তখন বুঝেছিলাম অত অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া অন্যায়। কিন্ত ততদিনে পাশাপাশি গ্রামের বেশ কয়েকটা মেয়ের অকালে বিয়ে হয়ে গেল। শুধু তাই নয় তাদের মধ্যে একটি মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বিয়ের পণ নিয়ে নতুন বৌকে মারধর করে বাপের বাড়িতে বসিয়ে দিয়ে যাবার ঘটনা ও দেখেছে সে। তাই গত দু’মাস আগে যখন স্কুলের মাস্টার মশাই ক্লাসে গিয়ে বলেছিলেন এবার সরস্বতী পুজোর ঠাকুর করা হোক পরিবেশ দূষন নিযে তখন ক্লাসে বসে চিৎকার করে ছাত্র শেখ হাফিজুল ও আশীষ ঘোষ বলেছিল স্যার এবার সবাই মিলে ঠাকুর তৈরি করব। তবে বিষয হবে "সেভ গার্লস চাইল্ড" মাস্টার মশাই তো হতবাক! ছাত্র দের মধ্যে শিশু কন্যা বাঁচানোর যে চেষ্টা তা শুনে আর সিদ্ধান্ত নিতে এক বিন্দু বিলম্ব করেন নি শিক্ষক মশাই। দু’মাস আগেই সিদ্ধান্ত হযে যায বিষয। সেই মত স্কুলের টিফিনের সময়, শনিবার হাপ ছুটির পর এছাড়াও ২৫ ডিসেম্বর ছুটি, ২৬ জানুয়ারি ছুটিতে ছয় জন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক মিলে তৈরি করেন দেবী সরস্বতী মূর্তি। এই মূর্তি তে দেখা যাচ্ছে দেবী কোলে নিয়ে রক্ষা করছেন সদ্যজাত কন্যা সন্তান কে। দেবীর দুপাশে একদল ছাত্রী যারা তাঁর কাটার মধ্যে আবদ্ধ। এই তার কাঁটা অবশ্যই কন্যা সন্তান দের প্রতি সমাজের কু সংস্কারের যে বেরা জাল তা ইঙ্গিত করছে। এমনই একটি দেবী সরস্বতী মূর্তি গড়ে সচেতনতার বার্তা দিতে চাইছে সিউড়ি ১ নং ব্লকের তিলপাডা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন প্রত্যন্ত গ্রাম অজয় পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে।স্কুলের শিক্ষক দীনবন্ধু বিশ্বাস গত ডিসেম্বর মাসে ক্লাসে ছাত্র দের নিযে আলোচনা শুরু করেন এবার সরস্বতী পুজোর কি থিম করা যায়। সেই মত আলোচনা শুরু হয। মাস্টার মশাই দীনবন্ধু বাবু পরিবেশ দূষন থিমের উপর প্রতিমা গডার পরিকল্পনা দেয। কিন্ত একাদশ শ্রেণির ছাত্র শেখ হাফিজুল ও দশম শ্রেণির ছাত্র আশীষ ঘোষ বলে ওঠেন স্যার এবার সেভ গার্লস চাইল্ড এর উপর আমরা প্রতিমা করলে কেমন হয়। সেই মত শুরু হয কাজ। গত তিনমাসের ছুটি দিনে হাফিজুল আশীষ ছাড়াও ক্লাস এইট এর বাপ্পা সাহা, পাপ্পু ধীবর, অভিজিৎ সাহা, ও বিশ্বজিৎ ধীবর। এরা মাস্টার মশাই এর সঙ্গে একনাগাড়ে কাজ করে যান। ছুটির দিন কে টার্গেট করে শুরু হয প্রতিমা তৈরির কাজ। সমাজে যখন মাতৃগর্ভে কন্যা ভ্রুণ আছে যেনে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়। আবার মেয়ে জন্মেছে বলে রাতের অন্ধকারে পরিবারের চাপে তাকে আস্তাকুডে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ কন্যা সন্তান বড় হবার পর থেকেই শুরু হয তার উপর শারিরীক মানসিক নির্যাতন। প্রথার মত কু প্রথার স্বীকার হতে হয তাদের। চলে কর্ম ক্ষেত্রে হেনস্থার মত একাধিক অত্যাচার। তাই শিশু কন্যা সন্তান রক্ষায় বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী কে অবলম্বন করে শিক্ষক ছাত্র দের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠতে থাকে কন্যা সন্তান রক্ষার কবজ। তাই তো যে দেবী মূর্তি তৈরি হয়েছে তার একে বারে সামনে অজস্র শিশু কন্যা আস্তাকুডে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় পরে আছে। আর এই সদ্য জাত কন্যা রক্ষায় প্রতিবাদে মুখর হয়েছে ২২ জন স্কুল ছাত্রী। যারা সমস্বরে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এই ভয়ঙ্কর অত্যাচার ও সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী দল তারা যেন নতুন সমাজ কে বার্তা দিতে চায় ওরা শুধু কন্যা হিসাবে গলার কাঁটা নয। যাদের তুমি আস্তাকুডে ফেলছো ওরাও একদিন তোমার "কন্যা রত্ন" হয়ে উঠবে। শুধু চাই ভালোবাসা দিযে সযত্নে লালন পালন। কিন্ত কন্যা সন্তান বাঁচানোর জন্য লডাই করা ওই স্কুল ছাত্রীদেরও কত সামাজিক কুসংস্কারের আগ্রাসনের পরতে হয়। প্রতিবাদীদের কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয় তা বোঝানোর জন্য ২২ জন ছাত্রীর সামনে দেওযা হযেছে তাঁর কাঁটার বাঁধা। যে প্রতীকী তাঁর কাটা বুঝিয়ে দিচ্ছে প্রতিবাদী দের ও বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় কত ভাবে। আর এত বাঁধা সত্বেও সদ্য জাত কন্যা সন্তান কোলে নিযে দেবী সরস্বতী অভয় দিচ্ছেন কন্যা সন্তান রক্ষার। স্কুলের শিক্ষক দীনবন্ধু বিশ্বাস যখন দেবী মূর্তি গড়তে ছাত্র দের ভাবনা কে প্রাধান্য দিযেছে তখন ছাত্র রা ছুটি পর কযেক কিলোমিটার দুরে তুম্বুনি গ্রামে থেকে প্রতিমা গড়তে মাটি এনেছে। সকলেই চাষী বাডির ছেলে তাই নিজের নিজের বাডি থেকে স্কুল আসার সময খড এনেছে। আর আপন মনের মাধুরী দিযে তারা কন্যা রক্ষায় দেবী মূর্তি গড়েছে। ছাত্র হাফিজুল, আশীষ রা বলেন, "আমরা গ্রামে আশেপাশে মেয়ে দের উপর যে আচরণ ব্যাবহার অকালে বিয়ে দেয়া দেখেছি। তা দেখেই মনে হয়েছে এই ভাবে প্রতিমা গড়ে যদি আমরা একটা সচেতনতার বার্তা দিতে পারি তাই স্যার এর সঙ্গে চেষ্টা করেছি।" স্কুলের শিক্ষক দীনবন্ধু বিশ্বাস বলেন, "ছাত্র দের ইচ্ছা টাকে প্রাধান্য দিযে ওদের ভাবনা কে সামনে এনে আমি ও ছাত্র রা একযোগে একটা সচেতনতার বার্তা দিতে চেয়েছি মাত্র।" তবে শুধু প্রতিমাই নয়, ওই বিষয়ে উপল স্কুলের তিন জন শিক্ষক সমুদ্র সেনগুপ্ত, কৌশিক ঘোষ, তাপস চট্টরাজ দারুণ কাগজ ছবি পেপারকাটিং দিযে কোলাজ তৈরি করে বিষয বস্তুকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশীষ ঘোষ বলেন, "স্কুলের শিক্ষক ছাত্ররা একজোট হয়ে দীর্ঘ দু’মাসের বেশী সময ধরে ছুটির দিনে টিফিনের সময় ক্লাস নষ্ট না করে এই প্রতিমা গড়েছে। এই উদ্যোগ সফল হবে যদি একজন ও এই প্রতিমা দেখে কন্যা সন্তান রক্ষায় সচেষ্ট হয় তাহলেই স্বার্থক হবে। হিন্দুস্থান সমাচার / হেমাভ
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image