Hindusthan Samachar
Banner 2 रविवार, मार्च 24, 2019 | समय 20:42 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

শিল্পী বিনোদ বিহারী অদেখা ছবির দেখা মিলবে শান্তিনিকেতনে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 11 2019 6:08PM
শিল্পী বিনোদ বিহারী অদেখা ছবির দেখা মিলবে শান্তিনিকেতনে
শান্তিনিকেতন ১১ মার্চ (হি. স.) : বিনোদ বিহারীর শেষ জীবনের পরিবারের সংগ্রহে থাকা ''অ দেখা'' দুর্লভ শতাধিক শিল্প কর্মের দেখা মিলবে এবার শান্তিনিকেতনে। কলাভবনের নন্দন প্রদর্শণশালায বিনোদ বিহারী শীর্ষক একটি প্রদর্শনী তে দেখা যাবে সেই সব দুর্লভ সম্পদের। বিনোদ বিহারীর শেষ জীবনের পাঁচ শতাধিক ছবি এতদিন দিল্লির বাড়িতে পরিবারের কাছে সংরক্ষিত ছিল। সেই সব ছবি বিশ্বভারতীর কলা ভবনে দান করল বিনোদ কন্যার নামে "মৃণালিনী ট্রাস্ট।" গত ডিসেম্বর মাসে পৌষ উৎসবের মাঝে এহেন অমূল্য সম্পদ বিশ্বভারতী কলাভবন কর্তৃপক্ষের হাতে আসে। কলা ভবনের পাওয়া বিনোদ বিহারীর পাঁচ শতাধিক কাজ গুলির মধ্যে রয়েছে, প্রায় কুড়ি ফুট লম্বা ''স্ক্রোল''এ সেই সময়ের ''খোযাই'' এর দৃশ্য। একই রকম ভাবে শান্তিনিকেতনে আদিবাসী গ্রামের উপর ল্যান্ডসস্কেপ। তার বিখ্যাত চাইনিজ স্কেচ বুক। ক্যালিগ্রাফিক্ স্টাইলের বহু বিখ্যাত ছবি। শান্তিনিকেতনের উপর তার বহু ল্যান্ডস স্কেপ ও রয়েছে ছবির তালিকায়। দৃষ্টি শক্তি হারানোর পর ও তিনি যে বহু ছবি এঁকেছেন তাও রয়েছে দানের তালিকায়। বিনোদ বিহারীর এই পাঁচশো ছবির মধ্যে থেকে কলাভবন কর্তৃপক্ষ একশো টি ছবি বাছাই করে আগামী ১২ মার্চ থেকে ১৫ দিনের জন্য একটি "না দেখা" এমন ছবির সম্ভার নিয়ে শুরু হচ্ছে প্রদর্শনী। কলাভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাছাই করা ছবি গুলির মধ্যে অগ্রাধিকার দেওয়া হযেছে শিল্পী বৈশিষ্ট্য পূর্ন পেন্টিং, স্ক্রোল'', পেপার গ্রাফস, ড্রইং, নেপালী জীবনের উপর ল্যান্ড স্কেপ, মুসৌরী ল্যান্ড স্কেপ, তার বিখ্যাত চাইনিজ স্কেচ বুক এর কয়েকটি পাতার প্রতিরূপ, যে স্কেচ বুকে বার বার ফুটে উঠেছে শান্তিনিকেতনের লাইফ, ল্যান্ড স্কেপ। বিশ্বভারতী কলা ভবনের অধ্যাপক আর শিবকুমার বলেন, "শিল্পী বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায়ের এই প্রদর্শনীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য শিল্পী যে বহু মুখী কাজের ধারা। তার মুখ্য কাজ এখানে দেখা যাবে। এখানে এমন বহু ছবি থাকছে যা না দেখা ছবি। শিল্পী মেজর কাজের এক্সজিবিশন।" সাল টা ১৯১৭ । দৃষ্টি শক্তি ক্ষীন বলে কোথাও পরতে পারছিল না সে। দাদা বন বিহারী গুরুদেবের পাঠ ভবনে ভর্তি করলেন। ঠিক দুবছরের মাথায় রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং কলা ভবন প্রতিষ্ঠা করলেন। ছবি আঁকতে ভালোবাসে ছেলেটা তাই কলা ভবনে ভর্তি হতে চায় সে। কিন্ত শিল্পী নন্দলাল বসু ও দাদা বন বিহারী আশঙ্কা করলেন, চোখে কম দেখে কি করে ছবি আঁকবে! রবীন্দ্রনাথ শুনে বললেন, ''ওর এত ইচ্ছা। ওকে কাজ করতে দাও।'' সে শুরু হল কলা ভবনের প্রথম দুই জন ছাত্র ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ দেব বর্মন ও বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায় এর শিল্প সাধনা। পরবর্তী তে যিনি ভারতের আধুনিক শিল্পধারার অন্যতম প্রথিকৃত। ''স্ক্রোল পেন্টিং'' ও ''চাইনিজ স্কেচ'' যার যুগান্তকারী আবিস্কার। এই দুটি কাজ যিনি তার স্ত্রী কে বিবাহের পর উপহার দিয়েছিলেন। সেই শিল্পী বিনোদ বিহারী দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যাবার পর ও ক্রমাগত এঁকেগেছেন একের পর এক অসামান্য ছবি। সেই সমস্ত শিল্প কর্ম নতুন প্রজন্মের কাজের প্রেরনা জোগায। কলা ভবন সূত্রে জানা গেছে, শিল্প গুরু অবনীন্দ্র নাথ ও নন্দলাল বসু প্রিয় শিষ্য বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায় কলা ভবনের পাঠ শেষ করে কলাভবনের শিক্ষক রূপে যোগদান করেন। শিল্প সৃষ্টিতে টেমপেরা তার প্রিয় মাধ্যম ছিল। একই সংগে রংতুলি ও ম্যুরালের কাজে সমান দক্ষ ছিলেন তিনি। ১৯৩৭ জাপান ঘুরে এসে তিনি প্রথম ভারতীয় শিল্প কলায জাপানি ভাবধারা প্রবর্তন করেন। বিশ্বভারতী হিন্দী ভবনের দেওয়ালে তার তৈরি ম্যুরাল ভারতের আধুনিক যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে পৃথিবীর বিভিন্ন শিল্পীরা এক বাক্যে স্বীকার করেগেছেন। ১৯৫৬ সালে চোখের অস্ত্রোপচারের পর সম্পুর্ণ রুপে দৃষ্টি শক্তি হারানোর পরও শিল্পী তুলি থেমে থাকেনি বলে জানান মৃণালিনী ট্রাস্টের সদস্য তথা কলা ভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শিল্পী আর শিবকুমার। তিনি বলেন, বিনোদ দার কে নিয়ে স্থায়ী গ্যালারি করার জন্য মানিদা ( শিল্পী কে জি সুভরামনিযাম ) তার শান্তিনিকেতনের বাড়ি টা বিশ্বভারতীকে দান করেগেছেন। সেদিনই থেকেই আমাদের মনে হয় বিনোদ দার কাজ তার কর্ম ভূমিতেই রক্ষিত হোক। তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।" ১৯৫৬ পর থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত বিনোদ বিহারী দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যাবার পর ও অসামান্য সব ছবি এঁকে গেছেন। তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কন্যা মৃণালিনী মুখোপাধ্যায় সংগে দিল্লি থাকতেন। শিল্পী জীবনের সমস্ত কাজ সেখানেই রক্ষিত ছিল। ভাস্কর্য শিল্পী মৃণালিনী মুখোপাধ্যায় জীবিত থাকাকালীন তার নিকট বন্ধু, আত্মীয়, শিল্পী, সাংবাদিক দের সংগে নিয়ে তার নামে ট্রাস্ট করেন। আগ্রহ প্রকাশ করে যান বাবার কাজ গুলি বিশ্বভারতী কে দান করার জন্য। এ বিষয়ে শিল্পী আর শিবকুমার বলেন, "বিনোদ দার কন্যা মৃণালিনী দেবীর প্রযানের পর অরুনা আদবানী সেই ট্রাস্টের প্রধান। মৃণালিনী দেবী বলতেন - গুরুদেব আর কলাভবন না থাকলে বাবার শিল্পী হওয়া হত না।তাই বাবার কাজ কলাভবন কেই দেওয়া উচিত। তার ইচ্ছা কে সম্মান জানিয়ে বিনোদ দার কর্ম ভুমি তে আমরা পাঁচ শতাধিক কাজ দান করেছি সেই সব কাজ থেকেই বাছাই করে ১০০ ছবির প্রদর্শনী হচ্ছে ।" কলাভবন সূত্রে জানা গেছে, দৃষ্টি শক্তি চলেযাবার পরও বিনোদ বিহারী একের পর এক অসামান্য শিল্প সৃষ্টি করেছেন। কলা ভবনের অধ্যক্ষের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন আপন দক্ষতায। এহেন শিল্পী, একাধারে প্রাক্তনী, অধ্যাপক শিল্প গুরুর এহেন প্রদর্শনী ঘিরে এখন সাজো সাজো রব শান্তিনিকেতনে। কলাভবনের অধ্যক্ষ গৌতম দাস বলেন, ভারতের আধুনিক শিল্প কলার অন্যতম স্তম্ভ বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায় সারা জীবনে যে অসামান্য কাজ করেগেছেন। তা মৃণালিনী মুখার্জি ট্রাস্টের সৌজন্যে উৎসবে গত ডিসেম্বর মাসে কলাভবনের হাতে আসে। এই কাজের জন্য অধ্যাপক আর শিবকুমার এর উদ্যোগ কে স্মরণ করতেই হবে। বিনোদ বিহারীর শান্তিনিকেতনে প্রকৃতি উপর যে অসাম্য স্ক্রোল''এর কাজ। চাইনিজ স্কেচ, মুরালস মত যে দুর্লভ কাজ তা এই প্রদর্শনী তে দেখা যাবে। যা নতুন প্রজন্ম দেখলে শান্তিনিকেতন কে নতুন রুপে দেখতে ভাবে। হিন্দুস্থান সমাচার / হেমাভ
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image