Hindusthan Samachar
Banner 2 सोमवार, मार्च 25, 2019 | समय 07:56 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় বের করে দিলেন ছেলে বৌমা, পুলিশের উদ্যোগে ঠাঁই হল হাসপাতালে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 11 2019 6:31PM
বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় বের করে দিলেন ছেলে বৌমা, পুলিশের উদ্যোগে ঠাঁই হল হাসপাতালে
জীবনতলা, ১১ মার্চ (হি.স.) : জীবনের শেষ কয়েকটা দিন কোথায় ছেলে, বউমার সাহচর্য পাবেন, আপ্যায়ন পাবেন, ভালবাসা পাবেন তা নয় কপালে জুটছে নিগ্রহ। অসহায় বৃদ্ধাকে খাওয়া পরা তো দূরের কথা দেখভাল করার বদলে বাড়ি থেকেই দূর করে দিয়েছেন ‘গুনধর’ ছেলে-বউমা। অসহায় বৃদ্ধার ঠাঁই জুটেছে বাড়ি থেকে খানিক দূরে একটি বন্ধ দোকানের চাতালে। সেখানেই অনাহারে-অনিদ্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিন-চারদিন। প্রতিবেশী বা পথ চলতি মানুষেরা দেখেও দেখেননি। খবর যায় জীবনতলা থানার ওসি সুভাষচন্দ্র ঘোষের কাছে। তিনি নিজে গিয়ে ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অসহায় বৃদ্ধার নাম রতন বালা মন্ডল(৮০)। দক্ষিণ ২৪ পরগণার জীবনতলা-তালদি রোডের গোবিন্দ নগর মোড়ে ওই বৃদ্ধার বাড়ি। স্বামীর মৃত্যু এবং মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তিনি ছেলে নিতাই মন্ডলের কাছে থাকতেন। গোবিন্দনগর বাজারেই নিতাই এর একটি চায়ের দোকান আছে। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, অভাবের জ্বালায় নিতাই খুব একটা মাকে দেখতেন না। মায়ের প্রতি কোন কর্তব্য করতে গেলে তাঁর স্ত্রী উজ্জ্বালা মন্ডল বাধা দিতেন। শারীরিক অসুস্থতার জেরে রতন বালার গায়ে ‘পোকা’ ধরেছিল সম্প্রতি। সেজন্য, স্ত্রীর চাপে পড়ে বাড়ি থেকে মাকে বার করে বাজারের মধ্যে একটি দোকানের সামনে শুইয়ে দিয়েছিল ছেলে। একটাই কম্বল গায়ে লেপ্টে কোনক্রমে ছিলেন ওই বৃদ্ধা, উদ্ধার্ঙ্গে কোন জামাকাপড় ছিল না। বিড়াল, কুকুর, শিয়াল যাতে কামড়াতে না পারে সেজন্য একটি লাঠিও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অশক্ত হাতে। তিন দিন এরকম চললেও কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সোমবার সকালে এই খবর যায় জীবনতলা থানার ওসি সুভাষচন্দ্র ঘোষের কাছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি গাড়ি নিয়ে ছুটে যান গোবিন্দনগরে। স্থানীয় সিভিক ভলান্টিয়ার ফকির মোল্লা ও অন্যন্য কয়েকজন কে ডেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পাঠান তিনি। বড়বাবু নিজে দু হাজার টাকা দেন চিকিৎসার জন্য, বাজার থেকে একটি নতুন শাড়িও কিনে নিয়ে যান ওই বৃদ্ধার জন্য। খুশিতে চিকচিক করে ওঠে বৃদ্ধার দুচোখ। মুখে কিছু বলতে না পারলেও চোখের দু ফোঁটা জল ফেলে বুঝিয়ে দেন তাঁর মনের অনুভূতি। মাকে রাস্তায় ফেলে রাখার জন্য বড়বাবু ধমক দেন বৃদ্ধার ছেলে নিতাই ও বৌমা উজ্জ্বলাকে। ধমকের মুখে দুজনেই স্বীকার করেন, “আমাদের ভুল হয়ে গেছে। আর এমনটা করব না। ভবিষ্যতে মায়ের খেয়াল রাখবো”। এলাকার বাসিন্দা রাম মন্ডল বলেন, “পুলিশ সবসময় কড়া, রাশভারি অবস্থায় দেখি আমরা। কিন্তু এই বড় বাবুকে অন্যরকম দেখলাম। ওঁর মানবিক রুপটা ফুটে উঠল আমাদের সবার সামনে”। হিন্দুস্থান সমাচার / প্রসেনজিত
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image