Hindusthan Samachar
Banner 2 शुक्रवार, मार्च 22, 2019 | समय 13:36 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

অর্জুন-দীনেশ বিবাদ মেটাতে নবান্নে বৈঠক মমতার

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 11 2019 5:41PM
অর্জুন-দীনেশ বিবাদ মেটাতে নবান্নে বৈঠক মমতার
কলকাতা, ১১ মার্চ (হি.স) : জল্পনা ছিলই লোকসভা ভোটে প্রার্থী না করা হলে অর্জুন সিং চলে যেতে পারেন বিজেপিতে । তাই সোমবার মান ভাঙাতে নবান্নে অর্জুন সিংকে ডেকে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর সঙ্গে ছিলেন বারাকপুরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীও । বারাকপুর কেন্দ্রে দীনেশ ত্রিবেদীকে ফের সাংসদ করতে চলেছে তৃণমূল । কিন্তু ওই কেন্দ্রে সাংসদ হতে চান অর্জুন সিং । সোমবার দলের দ্বন্দ্ব মেটাতে অর্জুন সিং ও দীনেশ ত্রিবেদীকে নবান্নে ডেকে পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । জট কাটাতে দুজনের সঙ্গেই কথা বলেন তৃণমূল নেত্রী । জানা গেছে, দীনেশ ত্রিবেদীকেই বারাকপুর কেন্দ্রের প্রার্থী করতে চান তৃণমূল নেত্রী । একইসঙ্গে অর্জুনকেও দলে ধরে রাখতে চান । আর সে কারণেই দুজনকে ডেকে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী না করা হলে বিজেপির টিকিটে দাঁড়াতে পারেন অর্জুন সিং । বিজেপি সূত্রের খবর, মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগও রেখে চলেছেন উত্তর ২৪ পরগনার এই তৃণমূল নেতা । খবর হল, দীনেশ ত্রিবেদীকেই ফের প্রার্থী করা হলে তৃণমূল ছাড়তে পারেন ভাটপাড়ার বিধায়ক তথা উত্তর চব্বিশ পরগনায় শাসক দলের বাহুবলী নেতা অর্জুন সিং । কেননা অর্জুন মনে করেন, বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জন্য অন্যতম দাবিদার তিনিই । দীনেশ ত্রিবেদী বহিরাগত । বারাকপুরের সাংসদ হলেও তিনি স্থানীয় লোক নন, এমনকী বাংলারও লোক নন । এমনও শোনা যাচ্ছে, আগামীকাল মঙ্গলবারই দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তিনি । আর সে কথা কানে গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রীরও । তাই তার আগেই অর্জুনকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ধরে রাখার জন্য সোমবার চেষ্টা চালালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সূত্রের খবর, রবিবারও কালীঘাটে গিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি । অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, বারাকপুরে যে দীনেশ ত্রিবেদীকেই পুনরায় প্রার্থী করা হবে সে ব্যাপারে সপ্তাহ খানেক আগে ভাটপাড়ার বিধায়ককে ফোন করে জানান দলনেত্রী । সেই সঙ্গে নাকি এও বলেন, অন্তর্ঘাত যেন না হয় সেখানে । জবাবে অর্জুন সিং নাকি নেত্রীকে জানিয়ে দেন, বিরোধিতা করতে হলে দলের বাইরে গিয়ে তা সরাসরিই করবেন । দলের মধ্যে থেকে অন্তর্ঘাত করবেন না । এরপর থেকে শাসক দলের ওপরের সারির অনেক নেতা অর্জুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে খবর । সূত্রের খবর, তৃণমূল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে অর্জুন সিং হলেন বিহারের পর্যবেক্ষক । তাই, অর্জুন সিংকে প্রথমে বলা হয়েছিল, লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে যদি তাঁর এতো আগ্রহ থাকে, তা হলে বিহারের কোনও আসন থেকে তাঁকে টিকিট দিতে পারে দল । স্বাভাবিক ভাবেই এ প্রস্তাবে রাজি হননি অর্জুন সিং । পরে তাঁকে আসানসোলে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারেও প্রস্তাব দেওয়া হয় । কিন্তু তাতেও সম্মতি দেননি ভাটপাড়ার বিধায়ক । এর আগে ১৯৯৯ সালে ও ২০০৪ সালে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে সিপিএমের তড়িৎবরণ তোপদারের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন অর্জুন সিং । ২০০৪ সালে প্রায় পৌনে দু লক্ষ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন তিনি । কিন্তু ১৯৯৯ সালে তৃণমূল-বিজেপি জোটের প্রার্থী হয়ে সিপিএমের তৎকালীন ওই প্রভাবশালী নেতা তড়িৎ তোপদারকে যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছিলেন অর্জুন সিং । সে বার হেরেছিলেন মাত্র চল্লিশ হাজার ভোটে । তার পর থেকে গত বিশ বছরে বারাকপুর শিল্পাঞ্চল তথা উত্তর চব্বিশ পরগনার রাজনীতিতে অর্জুন সিংয়ের প্রভাব ও ক্ষমতা দুই বেড়েছে । অর্জুনের শ্যালক সুনীল সিংও নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়ক ও গাড়ুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান । ফলে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে অর্জুন সিং এখন তৃণমূলের গলার কাঁটা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল । হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image