Hindusthan Samachar
Banner 2 शनिवार, मार्च 23, 2019 | समय 10:31 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

আশানুরূপ সাড়া ছাড়া শেষ হল বরাক-বঙ্গের ত্রিদিবসীয় সম্মেলন

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 10 2019 10:37PM
আশানুরূপ সাড়া ছাড়া শেষ হল বরাক-বঙ্গের ত্রিদিবসীয় সম্মেলন
হাইলাকান্দি (অসম), ১০ মার্চ (হি.স.) : বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের আঠাশতম দ্বিবার্ষিক কেন্দ্রীয় অধিবেশন এবার সাধারণ মানুষের আশানুরূপ সাড়া ছাড়াই রবিবার রাতে শেষ হয়েছে। শেষ দিনের প্রকাশ্য অধিবেশনে দর্শক-শ্রোতাদের কম উপস্থিতিতে রীতিমতো হতাশা ব্যক্ত করে গেলেন বিদায়ী সভাপতি সৌরিন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব৷ এবারের অধিবেশন কার্যত পর্বতের মুষিক প্রসব হয়েছে বলেও অনেকে বলাবলি করছেন। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে আয়োজিত বরাক-বঙ্গের সম্মেলন আগাগোড়া জুড়ে ছিল চরম অব্যবস্থা। এমন-কি গত দু’বছর ধরে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অধিবেশনের সমাপ্তি দিনে মাত্র পনেরো-কুড়ি কপি স্মরণিকা প্রকাশ করে দায় সারলেন অভ্যর্থনা সমিতির কর্মকর্তারা। তবে এ ব্যাপারে আয়োজকদের যুক্তি, তথ্যবহুল উন্নতমানের স্মরণিকা করার স্বার্থে তা কিছুদিন পর প্রকাশ করা হবে। উদ্বোধনী দিবসের মতো সমাপ্তি দিবসের অনুষ্ঠানও শুরুতে বিলম্ব হয়। যার ফলে অনেকেই ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন। রবিবার আয়োজিত প্রকাশ্য অধিবেশনে রহস্যজনকভাবে সম্মেলনের কর্মকর্তা ছাড়া বিশিষ্ট অন্য কাউকে মঞ্চে দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের যেমন কোনও আধিকারিক ছিলেন না, তেমনি কোনও মন্ত্রী, বিধায়কও ছিলেন না। আসলে শুক্রবার থেকে সম্মেলন শুরু হলেও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রতিফলন ঘটেছে সম্মেলনের প্রতিটি অনুষ্ঠানে। মুখ থুবড়ে পড়ে এবারের প্রতিটি কার্যক্রম। সম্মেলনের প্রথম দিন বরাকের তিন জেলার প্রতিনিধিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে নতুন কাউকে সুযোগ না দিয়ে পুরনো মুখ দিয়েই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মকর্তাদের তালিকায় যেমন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনও প্রতিনিধি নেওয়া হয়নি ঠিক তেমনি কোনও মহিলা প্রতিনিধিও রাখা হয়নি। সাধারণ জনগণকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে শামিল না করে পুরনো মুখ দিয়ে কমিটি গঠনের জেরে অনেকেই পরবর্তীতে অনুষ্ঠানে পা মাড়াননি বলে জানা গছে। আগে বিপুল সংখ্যয় সাধারণ মানুষ বরাক-বঙ্গের সম্মেলনে নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেও এবার কিন্ত তার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলাশাসক কীর্তি জল্লি, প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায়, প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এক লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। রবীন্দ্র ভবনে দর্শক মেরেকুটে তিরিশজন ছিলেন। তা-ও আবার সবাই বরাক-বঙ্গের সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত। অতিথিরা এই চিত্র দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। জেলাশাসক কীর্তি জল্লি মাত্র কয়েক মিনিট অবস্থান করে বক্তব্য পেশ না করেই চলে যান। এদিকে রবিবার কোনও তারকা বক্তা ছাড়াই ম্যাড়ম্যাড়ে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটে। এদিন কেন্দ্রীয় সমিতির বিদায়ী সভাপতি সৌরীন্দ্র ভট্টাচার্য প্ৰেক্ষাগৃহে দর্শক-শ্রোতাদের কম উপস্থিতি দেখে হতাশা ব্যক্ত করেন। নির্দিষ্ট সময়ের দু’ঘণ্টা পর আরম্ভ হয় প্রকাশ্য অধিবেশন। সভার শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন সম্মেলনের অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি সুদর্শন ভট্টাচার্য। তার পর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী রায় সম্পাদকীয় বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে গত দু’বছরের সংগঠনের কাজকর্মের খতিয়ান তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে লোকসংস্কৃতির গবেষক মহবুবুল বারীকে রাজমোহন নাথ স্মৃতি সম্মাননা এবং নেপালি ভাষার কবি ভক্তসিং ঠাকরেকে কবি অনুরূপা বিশ্বাস স্মৃতি সম্মাননা, রবীন্দ্রসঙ্গীত গবেষক পরিমল দে-কে ভুবনেশ্বর বাচস্পতি স্মৃতি সম্মাননা কবি জন্মজিৎ রায়কে প্রেমেদ্রমোহন গোস্বামী স্মৃতি ভাষা সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁর হয়ে সম্মাননা গ্রহণ করেন সুবীর রায়চৌধুরী। এবারের অধিবেশনে শতায়ু ভাষা গবেষক অমরেশ দত্তকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েচে। তাঁর হয়ে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন সঞ্জীব দেবলস্কর। আজকের প্রকাশ্য অধিবেশনের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত নাথ ছাড়াও অন্যদের মধ্যে সঞ্জীব দেবলস্কর, লোকসংস্কৃতির গবেষক মহবুবুল বারী, সুদর্শন ভট্টাচার্য, নীতিশ ভট্টাচার্য, অমূল্যকুমার পাল, আফজল হুসেন, বিভাসরঞ্জন চৌধুরী, ভক্তসিং ঠাকরে, গৌতমপ্রসাদ দত্ত, অন্তত দাস-সহ আরও অনেকে বক্তব্য পেশ করেছেন। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনদিন ব্যাপী অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটেছে। হিন্দুস্থান সমাচার / তুতন / এসকেডি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image