Hindusthan Samachar
Banner 2 रविवार, मार्च 24, 2019 | समय 20:58 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

আপাতত বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না : বৈশাখী

By HindusthanSamachar | Publish Date: Mar 13 2019 5:40PM
আপাতত বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না : বৈশাখী
কলকাতা, ১৩ মার্চ (হি.স.) : এখনই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ বান্ধবী’ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।বুধবার রীতিমত সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানালেন তিনি। এদিন তিনি সাফ জানান, ‘বিজেপি কেন? কোনও রাজনীতিতেই যোগ দিচ্ছি না’। বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে রাজ্যের রাজনৈতিক শিবিরে আলোড়ন তুলে দিয়েছিল ওই গুঞ্জন। কিন্তু শোভন বা বৈশাখী সে বিষয়ে মুখ খুলছিলেন না কিছুতেই। আজ মুখ খুললেন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হওয়ার পরের দিন। বলেন, ‘আমার এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে গুজব ছড়িয়েছে। তবে আপাতত আমি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছি না’। সেই সঙ্গে মিলি আল আমিন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপিকা জানিয়ে দেন, ‘শোভনদা এখনও তৃণমূলের বিধায়ক ও কাউন্সিলর। তিনিও কোনও দলে যোগ দিচ্ছেন না’। সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের শোভন চট্টোপাধ্যায়ের শ্যালকের ফ্ল্যাটে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বলেন, ‘গত ২ মার্চ বিজেপির এক নেতা আমায় ফোন করে আসন অফার করেন। কিন্তু আমি মনে করেছি, যে দল আমি কখনও করিনি সেখানে গিয়ে হঠাৎ করে প্রার্থী হলে কর্মীরা ঠিকভাবে নেবে না’। কিন্তু বিজেপির সঙ্গে কথা শেষ, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই বলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগেই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে ফোনে জানিয়েছিলেন, তিনি রায়চকে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন। তাঁর মা, মেয়ে এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় যে বাংলোতে ছিলেন তা ঘিরে রেখেছিল সশস্ত্র দুস্কৃতীরা। আড়াই দিন ধরে তাঁদের সেই অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন বৈশাখীর। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বৈশাখী সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সেদিন মিডিয়ার জন্যই বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি’। তাঁদের ওখানে আটকে পড়া নিয়ে টুইট করেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও। এদিন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অধ্যাপিকা বান্ধবী বলেন, ‘সূর্যবাবুর ওই টুইট আমার বৃদ্ধা মা’র আতঙ্কে মলম হিসেবে কাজ করেছে’। এঁর পরেই তাঁকে বিজেপির হয়ে প্রচারে যাবেন কি না জিজ্ঞেস করা হয়। উত্তরে বৈশাখী বলেন, ‘আমি সিপিএমের হয়েও প্রচারে যেতে পারি। রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিচ্ছু নেই’। গত সপ্তাহে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা। একটি বৈঠকে সঙ্ঘের প্রতিনিধিও ছিলেন। বিজেপি, সঙ্ঘ বা শোভন চট্টোপাধ্যায়,বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই ওই বৈঠকগুলি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করছিলেন না। কিন্তু বুধবার বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘ওঁরা যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন আমার সঙ্গে, সে কথা ঠিক। সে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেই কথা হয়েছে, এও ঠিক। ২ মার্চ প্রথম বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল আমার। তবে শোভনবাবুর সঙ্গে কথা হয়েছিল কিনা বলতে পারব না। সেটা উনিই বলতে পারবেন। কিন্তু কাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি বা কথা বলেছি, সে কথা নীতিগত কারণেই বলা উচিত হবে না’।বৈশাখীর সাফ জবাব, ’এখনই কোনও দলে যোগ দিচ্ছি না। আপাতত সিদ্ধান্ত এটুকুই’। তিনি বলেন, ‘ডায়মন্ড হারবার বা যাদবপুর কোনো কেন্দ্র থেকেই দাঁড়াচ্ছি না আমি’। বৈশাখী বলেন, ‘যাঁদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাঁদের আমি বার বারই বলেছি, যে দলে আমার কোনও অবদান এখনও নেই, সেই দলে আচমকা যোগ দিয়ে একটা লোকসভা আসনের টিকিট নিয়ে নেওয়া আমার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নয়। অতএব প্রস্তাব যাই থাক, নিজের সেই নীতি থেকে সরে আসা সম্ভব নয়’। মিলি আল আমিন কলেজের শিক্ষিকার বক্তব্য, ‘এখনও পর্যন্ত কোনও অবদান নেই, তাই বিজেপির হয়ে লোকসভা নির্বাচনে লড়তে চাই না। তার মানে তো এই নয় যে, এখানেই সব শেষ হয়ে গেল। একটা লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে গোটা বিষয়টাকে দেখছেন কেন ? এর পরেও তো অনেক বিধানসভা বা পুরসভা বা অন্য কোনও সভার নির্বাচন আসবে। তার আগে যে বিজেপিতে আমার কোনও অবদান তৈরি হবে না, এমন কথাও তো বলছি না। শুধু বলছি যে, আপাতত কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না’।’লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপির হয়ে তাঁকে ময়দানে নেমে পড়তে দেখা না গেলেও, ভোটের পরে যে তেমন কিছু হতে পারে, সে ইঙ্গিত খুব স্পষ্ট। সে ক্ষেত্রে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও নিশ্চয়ই দেখা যেতে পারে বিজেপির মঞ্চে ? বৈশাখীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাব, ‘শোভন চট্টোপাধ্যায় এখনও তৃণমূলের বিধায়ক, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত কাউন্সিলর। তিনি একবারও বলেননি যে, তিনি তৃণমূলে আর নেই’। শোভন চট্টোপাধ্যায় যে সে রকম কোনও কথা বলেননি, তা ঠিক। কিন্তু বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তো একাধিক বার বলেছেন, ‘যে সিদ্ধান্তই নিই, দু’জনে একসঙ্গে নেব । কোথাও গেলে একসঙ্গেই যাব’। বৈশাখীর জবাব, ‘হ্যাঁ আমি বলেছি, এখনও তাই বলছি’। তা হলে আপনার এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দলবদলের সম্ভাবনা তো জিইয়েই রইল ? বৈশাখীর সহাস্য প্রশ্ন, ‘সে রকম কোনও সিদ্ধান্ত নিলে আপনাদের না জানিয়ে নেব, এমনটা ভাবছেন কেন’? তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করেছেন বিষয়টিতে । লোকসভা নির্বাচনে শোভনকে তৃণমূলের জন্য কাজে লাগানো যাক বা না যাক, শোভন চট্টোপাধ্যায় যাতে বিজেপিতে না যান, তা নিশ্চিত করতে শীর্ষ নেতৃত্বই সক্রিয় হয়েছিলেন । তার পরেই শোভন থমকে দাঁড়িয়েছেন । লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের অস্বস্তি আর বাড়াননি । তৃণমূলে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের শিকড় যতটা গভীর, বৈশাখীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের তো ততটা নয় । আজ বৈশাখীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘রাজনৈতিক বিষয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে আমি পথপ্রদর্শক মনে করি । তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শে আমি অন্ধের মতো বিশ্বাস রাখতে পারি’। অর্থাৎ এই মুহূর্তে বিজেপিতে নাম না লেখানোর ‘যৌথ সিদ্ধান্ত’ যে শোভনের কথাতেই তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ খুব একটা নেই । বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে মাত্র, বাতিল করা হয়নি । হিন্দুস্থান সমাচার / হীরক/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image