Hindusthan Samachar
Banner 2 रविवार, मार्च 24, 2019 | समय 20:38 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ১৭ টিই নতুন মুখ

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 12 2019 7:33PM
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ১৭ টিই নতুন মুখ
কলকাতা,১২ মার্চ (হি.স.): মঙ্গলবার বিকেলে দলের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করলেন, ‘এ বারের ভোট সত্যিকারেরই চ্যালেঞ্জ’। আর সেই জন্য অমিত শাহ আর নরেন্দ্র মোদীর দিকে যথারীতি তোপও দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী । আর তারপরেই যখন ৪২ টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা পড়ে শোনালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে দেখা গেল ১৭ টিই নতুন মুখ । সেই সঙ্গে নির্বাচন কেন্দ্র বদলে দিলেন মুনমুন সেনের । কোনও বিধায়ককে লোকসভা ভোটে প্রার্থী করা হবে না বলে আগে তিনি যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই অবস্থান থেকে আজ ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এবার বিধায়কদের মধ্যে থেকে প্রার্থী হলেন, মহুয়া মৈত্র, আবু তাহের, অপূর্ব সরকার । মন্ত্রিসভা থেকে আনা হল পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকে। সেই সঙ্গে রাজ্যসভা সাংসদ মানস ভুইঞাঁকে প্রার্থী করা হল মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রে । রাজনৈতিক মহলের ধারনা, মোদী বিরোধী সরকার গড়তে আশাবাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কোনো ভাবে অবিজেপি সরকার হলে সেই সরকার গঠনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ভুমিকা থাকবেই । সেক্ষেত্রে তার বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় যোগ দেওয়াতে পারেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মানস ভুইঞাঁ, মহুয়া মৈত্রদের । ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ২৯৪টি আসনের মাত্র ১২টি আসনে প্রার্থী বদল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । শতাংশের বিচারে নগন্য । কিন্তু এবার ৪২টিতে ১৭টি বদল, যা তৃণমূলের ইতিহাসে নজিরবিহীন । যদিও মাত্র পাঁচ জনের ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো । এবারে লড়াই করছেন না সাংসদ অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায় । বয়েসের কারণেই তিনি এবার আর ভোটে দাঁড়াতে চান না বলে তৃণমূল সুপ্রিমোকে অনুরোধ করেছিলেন । সেই অনুরোধ রক্ষা করেই এবার আর সন্ধ্যা রায়কে টিকিট দেওয়া হয়নি । সন্ধ্যা রায়কে পাশে বসিয়ে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘উনি মন দিয়ে লোকসভার কাজ করেছেন । তবে এখন বেশি ছোটাছুটি করা ওঁর পক্ষে মুশকিল । তা ছাড়া অন্য কিছু কাজও আছে’। আবার ঝাড়গ্রামের সাংসদ উমা সরেনকে দেখিয়ে বলেছেন, ‘ওঁকেও টিকিট দেওয়া হচ্ছে না । উমা বাচ্চা মেয়ে । দলের হয়ে কাজ করতে চাইছে’। একই ভাবে যাদবপুর কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘সুগত বসু আমাকে জানিয়েছেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ভোটে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তাঁকে অনুমতি দেয়নি’। এবং সবশেষে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুব্রতদা বলেছেন আমি দলের হয়ে কাজ করব । আমি আর ভোটে প্রার্থী হতে চাই না’। তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাই বলছেন, এতো বিপুল সংখ্যায় প্রার্থী বদলের কারণ স্বাভাবিক ভাবেই প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে বলা সম্ভব নয় । আসল কারণ একেবারেই অন্য । তাঁদের কথায়, সুব্রত বক্সী যে লোকসভায় আর প্রার্থী হতে চান না তা নেত্রীকে বহু আগে থেকেই জানিয়েছিলেন । কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে প্রার্থী বদলের কারণ মূলত একটাই, যাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ভাবে বিপুল প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছিল । এঁদের অনেকেই নিজের নির্বাচন কেন্দ্রে যেতেন না বললেই চলে । স্থানীয় সংগঠন ও নিচু তলার কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছিন্নতা এতটাই বেশি ছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছিলেন, এঁদের ফের প্রার্থী করলে পরাজয় নিশ্চিত । রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত দুটি লোকসভা ভোটে বাংলায় রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল একেবারেই ভিন্ন । ২০০৯ সালের ভোটের সময়ে বামেরা অনেকটাই জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছিল । সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের ভাবমূর্তি তখন উজ্জ্বল । তাদের সঙ্গে জোট করার ফলে সংখ্যালঘু ভোটের সিংহ ভাগই কংগ্রেস-তৃণমূলের উপর আস্থা রেখেছিল । তাতেই সোনা ফলেছিল । আবার ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় রাজ্যে শক্তপোক্ত বিরোধী বলে কেউই ছিল না । বামেরা দুর্বল, কংগ্রেসের তথৈবচ অবস্থা, আর বিজেপি উঠে এলেও বুথ স্তরে তাদের সংগঠন নেই । এই ত্রহ্যস্পর্শে ৩৪ টি আসন জিতে নিয়েছিল তৃণমূল । কিন্তু এবার নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে । যেহেতু বাম ও কংগ্রেস রাজ্য রাজনীতিতে অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছে, তাই বিরোধী রাজনীতির পরিসর প্রায় দখল করে নিয়েছে বিজেপি । ভোটে এক রকম মেরুকরণ হয়েই গেছে তৃণমূল বনাম বিজেপি । বাস্তবিক সেই কারণেই এ বার প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খুবই সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলেছেন মমতা । বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে, গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বার বার দেখা হয়েছে কাকে প্রার্থী করলে কোনও আসন জেতার সম্ভাবনা রয়েছে । অর্থাৎ উইনেবিলিটি বা জেতার ক্ষমতা বিচার করেই প্রার্থী করা হয়েছে । তৃণমূলের তালিকা থেকে এও পরিষ্কার, চেষ্টা চরিত্র করেও বেশ কয়েকটি আসনে সর্বসম্মত কোনও স্থানীয় প্রার্থী পাওয়া যায়নি । যেমন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্র । সেখানে শম্পা দরিপাকে প্রার্থী করার ব্যাপারে শুরুতে ভাবা হয়েছিল । কিন্তু তীব্র আপত্তি করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ । শেষ পর্যন্ত বাঁকুড়ায় প্রার্থী করা হয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তালিকায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুটি কেন্দ্র, যাদবপুর এবং বসিরহাট । বামেদের বরাবরের শক্তিশালী কেন্দ্র যাদবপুরে কঠিন লড়াই তৃণমূলের । আর সেকথা মাথায় রেখেই বোধহয় এবার এই কেন্দ্রে একেবারে অন্যরকম সমীকরণ তৈরি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো । যাদবপুরেও কোনও সর্বসম্মত স্থানীয় প্রার্থী পাওয়া যায়নি । তাই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকায় মিমির নাম শুনে তাই চমকে উঠেছেন অনেকেই । আর তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে । আরেক স্পর্শকাতর কেন্দ্র বসিরহাটেও এবার কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল । সেখানে সাংসদ ছিলেন ইদ্রিশ আলি । তিনি যে লড়ছেন না, তা গোড়াতেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এও মনে করা হচ্ছিল, সেখানে আরও শক্তিশালী কোনও প্রার্থীকে দাঁড় করানো হতে পারে । কিন্তু, একই কারণে বসিরহাট আসনে প্রার্থী করা হয়েছে অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে । তৃণমূলের অনেকের মতে, আসানসোলে মুনমুন সেনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তও তাৎপর্যপূর্ণ । ওই আসনে এক সময়ে বিজেপির বিক্ষুব্ধ সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হয়েছিল । কিন্তু তিনি রাজি হননি । তৃণমূল সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বুঝতে পারেন, শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বা আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান জিতেন্দ্র তিওয়ারির মধ্যে কোনও একজনকে প্রার্থী করলে অন্তর্কলহের জন্য হারের মুখ দেখতে হতে পারে । শেষমেশ আর কাউকে না পেয়ে মুনমুনকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কৃষ্ণনগরের দুবারের সাংসদ অভিনেতা তাপস পালকে এবার প্রার্থী করে নি তৃণমূল । এছাড়াও আরেক তারকার ঠাঁই হওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় । তিনি ইন্দ্রাণী হালদার । সম্প্রতি রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা চোখে পড়ার মতো । তাই মনে করা হচ্ছিল, তিনিও লোকসভায় তৃণমূলের হয়ে লড়বেন । কিন্তু সেই আশাভঙ্গ হল । ইন্দ্রাণীকে এবারের মতো আর নির্বাচনী লড়াইয়ে রাখলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক / কাকলি
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image