Hindusthan Samachar
Banner 2 मंगलवार, अप्रैल 23, 2019 | समय 11:26 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

সোমবার শেষ বইমেলা, স্মরণীয় ঊপহার একগুচ্ছ

By HindusthanSamachar | Publish Date: Feb 11 2019 12:40PM
সোমবার শেষ বইমেলা, স্মরণীয় ঊপহার একগুচ্ছ
কলকাতা, ১১ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : কলকাতা বইমেলার আজ শেষ দিন। এই মেলা পাঠকদের উপহার দিল একগুচ্ছ মনে রাখার মত বই। ১৯৭৮ সালে পুজোসংখ্যা ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় প্রথম ইলাস্ট্রেশন ছাপা হয়। পছন্দ করেছিলেন সত্যজিৎ রায় স্বয়ং। পরের বছরেই ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় কর্মজীবন শুরু, অবসর নিয়েছেন বছর তিন। দেবাশীষ দেবের ছবিতে থাকে কার্টুনের মজা। সব রকম কাজের মধ্যে ছোটদের জন্য প্রচুর অলঙ্করণ করেছেন, বিশেষ করে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখার সঙ্গে তাঁর ছবির যুগলবন্দি খুবই জনপ্রিয়। সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে গবেষণাধর্মী বই রং তুলির সত্যজিৎ কিংবা বেড়ানোর গল্প আর ছবির বই ‘ঘুরি বেড়াই ছবি আঁকি’ তাঁর কাজকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। এ বার বেরোল আঁকায় লেখায় চার দশক (বুকফার্ম)— তাঁর যা কিছু আঁকা ও লেখা তার বাছাই করা কিছু অংশকে বিভিন্ন পর্বে ভাগ করে সাজানো, সঙ্গে তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন, প্রাসঙ্গিক মন্তব্য, স্মৃতিচারণ ও আত্মকথা। রঙিন ও সাদাকালো মিলিয়ে অজস্র ছবিতে ভরা বইটি বাংলা অলঙ্করণ শিল্পের এক আশ্চর্য জগৎকে তুলে ধরেছে। এক অনন্য চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রীর কলমে ফুটে উঠেছে শতাব্দীপ্রায় জীবনের নানা গল্প। বইয়ের নাম ‘ডাক্তার’। ’সোঁতা প্রকাশনা’-র এই বইয়ে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে অনেক অজানা কাহিনী। এর সঙ্গে মিলেমিশে কালিম্পং ও কলকাতার সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আখ্যানের বর্ণচ্ছটা বাড়িয়ে তুলেছে লেখকের ক‘জন কাছের মানুষের আলোকসম্পাত। লন্ডনে অত দিন ছিলেন, সাহেবদের কেমন লাগল? একদা এ প্রশ্নের উত্তরে হিমানীশ গোস্বামী (১৯২৬-২০১২) বলেছিলেন, ‘‘সাহেব তো দেখেছি কলকাতায়, গোয়াতে— লন্ডনে বেশ কিছু ইন্ডিয়ান দেখেছি বটে।’’ এই স্বভাবসিদ্ধ বাক্‌ভঙ্গিমাই ছিল তাঁর সরস গদ্যের উৎস। ‘‘সেন্স অব হিউমার তাঁর মনের শুশ্রূষা করেছে আজীবন’’, জানিয়েছেন কন্যা হৈমন্তী। পঁচিশ বছর বয়সে লন্ডনে গিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনে প্রথম চাকরি, ১৯৫১-৫৭ পর্যন্ত ছিলেন সে শহরে। বহু কাল পর লন্ডনের স্মৃতিপথে চলা শুরু করেন তিনি, ধারাবাহিক লিখতেন ‘শিলাদিত্য’ পত্রিকায়। ভিড় করে আসা মজার সে সব স্মৃতিই গ্রন্থিত হল এ বার— অবিস্মরণীয় লন্ডন (প্রতিক্ষণ)। প্রচ্ছদ-সহ সারা বইতে ছড়ানো যাবতীয় ছবি তাঁরই তোলা। ‘‘এডওয়ার্ড লিয়রের Nonsense লিমেরিক/ পারমিতা অনুবাদ করেছেন terrific!’’ লেখক-পরিচিতিটি নিখাদ সত্যি। পারমিতা দাশগুপ্তের দাড়িওয়ালা বুড়োটার (ভাষালিপি) তাঁর নিজের আঁকা ছবি ও বাংলায় অনূদিত ছড়ার এক টইটম্বুর ভাণ্ডার। ‘‘ক্ষুদেবাবু ঝড়ের দাপট না পেরে আর সামলাতে/ উড়ে এসে পড়লো সিধে মাছের ঝোলের গামলাতে/ রাঁধুনি তার ছিপটি এনে/ বড়শি গেঁথে তুললো টেনে—/ প্রাণে বেঁচে বললো বাবু— ‘হইনি কাবু হামলাতে।’’ এমন করে পঞ্চাশটা লিমেরিক ছন্দে, শব্দে, অন্ত্যমিলে, মজাদার ছবি সমেত হাজির করেছেন পারমিতা। লিয়রের অন্য ছড়ারও স্বচ্ছন্দ অনুবাদ করেছেন তিনি। ‘‘এই ধরনের হরেক রকম আজগুবি সব ছড়া— এই বইতে ছড়িয়ে আছে রং-বেরঙে মোড়া।’’ পেশায় ভূগোলের অধ্যাপিকা, প্রথাগত ভাবে কখনও আঁকতে না শিখেও পারমিতা চমৎকার একটি বই পাঠককে উপহার দিয়েছেন। দেশকালের জারকে ভেজানো ছন্দে মোড়া শব্দের জাদু এমনই যে তাঁর কাজকে ভাষান্তর না বলে রূপান্তর বলাই বোধ হয় যথাযথ। সঙ্গে তারই প্রচ্ছদ। রাবণ প্রকাশনার বরাবরের বৈশিষ্ট্য, ''স্মতিকথা''। সেই বৈশিষ্ট্যই পরম যত্নে আঁকা হয়েছে অরুণ সেনের উভচর স্মৃতি ''কলকাতার বাঙাল'' গ্রন্থে। কোনও এক সময় পূর্ববঙ্গবাসী বা কোনও পূর্ববঙ্গবাসীর উত্তর পুরুষ হলেও কলকাতায় এসেছেন এবং থেকেছেন নানা কারণে, সেই কলকাতার বাঙালদের পথচলার স্মৃতি এই বই, কলকাতার গলি থেকে হাঁটতে শুরু করে যা পৌঁছে যায় গঙ্গা আর পদ্মার দুই চরে।হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image