Hindusthan Samachar
Banner 2 गुरुवार, अप्रैल 25, 2019 | समय 19:59 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

সিবিআইয়ের জেরার মুখে ভেঙে পরেননি রাজীব কুমার

By HindusthanSamachar | Publish Date: Feb 10 2019 4:59PM
সিবিআইয়ের জেরার মুখে ভেঙে পরেননি রাজীব কুমার
কলকাতা, ১০ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): সিবিআইয়ের জেরার মুখে একবারের জন্যেও ভেঙে পরেননি দুঁদে গোয়েন্দা রাজীব কুমার । তাই, তাকে এখন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করছে সিবিআই । আগামীকাল তাঁকে কলকাতায় ফিরে আসতে দেওয়া হতে পারে বলে সিবিআই সূত্রে খবর । শনিবার রাতে গোয়েন্দাদের আরও একটি দল শিলংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন । রবিবার তাঁরা সেখানে গিয়ে অন্য অফিসারদের সঙ্গে যোগ দেন । রবিবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ১৮ জন অফিসার একসঙ্গে জেরা করছেন রাজীব কুমারকে । কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে ৩৫ থেকে ৪০টি প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে । বয়ান রেকর্ড করার সময় উপস্থিত থাকছেন ডিএসপি তথাগত বর্ধন এবং সিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পি সি কল্যাণ । ডিএসপি বর্ধনের নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গে সারদা মামলার তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই । রবিবার সকাল থেকেই শিলংয়ের অকল্যান্ড এলাকায় সিবিআই দফতর চত্বরে কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে । পুরো এলাকাটাকে ঘিরে রেখেছে মেঘালয় পুলিশ । সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, শনিবারের দীর্ঘ জেরার পরেও বহু প্রশ্ন থেকে গিয়েছে সিবিআই আধাকারিকদের মনে । এর আগে কুণাল ঘোষকে একাধিকবার সারদা কাণ্ডে প্রশ্ন করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা । কুণাল ঘোষের বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে রাজীব কুমারের বয়ান । এদিনের জেরায় কুণালের উপস্থিত থাকা অনেক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের । আগেও কুণাল বহু বার অভিযোগ করেছেন, চিটফান্ডের তথ্য ও প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে । এ ব্যাপারে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ । সারদা, রোজভ্যালি তদন্তে কলকাতা পুলিশ ও সিবিআইয়ের মধ্যে অনেক দড়ি টানাটানির পর অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার ৷ সূত্রের খবর, বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার প্রতারণা মামলার তথ্য পেতে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে একের পর এক প্রশ্ন করে সিবিআই আধিকারিকরা ৷ সেই প্রশ্নগুলো ছিল বড় বড় ৷ আর এই বড় প্রশ্ন নিয়েই নাকি আপত্তি করেন রাজীব কুমার ৷ তিনি তদন্তকারীদের কাছে আবেদন করেন, ছোট ছোট প্রশ্ন করার জন্য ৷ তিনি সিবিআই আধিকারিকদের বুঝিয়ে দেন, তাদের এই ধরনের প্রশ্ন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন ৷ সিবিআই সূত্রে খবর, পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সিবিআইয়ের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ধরন আলাদা ৷ রাজীব কুমারকে যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে ৷ জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে সিবিআই এই ধরনেরই প্রশ্ন তৈরি করে থাকে ৷ তবে তাতে কারও কিছুটা অসুবিধা হলে তখন তিনি কিছু সময়ের জন্য বিশ্রামে যেতে পারেন ৷ বিশ্রাম শেষে ওই একই ধরনের প্রশ্ন করা হবে ৷ প্রশ্নের ধরনের কোনও পরিবর্তন হবে না ৷ প্রথম দিন রাজীব কুমারকে মূলত সিট নিয়েই প্রশ্ন করা হয় ৷ শনিবার ৮ ঘন্টা দীর্ঘ জেরার পরেও বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও পাননি সিবিআই আধিকারিকরা । প্রাথমিক ভাবে তিন সেটের প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছিল। প্রথম সেটের প্রশ্ন পর্ব শেষ হওয়ার পরেও সারদা কাণ্ড নিয়ে আঁধার কাটেনি সিবিআই আধিকারিকদের । চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে যে এসআইটি গঠন করা হয়েছিল, তার দায়িত্বে ছিলেন রাজীব কুমার । সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনারে বিরুদ্ধে । কিন্তু রবিবার সকালে ফের তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয় । শনিবারের সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছে সিবিআই । আজ সকাল দশটা ২০ নাগাদ নাগাদ শিলংয়ের সিবিআই দফতরে পৌঁছন রাজীব কুমার। তাঁর যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সিবিআই দফতরে পৌঁছেছেন চিটফান্ড কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ । শনিবার থেকেই সিবিআইয়ের ডাকে শিলং এই রয়েছেন সারদা কাণ্ডে আপাতত জামিনে মুক্ত কুণাল ঘোষ । এদিন সকালে শিলংয়ের সিবিআই দফতরে পৌঁছে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে রবিবার আমাকে আসতে বলা হয়েছিল । সেই কারণেই আমি এসেছি । সারদা নিয়ে যাবতীয় তদন্তে আমি তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করব’। সিবিআই সূত্রে খবর, রবিবার রাজীব কুমার ও কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করছেন তদন্তকারীরা । রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে ফের শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব । প্রথম রাউন্ডের জেরার পর বেলা ১ টা ৪০ –এ রাজীব কুমার চলে যান ত্রিপুরা ক্যাসেল হোটেলে । সেখানে লাঞ্চ করার পর বিকেল ৩ তে ৫ নাগাদ তিনি ফিরে আসেন শিলংয়ের সিবিআই দফতরে । তদন্তকারী অফিসাররা সন্তুষ্ট না হওয়ায় ফের জেরা করা হয় কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে । জানা গেছে , কুণাল ঘোষের সঙ্গে কথা বলে নতুন কিছু প্রশ্নও তৈরি করতে করেছে সিবিআই । কাশ্মীর থেকে ২০১৩ সালে যখন গ্রেফতার করা হল সুদীপ্ত সেন এবং দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে, সে সময় ১ টি ল্যাপটপ এবং পাঁচটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছিল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিভ টিম বা সিট । সেগুলি অভিযুক্তের পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সারদা কাণ্ডের তদন্তের স্বার্থে তৈরি হওয়া সিটের দায়িত্বে থাকা রাজীব কুমার । ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া কীভাবে বাজেয়াপ্ত ল্যাপটপ, মোবাইল অভিযুক্তদের পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হল, এই নিয়ে সিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে পুলিশ কমিশনারকে । এদিকে, রাজীব কুমারের সঙ্গে শিলংয়ে গিয়েছেন কলকাতা পুলিশের তিন পুলিশ আধিকারিকও । ওই আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিসি মুরলীধর শর্মা এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (১) জাভেদ শামিম । আছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি দলও । হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image