Hindusthan Samachar
Banner 2 सोमवार, मार्च 25, 2019 | समय 07:41 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

লোকসভা ভোটে শিক্ষকরাই পশ্চিমবঙ্গে তুরূপের তাস, চাপে পড়তে পারে শাসক দল

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 11 2019 10:33AM
লোকসভা ভোটে শিক্ষকরাই পশ্চিমবঙ্গে তুরূপের তাস, চাপে পড়তে পারে শাসক দল
কলকাতা, ১১ মার্চ (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের কয়েক লক্ষ অস্থায়ী শিক্ষক এবং হবু শিক্ষক ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকারের উপর। আগামী ভোটে তারা তুরূপের তাস হয়ে উঠতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। এসএসকে-এমএসকে শিক্ষক অর্থাৎ শিক্ষা সহায়করা ছাড়াও প্রায় একই সঙ্গে ভিন্ন দাবি নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন করছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী, পার্শ্বশিক্ষক, প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষাবন্ধুরা। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে একের পর এক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনের অবস্থানে ক''দিন আগে সরগরম হয়ে উঠেছিল সল্টলেক। প্রায় ১২ দিন আগে অবস্থান শুরু করেন কয়েক হাজার এসএসকে এবং এমএসকে শিক্ষক। সাতদিন ধরে সল্টলেকের উন্নয়ন ভবনের সামনে অবস্থান চালান শিক্ষা সহায়করা। তাঁদের একটাই দাবি, বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। তা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। তার বদলে গত বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবন অভিযান কর্মসূচি নেন শিক্ষকরা। করুণাময়ী থেকে মিছিল করে এলেও, তাঁদের ময়ূখ ভবনের আগেই আটকে দেওয়া হয়। ব্যারিকেড ভেঙে এগতে গেলে বাধা দেয় পুলিস। সেই সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে এক প্রতিনিধিদল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্য তাপস চক্রবর্তী বলেন, “আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি জানিয়েছি। তিনি এক মাস সময় চেয়েছেন।” শিক্ষামন্ত্রী ও রাজ্যপালের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেও ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তাঁরা। এসএসকে-এমএসকে শিক্ষকরা উঠে যেতেই, পার্শ্বশিক্ষক ও শিক্ষাবন্ধুদেরও অবস্থান তুলে নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। শিক্ষাবন্ধুদের একটা অংশ জানিয়েছে, বিশাল পুলিসবাহিনী এসে আমাদের ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে দিয়েছে। জোর করে চাপ দিয়ে আমাদের সেখান থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশিক্ষা মিশনের অধীনে কর্মরত এই কর্মীদেরও বেতন বৃদ্ধির দাবি অন্যতম। ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, শিক্ষাবন্ধুদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা কয়েক মাসে আগেই করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু শিক্ষাবন্ধু ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম সম্পাদক বিভূতি মণ্ডলের বক্তব্য, যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন প্রদান করতে হবে। অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষাবন্ধুদের যে বেতন দেওয়া হয়, সেই মতো এখানেও তা চালু করতে হবে। বেতন বৃদ্ধি করা হলেও, কেন তা ২০১৮ মার্চ থেকে কার্যকর করা হল না, সেটাই আমাদের প্রশ্ন। এসএসকে-এমএসকে শিক্ষকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেও এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের অনশন কিন্তু ১২ দিন ধরে চলছেই। গত সপ্তাহেই শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, অনশন না তুললে আলোচনায় বসবে না সরকার। অনশনকারীরাও অনমনীয়। সোমবারও তার ওঠার কোনও নাম নেই। রোদ-জলের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন আন্দোলনকারীরা। পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকারা সর্বভারতীয় প্রাথমিক শিক্ষকদের মত বেতনহার ও অরাজনৈতিকভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পৃথা বিশ্বাস ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরে রাজ্য স্তরে বহুবার ধর্ণা, মিছিল বিক্ষোভ করা হয়েছে। আন্দোলন করতে গিয়ে শিক্ষকদের জেল পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তাঁর সাথে আলোচনায় বসেন শিক্ষকরা। তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই ন্যায্য দাবির প্রতি সহমত পোষণ করেন, কিন্তু কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বা আদৌ শিক্ষকরা সর্বভারতীয় প্রাথমিক বেতন ক্রমে বেতন পাবেন কিনা সে বিষয়ে কোনও উত্তর দেননি। শিক্ষক-শিক্ষিকারা মুখ্যমন্ত্রীকে তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করেন এবং তার বক্তব্যের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। উনি তাঁদের সাথে দেখা করেননি, তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। বাধ্য হয়ে গত ২ মার্চ আমরা দিল্লি অভিযানের ডাক দিই। সব মিলিয়ে বেজায় চাপে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল। কয়েক লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার ভোট অনেক হিসেব বদলে দিতে পারে, এই বাস্তব সত্যটা অনুভব করে চিন্তিত তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী-নেতারা। হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image