Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, फरवरी 23, 2019 | समय 16:37 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

(লিড) উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্যে অবৈধ অনুপ্ৰবেশকারী ও উন্নয়ন নিয়ে নতুন দিশা দেখানোর প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

By HindusthanSamachar | Publish Date: Feb 9 2019 10:21PM
(লিড) উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্যে অবৈধ অনুপ্ৰবেশকারী ও উন্নয়ন নিয়ে নতুন দিশা দেখানোর প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর
গুয়াহাটি, ৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : একদিনে তিন রাজ্যে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী | প্রধানমন্ত্রী শনিবার অসমের চাঙ্গাসারিতে এক জনসভায় অবৈধ অনুপ্ৰবেশকারী ইস্যুতে সরব হন | অসমবাসীকে শোনান এর সমাধানের পথ | এর পর তিনি যান অরুনাচল প্রদেশে | ইটানগরের ইন্দিরা গান্ধী পার্ক ময়দান থেকে পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে আক্রমণ করে নয়া ভারত গড়া ডাক দেন | সবশেষে যান ত্রিপুরা | সেখানে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ১১ মাস আগে রাজ্যে যেভাবে নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়েছেন ত্রিপুরাবাসী, সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে | অবৈধ অনুপ্ৰবেশকারী রুখতে কড়া আইন তৈরি হচ্ছে, এতে অসম সুরক্ষিত হবে | অসম তথা অসমিয়াদের সুরক্ষা ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার নিষ্ঠা সহকারে নিরন্তর প্রয়াস বজায় রেখেছে। অসম-সহ দেশের যে-কোনও প্রান্তে অবৈধ অনুপ্ৰবেশকারীদের রুখতে কড়া আইন তৈরি হচ্ছে। এজন্য এনআরসি-র কাজও নিৰ্ধারিত সময় সম্পূৰ্ণ হওয়া খুব দরকার। শনিবার গুয়াহাটির পার্শ্ববর্তী চাংসারিতে এইমস-সহ কয়েকটি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধনের পর আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিন লক্ষাধিক জনতার সমাবেশ দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁকে আশীর্বাদ দিতে এত লোকের সমাগমস্থল নেহাত ছোট হয়ে গেছে। এর পরই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে তিনি তাঁর স্পষ্ট স্থিতি তুলে ধরেন জনতার সামনে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসম তথা অসমিয়ার সুরক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে সেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জেনেশুনে বিভ্ৰান্তি ছড়ানো হচ্ছে। নিতান্ত স্বার্থসিদ্ধির জন্যই কতিপয় ব্যক্তি ও দল-সংগঠন সহজ-সরল জনতাকে বিলের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে ভয়ংকর খেলায় মাতাল হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী দলের নেতাদের নাম না ধরে বলেন, ‘আমার এবং আমার সরকারের বিরুদ্ধাচরণকারীরা, চোখ খুলে আজকের জনসমুদ্র দেখুন, জনতার আগ্রহ ও উল্লাস দেখে আপনারা বোঝার চেষ্টা করুন এঁরা কী চান? আমার কাছে এঁদের প্রত্যাশা কী?’ এর পরই বলেন, অসম তথা সমগ্ৰ উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের ভাষা সংস্কৃতি রক্ষার জন্য বিজেপি তথা এনডিএ সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেই যাবেন। কামরূপ জেলার চাংসারিতে বিজয় সংকল্প শীর্ষক বিশাল জনসমাবেশে প্ৰধানমন্ত্ৰী অসমিয়া ভাষায় তাঁর ভাষণ শুরু করেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি বহু অভিলাষী প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন। আজকের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী উপস্থিত জনতার সামনে তিনি বলেন, এই সমাবেশ পূর্বের সর্বকালীন রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এ থেকেই প্রমাণিত, অসমের জনতা একটি শুদ্ধ এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে রয়েছেন। অসমবাসীর এই ভলোবাসা, মা কামাখ্যার আশীৰ্বাদ তাঁর ওপর রয়েছে তা তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি গুয়াহাটির সংবাদ মাধ্যমকেও ঠুকতে ভুলেননি। তিনি বলেন, গতকাল এবং আজ তিনি গুয়াহাটির পরিবেশ (কালোপতাকা) দেখে বিস্মিত হয়েছেন। সে-সব খবর সম্প্রচারিত ও প্রকাশিত হবে, কিন্তু আজকের জনসমাবেশ তাঁদের চোখে পড়বে না। সংবাদ মাধ্যমের মালিকরা তাঁর প্রতি কেন এত বীতশ্রদ্ধ তা তিনি বুঝতে পারছেন না, কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অসমের মহাপুরুষ এবং সাহসী বীরদেরও স্মরণ করেন। বলেন, মহাপুরুষ শংকরদেব, মাধবদেব, চাওলুং চ্যুকাফা, আজান পীর, লাচিত বরফুকনের অবদান তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁদের প্রদর্শিত ভাবধারায় অসম এক উন্নত রাজ্যে পরিণত হবে। তাছাড়া মরিগাওঁয়ে চলমান শংকর সংঘের অধিবেশনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্ৰদ্ধা জানিয়ে মোদী বলেন, ‘শংকরদেব এবং লক্ষ লক্ষ ভক্তবৃ্ন্দদের প্ৰণাম জানাচ্ছি।’ সুধাকন্ঠ ড. ভূপেন হাজরিকার ‘অসম আমার রপহী...’ (রূপসী) গানের দুই পংক্তি উচ্চারণ করে সদ্যপ্রাপ্ত ভারতরত্নকে শ্ৰদ্ধা জানান প্ৰধানমন্ত্ৰী। তিনি বলেন, ‘ড. হাজরিকা তাঁর সুরারোপিত গান গেয়ে বঞ্চিত নিপীড়িতদের জন্য আওয়াজ তুলেছিলেন। দেশমাতৃকার এই সুসন্তানকে ভারতরত্ন প্রদান করতে বহু বিলম্ব হয়ে গেছে। জীবদ্দশায় এই সম্মান পাওয়ার কথা ছিল ভূপেন হাজরিকার।’ কিন্তু কেন তা সম্ভব হয়নি, তদানীন্তন কংগ্রেস সরকারকে ঠুকে তার বিচারের দায় সঁপে দিয়েছেন জনতার ওপর। কংগ্ৰেসকে কটাক্ষ করে তিনি নয়া নামাকরণ করে ‘বিসি’ এবং ‘এডি’-কে ঠুকেছেন। বলেন, বিসি মানে বিফোর কংগ্রেস এবং এডি মানে আফটার ডায়নেস্টি। প্ৰধানমন্ত্ৰীর এবার সরাসরি হামলা, ‘আপনারা ভাবুন, অসম তথা দেশের এই সুসন্তানকে ভারতরত্ন প্রদান করতে কেন গড়িমসি করেছে কংগ্রেস সরকার। দেশকে যাঁরা গৌরবান্বিত করেছেন, সম্মানিত করেছেন তাঁদের সম্মান প্রদর্শন করতে কেন বিলম্ব হবে।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্য তারা সেই সদিচ্ছা প্রদর্শন করতে না পারলেও গোপীনাথ বরদলৈ এবং ভূপেন হাজরিকাকো ভারতরত্ন প্রদান করার সুযোগ আমি পেয়েছি।’ এ প্রসঙ্গে মোদী বলেন, ‘নিজের ঘরের নায়কদের যাঁরা ভুলতে পারে, সেভাবে তাঁরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিকাশও যে করতে হবে তা ভুলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘কলকাতা অতিক্রম করে অন্য অঞ্চল যে রয়েছে সে কথা তদানীন্তন সরকারগুলো কল্পনাও করতে পারেনি। কিন্তু আমাদের সরকার এই ধারণা পালটে দিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের জন্য এবারের বাজেটে বহু তহবিল ধার্য করা হয়েছে। অসমকে বিকশিত করতে আজ কয়েকটি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করা হয়েছে। উত্তরপূর্বের অৰ্থব্যবস্থাকে সর্বদিকে মজবুত করার বহু পরিকল্পনা তাঁর সরকারের রয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, বিগত সাড়ে চার বছরে বর্তমান সরকার অয়েল ও গ্যাস ক্ষেত্ৰে ১৪,০০০ কোটি টাকার প্ৰজেক্ট সম্পূৰ্ণ করেছে। প্ৰায় সাড়ে নয় হাজার প্ৰজেক্টে আজ তীব্ৰগতিতে কাজ চলছে। ১,২০০ কোটি টাকায় নিৰ্মীয়মাণ বায়োডিজেল প্ৰজেক্ট নুমলিগড়ে উদ্বোধন করা হয়েছে। এখানে ৬ কোটি ইথানলও প্ৰস্তত করা হবে। এই প্ৰজেক্ট নুমলিগড় রিফাইনারির ক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি হবে। বায়ো-ফুয়েলের পাশাপাশি অসম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক গ্যাস পাঠাতে গ্যাস গ্ৰিড তৈরি করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০১৪ সালের পর ২৫ লক্ষ গৃহস্থের বাড়িতে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। আজ তা দ্বিগুণ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে তা ২ কোটি ছোঁবে । মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল এবং তাঁর সরকারি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সর্বানন্দের টিম অসমকে দুৰ্নীতিমুক্ত রাজ্য গড়ার প্ৰচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বলেন, পূর্ববর্তী সরকার দুৰ্নীতিকে তাদের প্রশাসনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করেছিল। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং তাঁর (মোদী) বিরুদ্ধাচরণকারীদের নাম না ধরে বলেন, ‘এঁরা দেশের সুরক্ষার সঙ্গে ভয়ানক খেলায় মত্ত হয়েছে। এই সব দুৰ্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সে সব ক্ষেত্রে চৌকিদারের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। সজাগ চৌকিদারের নজরদারিতে দুর্নীতিগ্রস্তরা ছটফট করছে। এঁদের ছেড়ে কথা বলা হবে না। তা এই সব দুর্নীতিগ্রস্তরা বেমালুম টের পেয়েই সকালে ঘুম থেকে ওঠে রাত পর্যন্ত মোদীকে গালিগালাজ করছে। এত স্বাভাবিক। তিনি বলেন, মোদীকে কে কত গালাগাল দিতে পারে এর প্রতিযোগিতা চলছে এখন।’ প্রধানমন্ত্রী আজ তাঁর উদাত্ত ভাষণে অসম তথা অসমিয়ার সুরক্ষার জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের যে কতটা যৌক্তিকতা রয়েছে তার ব্যাখ্যা করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এই বিল নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জেনেশুনে বিভ্ৰান্তি ছড়ানো হচ্ছে। স্বার্থসিদ্ধির জন্যই কতিপয় ব্যক্তি এবং দল ও সংগঠন সহজ-সরল জনতাকে বিলের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে ভয়ংকর খেলায় মাতাল হয়ে উঠেছে। অসম চুক্তির ৬ নম্বর দফাকে শিগগির বলবৎ করতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি উচ্চস্তরের কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এই কমিটি অসমবাসীর মঙ্গল, আশা-আকাঙ্ক্ষার ভাবনাকে সম্মান দিয়ে উপযুক্ত প্ৰতিবেদন প্ৰস্তুত করবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি কংগ্ৰেস-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস ও অগপকে কটাক্ষ করে প্ৰধানমন্ত্ৰীর স্বভাবসিদ্ধ প্রশ্ন, যে-সব দল জনতার মধ্যে ভ্ৰম বা বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে তারা গত ৩৬ বছর কী করছিল? কেন সাড়ে তিন দশকে অসম চুক্তির রূপায়ণ করতে পারল না? ৩৬ বছরে যে কাজ কোনও সরকারের পক্ষে করা সম্ভব হয়নি, সেই কাজ বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্ৰীয় সরকার করে দেখাবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন মোদী। অসমের জনতার উত্থাপিত প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষায় পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি তুলেছেন। বলেন, ‘বিগত ৩৬ বছর আপনারা কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন? কোথায়, কোন সুখশয্যায় ঘুমিয়েছিলেন আপনারা? এখন অসমের আবেগ নিয়ে খেলছেন? এই ভয়ংকর খেলা বন্ধ করুন।’ তিনি বলেন, ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করতে গিয়ে অসমকে ধ্বংস হতে তাঁর সরকার দেবে না। যাঁরা ভোট ব্যাংকের জন্য অসমকে মাঝরাস্তায় এনে দাঁড় করিয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে লড়তে তিনি প্রস্তুত এবং সে পথেই এগোচ্ছেন তিনি বা তাঁর সরকার। বলেন, ‘অসমকে সর্বাবস্থায় বাঁচাতে হবে, এই মাকে রক্ষা করতে হবে আমার।’ জনতার উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘আমার প্ৰতি যতটুকু আশীৰ্বাদ আপনাদের আছে ততটুকু দায়িত্ব আমি পালন করবই, এই প্রতিজ্ঞা থেকে বিচ্যুত করার ক্ষমতা কারোর নেই।’ এত কিছু বলার পরও তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে আজ তিনি কোনও আলোচনা করতে চান না। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কেবল অসম এবং উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ভারত মাতা কী জয় বলে যাঁরা জয়ধ্বনী দেন সে-রকম অসংখ্য মানুষ বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে নিৰ্যাতিত হয়ে এ-দেশে এসেছেন। এঁরা এমনিতে ভারতে আসেননি। হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, পার্শি, শিখ ইত্যাদি যে-সব সংখ্যালঘু সে-সব দেশগুলো থেকে ভারতে এসেছেন, তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া ভারত সরকার তথা ভারতবৰ্ষের দায়িত্ব। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এ-দেশে আসবেন আর তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া হবে? তা মোটেও নয়। প্ৰয়োজনীয় যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, রাজ্য সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতেই বিদেশ থেকে আগত কোনও ব্যক্তি বা পরিবারকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তিনি ফের বলেন, ‘আমার সরকার অসম এবং অসমিয়াদের হিতাকাঙ্ক্ষী। অসমের জনসাধারণের কল্যাণ সাধনের জন্য তিনি সম্পূৰ্ণ দায়বদ্ধ। ৬ জনগোষ্ঠীকে জনজাতির মৰ্যাদা প্রদান সম্পর্কেও ভাষণে বলেছেন মোদী। বলেন, আহোম, মটক, মরান, চুতিয়া, কোচ-রাজবংশী এবং চা জনগোষ্ঠীকে জনজাতির মৰ্যাদা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়েছে সরকার। ৬ জনগোষ্ঠীকে জনজাতিকরণ করলে অসমের বৰ্তমান জনজাতিদের কোনও ক্ষতি হবে না, তাঁদের সম্পূৰ্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে আরও স্পষ্ট করে বলেন, এসসি, এসটি, ওবিসি-দের কোনও ক্ষতি না করেই তাঁর সরকার উচ্চবৰ্ণদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণ প্ৰদান করেছে। প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদী আজকের বিশাল জনসভাকে সম্বোধিত করার আগে চাংসারিতে নিৰ্মীয়মাণ এইমস-এর ভূমিপূজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শিলান্যাস করেছেন ছয়লেনযুক্ত গুয়াহাটি-উত্তর গুয়াহাটি সেতুর। ২,১৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে এই সেতু। কেবল এ-ই নয়, নৰ্থ-ইস্ট গ্ৰিড এবং সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়াৰ্কেরও শিলান্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর বলে কামরূপ, কাছাড়, হাইলাকান্দি এবং করিমগঞ্জে হবে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়াৰ্ক। এখান থেকেই তিনি তিনসুকিয়ার হলং মড্যুলার গ্যাস প্ৰসেসিং প্ল্যাণ্ট, ১৫,০০০ টাকা ব্যায়সাপেক্ষে নুমলিগড়ের এনআরএল বায়ো-রিফাইনারি প্ৰকল্প, পশ্চিমবঙ্গ-সিকিমের মধ্য দিয়ে বিহার সংযোগী ৭২৯ কিলোমিটার দৈৰ্ঘ্যের গুয়াহাটি-বারাউণি গ্যাস পাইপলাইনেরও আজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজকের সভামঞ্চে অন্যান্যদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, রেল প্রতিমন্ত্রী রাজেন গোহাঁই, অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সাংসদগণ যথাক্রমে বিজয়া চক্রবর্তী, রমেন ডেকা, আরপি শর্মা, কামাখ্যপ্রসাদ তাসা প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে বক্তব্য পেশ করেছেন মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। এদিন অসম থেকে তিনি যান অরুণচলপ্রদেশে | সেখানে ইটানগরের ইন্দিরা গান্ধী পার্ক ময়দান থেকে ফের অরুণোদয়ের দেশ অরুণচলের উন্নয়ন মানে ভারতের বিকাশ বলে তাঁর স্বপ্নের কথা উদাত্ত ভাষণে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সকালে গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমানে ডিব্রুগড়ের লীলাবতী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখান থেকে বায়েসেনার হেলিকপ্টারে আসেন ইটানগর। এখানে বিশাল জনতার সমাবেশমঞ্চ থেকে তিনি বোতাম টিপে প্রথমে উদ্ঘাটন করেন দূরদর্শনের বহু প্রতীক্ষিত নয়া চ্যানেল ‘অরুণপ্রভা’-র। এর পর যথাক্রমে সেলা সুরঙ্গের শিলান্যাস করার পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশের হোলেঙি গ্ৰিনফিল্ড বিমানবন্দর এবং জটেতে নিৰ্মীয়মাণ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এফটিআইআই)-এর স্থায়ী ভবনের শিলান্যাস এবং ৫০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্ৰের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শিলান্যাস কার্যক্রমের পর সমবেত বিশাল জনতার উদ্দেশ্যে উদাত্ত ভাষণ শুরু করেন রাজ্যের নিইশি উপভাষায় সম্বোধনের মাধ্যমে। এর পরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক অরুণাচল গঠন করতে সুষ্ঠু পরিকাঠামোর প্রয়োজন। এর জন্য গুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রে তাঁর এবং রাজ্যের পেমা খান্ডু সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিউ ইন্ডিয়া স্বপ্নের বলে উত্তরপূ্র্বে উন্নতি দ্ৰুতগতিতে চলছে। বলেন, ‘অরুণাচল প্ৰদেশ দেশের স্বাভিমান, সুরক্ষার গেটওয়ে। অরুণাচল আমার বিশ্বাসকে শক্তি দেয়, আমার সংকল্পকে অধিক শক্তিশালী করে অরুণাচল।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত পঞ্চান্ন সালে তদানীন্তন সরকারের গাফিলতির কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন হয়নি। এই অঞ্চলকে উন্নত করতে কোনও সদিচ্ছাই ছিল না বিগত সরকারগুলির। অন্ধকারের গহ্বরে ঠেলে ফেলা হয়েছিল গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে। এবার গহ্বর থেকে তুলে এই অঞ্চলকে আলোর পথে নিয়ে যেতে কেন্দ্ৰের বর্তমান সরকার তহবিল আবণ্টন এবং ইচ্ছাশক্তির কোনও ঘাটতি হতে দিচ্ছে না। ইতিমধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকার অর্থসাহায্য অরুণাচল প্রদেশকে প্ৰদান করা হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এছাড়া ১৩ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্য দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে অরুণাচল প্রদেশকে যে অনুদান তদানীন্তন কেন্দ্রীয় সরকারগুলি দিয়েছে, গত ৫৫ মাসে সে-থেকে দ্বিগুণ তহবিল প্রদান করেছে কেন্দ্রে তাঁর সরকার। তিনি বলেন, অরুণাচলের যোগাযোগ ক্ষেত্রে আমূল পরবিৰ্তন করা হবে এবং এর কাজ ইতিমধ্যে দ্রুতগতিতে চলছে, তা রাজ্যের জনতা স্বচক্ষে দেখছেন। এখানকার নির্মীয়মাণ বিমানবন্দর থেকে এখন সরাসরি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় জনতা যাতায়াত করতে পারবেন। বাড়বে পর্যটকদের আনাগোনা। এতে অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্রিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ৫০ বছর আগে শুরু হয়েছিল এই বিমানবন্দর। পাঁচ দশক ধরে তা অব্যবহৃত হয়ে পড়েছিল। আজ যে হোলেঙি বিমানবন্দরের শিলান্যাস স্থাপন করা হয়েছে তা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় গ্ৰিনফিল্ড বিমানবন্দর হবে। তাওয়াংকে রেল মানচিত্ৰে অন্তৰ্ভুক্ত করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দূরদর্শনের অরুণপ্রভা নামক চ্যানেলের শুরুয়াত করে তিনি বলেন, এই চ্যানেল অরুণাচলের জনতার জন্য ২৪ ঘণ্টা উপলব্ধ হবে। এর মাধ্যমে দুৰ্গম অঞ্চলের খবর ইত্যাদি খুব কম সময়ের মধ্যে গোটা দেশে সম্প্রচারিত হবে। এর মাধ্যমে অরুণাচলের পরম্পরা, নান্দনিক সৌন্দৰ্য্যের সঙ্গে সকলে পরিচিত হবেন। এছাড়া এফটিআইআই-এর বলে চলচ্চিত্ৰ এবং টিভি ক্ষেত্ৰে বহু মানুষ দক্ষ হবেন, এর দ্বারা দলে দলে প্ৰতিভার সৃষ্টি হবে। অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানে যে ৫০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আজ উদ্বোধন করা হয়েছে এর দ্বারা বহু মানুষ লাভবান হবেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দুহাত ভরে উজার করে সম্পদ দিয়েছে প্রকৃতি। এর সদব্যবহার আমাদের করতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারগুলি কেন প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদের ব্যবহার করতে পারেনি তা তাঁর মাথায় ঢুকছে না। প্রকৃতি প্রদত্ত অরুণাচলের ফুলের প্রশংসা করে এর সম্ভাবনার কথা ফের বলেছেন মোদী। বলেছেন, অরুণাচলের ফুল দেশের বাজার দখল করার যোগ্যতা রাখে। বলেন, জলের অভাব নেই অরুণাচলে। ভরপুর জল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করার বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আজ ১১০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্ৰকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর ট্ৰেন্সমিশন কার্য বিকাশের জন্য তিন হাজার কোটি টাকা অনুদানের কথা ঘোষণা করেছেন মোদী। এর মাধ্যমে অরুণাচলের পাশাপাশি গোটা উত্তরপূর্ব লাভ করবে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা। তাছাড়া সৌভাগ্য প্রকল্প বলে অরুণাচলের প্ৰায় সব গ্রামে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ভাষণে তিনি তাঁর ম্যাগনিফিকেন্ট নর্থইস্ট (Magnificent Northeast) শীৰ্ষক ট্যুইট সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন মোদী। বলেন, এই ট্যুইট-আহ্বানের ফলে তাঁর সহস্ৰাধিক ফলোয়ার্স রিট্যুইট করেছেন। বিভিন্ন সময়ে উত্তরপূর্ব ভ্ৰমণের আকৰ্ষণীয় ফটো তাঁর সঙ্গে শেয়ার করেছেন অসংখ্যজন। ভাষণে তিনি আয়ুষ্মান ভারত, প্ৰধানমন্ত্ৰী কৃষাণ সম্মান নিধি এবং জৈবিক কৃষিখেতের জন্য কেন্দ্ৰ পর্যাপ্ত সাহায্য প্রদান করার আশ্বাস দিয়েছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘আমি যেখানে যে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি, তার উদ্বোধনও আমি করি। তাই এ-কথা বলার অবকাশ নেই যে, বিকাশের পঞ্চধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বিজেপি সরকারের মূল লক্ষ্য।’ আজকের অনুষ্ঠানে সভামঞ্চে ছিলেন রাজ্যপাল অবসরপ্ৰাপ্ত ব্ৰিগেডিয়ার ড. বিডি মিশ্ৰ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু, মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, উপ-মুখ্যমন্ত্রী চাওনা মেইন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি তাপির গাও প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সর্বশেষ গন্তব্য ছিল দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা ত্রিপুরা | সেখানে তিনি বলেন, ১১ মাস আগে রাজ্যে যেভাবে নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়েছেন ত্রিপুরাবাসী, সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে | প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পরিবর্তনের সন্তুষ্টি রাজ্যবাসীর চোখেমুখে ফুটে উঠেছে। ত্রিপুরার বিকাশের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সবকিছু করে চলেছে। জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার ত্রিপুরা সফরে এসে বিকেলে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এ-কথাগুলি বলেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চে তাঁকে ফুল এবং জনজাতিদের রিসা পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। রিমোটের মাধ্যমে গোমতী জেলার গর্জি থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত নতুন করে তৈরি রেলপথের উদ্বোধন করে নয়া যাত্রীবাহী ট্রেনের সূচনা করেন। এর পর একইভাবে পশ্চিম জেলার নরসিংগড় এলাকায় নবনির্মিত ভবনে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম ট্রিপল আইটি ইস্টিটিউটের সূচনা করেন তিনি। পরে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেবের লেখা \"আধুনিক ত্রিপুরার শিল্পকার মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য\" শীর্ষক বই উন্মোচন করেন মোদী। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ত্রিপুরাবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর উদাত্ত বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ বছর ত্রিপুরার উন্নয়নে তদানীন্তন রাজ্য সরকার কোনও কাজ করেনি। বিজেপি সরকার ত্রিপুরার উন্নয়নে কাজ করছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার উত্তরপূর্ব ভারতের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। এর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ, ইন্টারনেট, বিমানপথ এবং বাংলাদেশের সহযোগিতায় ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে নৌপথে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের আশুগঞ্জ এবং চিটাগাং বন্দর ব্যবহার করে ত্রিপুরা-সহ উত্তরপূর্ব ভারতের উন্নয়ন করা হচ্ছে। গোমতী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি করে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশের মধ্যে জাহাজ চালানো হবে। এর ফলে ত্রিপুরা শুধু উত্তরপূর্ব ভারতেরই নয়, দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য হাব হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ত্রিপুরাবাসীর উন্নতির জন্য কাজ করে চলেছে। কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনেছে রাজ্য সরকার, যা রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবার ঘটেছে। তিনি বলেন, ফেনি নদীর উপর সেতুর কাজ চলছে। যা খুব শীঘ্রই শেষ হবে, গোমতী নদীর পাড় এবং নাব্যতা বাড়ানোর কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হবে। তারপর সেই নদীতে জাহাজ চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে ত্রিপুরাকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দ্বার বানানো হবে। দিল্লিতে মহাজোটের তীব্র সমালোচনা করেন মোদী। তিনি বলেন, দিল্লিতে মহাজোটে যাঁরা যাঁরা সামিল হয়েছেন তাঁরা ভাবছেন জনতা বোকা। কিন্তু যদি তাঁরা জনতাকে বোকা বলে ভবে থাকেন, তা হলে বলতে হবে এঁরা কিছুই জানেন না, এরা ভুল ভাবছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ সব বুঝে গেছেন, দিল্লিতে আগের সরকার কীভাবে টাকা লুট করেছে। এখন মানুষই জবাব দেবে। তিনি বলেন, বিগত বছরে সরকার যে-সব কাজ করেছে তাতে ''সব কা সাথ সব কা বিকাশ''-এর লক্ষ্যে এগিয়ে গেছে ভারত। কৃষক থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে বহু প্রকল্প হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক, পশুপালক, মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য বহু প্রকল্প হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাছাড়া এডিসিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তিনি বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিগত সরকারের স্বজনপোষণ নীতি পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে বিজেপি সরকার, জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১১ মাস আগে ত্রিপুরাবাসী যেভাবে নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়েছেন, সেভাবে এগিয়ে যেতে ত্রিপুরাবাসীকে বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন আস্তাবল ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বহু লোক মাঠে ঢুকতেই পারেননি। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে মাঠের আশপাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এদিন ত্রিপুরার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করেন। হিন্দুস্থান সমাচার / নবেন্দু / এসকেডি/ কাকলি
लोकप्रिय खबरें
चुनाव 2018
image