Hindusthan Samachar
Banner 2 शुक्रवार, मार्च 22, 2019 | समय 13:53 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ : বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 11 2019 7:42PM
ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ : বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা, ১১ মার্চ (হি. স.) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার বিক্ষোভে উত্তাল হল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। জাল ভোট, ব্যালটবাক্স উধাও, কেন্দ্র দখল, কারচুপি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের কথা ঘোষণা করেছে আওয়ামি লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলিগ ছাড়া সব ছাত্র সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাঁরা মঙ্গলবার থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। বলা হয়েছে, কোনও ক্লাস বা পরীক্ষা হবে না। এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ দাবি করে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। পরে আরও কয়েকটি সংগঠন অবস্থানে যোগ দেয়। স্লোগান দেওয়া হয়, "এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন, যে ভিসি ছাত্রলিগের সেই ভিসি চাই না।" তবে উপাচার্য ড. মহম্মদ আকতারুজ্জামান বলছেন, "নির্বাচন সুষ্ঠু এবং একইসঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে।" সন্ধ্যে ছ’টায়ও অবস্থান কর্মসূচি চলছে। অন্যদিকে চলছে ভোট গণনাও। অবস্থান কর্মসূচি থেকে ''কারচুপির নির্বাচন, জালভোটের নির্বাচন, প্রহসনের নির্বাচন মানি না''- এমন স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। কারচুপির এ নির্বাচনের দায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছে শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুর সওয়া ১টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভোট বর্জনের ঘোষণা করে বামধারাসহ চারটি সংগঠন ও জোট। বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট। ছাত্রদলও তাঁদের সমর্থন করে নির্বাচন বর্জনের কথা ঘোষণা করে। পরে ইসলামি ছাত্র আন্দোলনও ভোট বর্জনের ঘোষণা করে। সাংবাদিক সম্মেলনে ডাকসু’র সহ-সভাপতি প্রার্থী বামধারার নেতা লিটন নন্দী বলেন, "প্রহসন-জালিয়াতির এই নির্বাচন বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। হলে নয়, নতুনভাবে ভোট হতে হবে একাডেমিক ভবনে। সেই নির্বাচনে ব্যালটবাক্স হতে হবে স্বচ্ছ।" এদিন সকালে নির্বাচন শুরুর একঘণ্টার মধ্যে খবর আসে বাংলাদেশ- কুয়েত মৈত্রী হলে সিল মারা বস্তা বোঝাই ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। এরপর একে একে রোকেয়া হল, সুফিয়া কামাল হল, সূর্যসেন হল থেকে আসতে থাকে নানা অভিযোগ। প্রার্থীদের অভিযোগ ছাড়াও অভিযোগ আসতে থাকে সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকেও। সিল মারা ব্যালট, ব্যালট ভর্তি বাক্স, কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা ভোটারদের লম্বা লাইনসহ বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যেই চলতে থাকে ভোটগ্রহণ। একইসঙ্গে একাধিক সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থীর ওপর ছাত্রলিগের হামলার অভিযোগও আসে। বেলা একটার দিকে ছাত্রলিগ ছাড়া অন্য সব দল ভোট বর্জনের ঘোষণা করলে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। প্রায় ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ’র নির্বাচন যতটা আশান্বিত করেছিল, ভোট শুরুর মুহূর্ত থেকে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে ততটাই প্রশ্নবিদ্ধ ও ‘কলঙ্কিত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন ডাকসু’র প্রাক্তন নেতারা। তাঁরা বলছেন, "পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের আমলেও ডাকসু’র গায়ে আঁচড় পড়েনি। এবারের এই কলঙ্ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু’র সুনাম ও সম্মান ধ্বংস করেছে।" কেমন হল নির্বাচন বলতে গিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, "জাতীয় নির্বাচনে যে ধরনের কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে, ডাকসু-কে এর বাইরে রাখা যেত। কিন্তু সেই একই কলঙ্ক ডাকসু’তেও এসে লাগল।" প্রাক্তন ডাকসু নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, "সবাই এটাই আশঙ্কা করেছিলাম, সেটি আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে দেখলাম। এধরনের কলঙ্কজনক ঘটনা পাকিস্তানি সেনাশাসকদের আমলেও ঘটেনি। সেরকম অধঃপতনের মাধ্যমে সারাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এটা বরদাস্ত করা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও ডাকসু’র সম্মান ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।" ৩৭ বছর আগে ১৯৮২ সালে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন বর্তমানে প্রবাসী অধ্যাপক আলী রিয়াজ। তিনি বলেন, "ডাকসু নির্বাচনের নামে আজ যা ঘটেছে, তাকে নির্বাচন বলার কোনওই যুক্তি নেই। কলঙ্কিত হলেও তো কিছু হয়, এটি হচ্ছে গোটা দেশে নির্বাচনি ব্যবস্থা ধ্বংস করার যে প্রক্রিয়া তারই অংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ক্ষমতাসীন দলের অন্ধ সমর্থক শিক্ষকরা বুঝেশুনেই এটা করেছেন। তাঁদের যদি সামান্যতম আত্মসম্মান ও দায়িত্ববোধ থাকে, তবে এই মুহূর্তেই এই নির্বাচন বাতিল করে দেওয়া হবে তাঁদের কাজ। এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে আমি ১৯৭৩ সালের ডাকসু নির্বাচনের চেয়েও খারাপ মনে করি। কেননা, সেই সময়ে শিক্ষক ও প্রশাসন অন্ততপক্ষে বলতে পারত, ‘আমাদের কিছু করার ছিল না’।" ডাকসু’র প্রাক্তন ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, "সরকার সমর্থিত সংগঠনকে জিততে হবেই বলে এবারের নির্বাচনে এসব অনিয়ম করা হয়েছে। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষের ভোটকে হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে।" সর্বশেষ ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন মনে করেন, "ডাকসু নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার জন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে। ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা প্রথম থেকে দেখা দিয়েছে। সব ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি দাওয়াকে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যখন নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে যাচ্ছিল, ভিন্ন মতের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে সরকারি দলের শিক্ষকদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিল। ছাত্রলিগ ছাড়া আর সব সংগঠনের দাবি ছিল ভোটের সময় বর্ধিত করা, হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র করা, স্টিলের বদলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তা কিছুই করেনি। ডাকসু নির্বাচনকে যে কলঙ্কিত করবে, তাদের আচার-আচরণে তা প্রকাশ পেয়েছিল।" হিন্দুস্থান সমাচার/ বাসুদেব/ শ্রেয়সী / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image